মার্চ ২৩, ২০১৭

কর্ণফুলী নদী সংরক্ষণে ২১ শ’ স্থাপনা উচ্ছেদ করতে রায়

ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম |

হাইকোর্টচট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীর উভয়দিকে সরকারি বে-সরকারি দুই হাজার ১৮১টি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট।
রায়ের কপি বের হওয়ার সাত দিনের মধ্যে দুটি জাতীয় দৈনিকে অপসারণ-সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করার করতে বলা হয়েছে। আগামী ৯০ দিনের মধ্যে এসকল স্থাপনা উচ্ছেদের জন্য বলেছেন আদালত।

আদালত তার রায়ে বলেছে, নৌ-বাহিনীর বা জেটিসহ সরকারি ছয়টি স্থাপনা উচ্ছেদ (অপসারণ) করার দরকার নেই। তবে পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে অনুমতি নিতে এবং অধিদপ্তর কর্তৃপক্ষ এই ছয় প্রতিষ্ঠানের ছাড়পত্র-সংক্রান্ত বিষয় সু-দৃষ্টিতে দেখবে।
রায়ে আরো বলা হয়, দেশের নদীর তীরে কোনো ধরণের অবৈধ স্থাপনা করা যাবে না। একইসঙ্গে কর্নফুলী নদীর তীরে সরকারী বে-সরকারী সকল স্থাপনা সরাতে হবে। একইসঙ্গে আগামী ৯০ দিনের মধ্যে স্থাপনা না সরালে চট্টগ্রামের সিটির সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এ ব্যাপারে পদক্ষেপ গ্রহন করতে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

আদালতের এ-সংক্রান্ত রুলের চূড়ান্ত শুনানি শেষে মঙ্গলবার হাইকোর্টের বিচারপতি মো. রেজাউল হাসান ও বিচারপতি কাশেফা হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

আজ আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ। অপরদিকে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল জহিরুল হক।
এর আগে গত সপ্তাহে এ বিষয়ে জারি করা রুলের চূড়ান্ত শুনানি শেষে রায়ের জন্য আজকের দিন ধার‌্য করেছিলেন আদালত।
কর্ণফুলী নদী সংরক্ষণের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট আবেদন দায়ের করেন হিউম্যান রাইটস এন্ড পীস ফর বাংলাদেশের পক্ষে মনজিল মোরসেদ। ওই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ২০১০ সালের ১৮ জুলাই হাইকোর্ট কর্ণফুলী নদী সংরক্ষণ এবং নদী দখল করে গড়ে উঠা স্থাপনা অপসারনের কেন নির্দেশ দেয়া হবে না এই মর্মে রুল জারি করে।

এছাড়া নদীর তীর দখল করে গড়ে উঠা অবৈধ স্থাপনার তালিকা আদালতে দাখিল করতে জেলা প্রশাসনকে নির্দেশ দেয়া হয়। হাইকোর্টের নির্দেশের পর জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটি কর্ণফুলী নদীর নাব্যতা ও স্বাভাবিক গতিপ্রবাহ অব্যাহত রাখা এবং দূষণ রোধকল্পে নদীর ডান তীরবর্তী (হরপ্রান্ত) এলাকা সীমানা তৈরি করা হয়। এছাড়া কমিটি আর.এস জরিপের ম্যাপ অনুযায়ী কর্ণফুলী নদীর অবস্থান, নদীর অংশে ভরাটকৃত জমি ও দখলদারদের অবস্থান পৃথক রং দিয়ে চিহ্নিত করে। গত বছরের ৮ নভেম্বর জেলা প্রশাসনের ওই তালিকা হাইকোর্টে দাখিল করা হয়।