নীলফামারী -১ আসন থেকে ২০ দলীয় জোটের মনোনয়ন প্রত্যাশী মাওলানা আফেন্দী

নীলফামারী -১ আসন থেকে ২০ দলীয় জোটের মনোনয়ন প্রত্যাশী মাওলানা আফেন্দী

ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম | জামিল আহমদ


মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী, পুরান ঢাকায় অবস্থিত জামেয়া ইসলামিয়া ইসলামবাগ মাদরাসার মহাপরিচালক ও শায়খুল হাদিস। এছাড়াও তিনি ইসলামবাগ বড় মসজিদের খতীবের দায়িত্বও পালন করেছেন।

ছাত্র জীবন থেকেই রাজনীতির সাথে যুক্ত মাওলানা আফেন্দী। ছিলেন জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলদেশ-এর ছাত্র সংগঠন ছাত্র জমিয়ত বাংলাদেশ-এর কেন্দ্রীয় দায়িত্বশীল। পরবর্তীতে পুরদমে জড়িয়ে পড়েন জমিয়তের রাজনীতিতে। জানা যায় মাওলানা আফেন্দী’র দাদা এহসানুল হক আফেন্দী ছিলেন জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের গুরুত্বপূর্ণ নেতা এবং তিনি আজাদী আন্দোলনের জন্য জেলও গিয়েছিলেন। সে হিসেবে পারিবারিক ঐতিহ্যগত ভাবেই জমিয়তের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত মাওলানা আফেন্দী। বর্তমানে তিনি দলটির কেন্দ্রীয় যুগ্ম-মহাসচিব ও ঢাকা মহানগর সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন।

প্রবীণ রাজনীতিবিদের সংগঠন জমিয়তে যে কয়জন তুলনামূলক নবীন এবং আশাবাদী কেন্দ্রীয় নেতা রয়েছেন, তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন মাওলানা আফেন্দী।

নাকের ডগায় আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন। নির্বাচন নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে নানা রকম হিসাব-কিতাব চলছে। বিশেষ করে জোটভুক্ত দলগুলোর হিসেব-নিকেশ বরাবরের মত জটিল থাকছে এবারও। নির্বাচনমুখী জমিয়তেও নির্বাচন প্রস্তুতি চলছে সমান তালে। ইতোমধ্যে প্রার্থী হতে ইচ্ছুকদের সাক্ষাৎকার গ্রহণ করেছে দলটির কেন্দ্রীয় নেতারা।

জমিয়ত যেহেতু ২০ দলীয় জোটের সাথে যুক্ত রয়েছে, তাই তাদের নির্বাচনী চিন্তাটাও জোট কেন্দ্রিক। জানা গেছে জোটের কাছে বেশ কিছু আসন চাইবে জমিয়ত। তবে সব আসনের বিষয় জমিয়ত নেতারাও আশাবাদী নয়। সব কিছুর পরেও কিছু আসন এমন রয়েছে, যেগুলোর বিষয় ‘সিরিয়াস’ হবে দলটি।

এমনই একটি আসন হলো, নীলফামারী -১ (ডোমার-ডিমলা)। এ আসন থেকেই নির্বাচন করতে চান মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী।

ডোমার ও ডিমলা দুই উপজেলা নিয়ে গঠিত নীলফামারী -১ আসনটিতে ভোটারের সংখ্যা ৩ লাখ ৭২ হাজার ৪৩৯ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৮৬ হাজার ৯৯১ জন এবং নারী ভোটার রয়েছেন ১ লাখ ৮৫ হাজার ৪৪৮ জন। দশম জাতীয় সংসদে এই আসনে ভোটার ছিল ৩ লাখ ৩২ হাজার ৮৬৯ জন। এছাড়াও আসনটিতে রয়েছে ২০টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভা।



ইনসাফের সাথে আলাপকালে মাওলানা আফেন্দী জানান, জোটের পক্ষ থেকে মনোনয়ন পাওয়ার বিষয় তিনি বেশ আশাবাদী। তিনি জানান, জমিয়তের পক্ষ থেকে জোটের কাছে যেসকল আসনগুলো চাওয়া হয়েছে এর মধ্যে তাঁর আসন (নীলফামারী-১) শুরুর দিকটায় রয়েছে।

জোট থেকে মনোনয়ন পাওয়া নিয়ে আশাবাদী হওয়ার কারণ বর্ণনা করে মাওলানা আফেন্দী বলেন, ‘বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ভাগ্নে শাহরিন ইসলাম এ আসনে প্রার্থী ছিলেন। কিন্তু তাঁর বিরুদ্ধে বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে দুর্নীতির মামলা হয়। বর্তমানে তিনি পলাতক। তাঁর অনুপস্থিতিতে অনেকটা প্রার্থী-সংকটে পড়েছে বিএনপি। এছাড়াও আমি ২০০১ সাল থেকে নির্বাচনী মাঠে আছি। ২০০৮ সালের নিবার্চনে আমি মনোনয়নও সংগ্রহ করেছিলাম কিন্তু অনিবার্য কারণবশত তা বাতিল হয়। এরপর থেকেই পুরোদমে মাঠে ময়দানে কাজ করে যাচ্ছি। তাই ২০ দলীয় জোটের মনোনয়ন পাওয়ার ব্যাপারে আমি শতভাগ আশাবাদী।’

নির্বাচনী প্রস্তুতি বিষয় জানতে চাইলে মাওলানা আফেন্দী জানান, শুধুমাত্র নির্বাচন কেন্দ্রিক শোডাউন, কর্মীসভাকে প্রাধান্য দিচ্ছেন না তিনি। তাঁর কথায়_ ‘আলহামদুলিল্লাহ। আমার নির্বাচনী প্রস্তুতি যথারীতি ভালভাবেই চলছে। শুধু নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আলাদা শোডাউন, কর্মীসভা করাকে আমি তেমন গুরুত্ব দেই না। তা কারণ হলো ১২ মাসই আমি নির্বাচনী এলাকাবাসীর সাথে সুসর্ম্পক বজায় রেখেই চলছি। তাদের সাথে সবসময় স্ব-শরীরে দেখা করি, সুযোগ না থাকলে ফোনে যোগাযোগ করি। বাড়ীতে গেলেই তাদের সাথে বিভিন্ন রকম বৈঠক পরামর্শ করে থাকি। আর এগুলো তো ২০০১ সাল থেকেই চলে আসছে।’

এ বিষয়ে মাওলানা আফেন্দী আরো বলেন, ‘আমি নিয়মিত এলকার বিভিন্ন সমস্যার সমাধানে এগিয়ে আসি। তাদের প্রয়োজন পুরনের চেষ্টা করি। এসব কাজ আমি আগামীতে করব। নির্বাচন উপলক্ষে প্রত্যেক এলাকায় উঠান বৈঠক, সমাজের সকল স্তরের মানুষের সাথে যোগাযোগ আরও বৃদ্ধি করা হবে।’

জনগণের প্রত্যাশা পূরণের বিষয়টা মাথায় রেখে কাজ করবেন জানিয়ে মাওলানা আফেন্দী বলেন, ‘ইনশাআল্লাহ আমি জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সধা সচেষ্ট থাকব। আর আমি তো অনেক আগে থেকেই জনগণের বিপদ-আপদে পাশে থাকার চেষ্টা করছি। যা থেকে অবশ্যই অনুমান করা যায় আগামীতে জনগণের আশা-আকাঙ্খা পূরণ করতে পারব।

মাওলানা আফেন্দীর কাছে প্রশ্ন ছিল, সাধারণ শিক্ষায় শিক্ষিত প্রার্থীরা থাকতে একজন আলেম প্রার্থীকে কেন গ্রহণ করবে জনগণ? জবাবে মাওলানা আফেন্দী বলেন ‘আলেম-উলামারা হলেন নবীগনের উত্তরাধীকারী। তাই আলেম ও সাধারণ শিক্ষিতদের মধ্যে অনেক পার্থক্য। আর একজন আলেম যখন নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার মধ্যদিয়ে সার্বিকভাবে দেশ ও জাতির সেবা করার সুযোগ পাবে, তখন অন্যান্য লোকদের মতো আমানত ও ওয়াদার খেলাপী কর্মকান্ড ঘটবে না। এতে করে সমাজের অবহেলিত সাধারণ মানুষরা তাদের মৌলিক অধিকার ও কাঙ্খিত সেবা ফিরে পাবে। আজ যদি দেশের এমপি-মন্ত্রী, জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনিক কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে আমানতদারী থাকতো, তাহলে দেশর ব্যাংকগুলো লুট হতো না। পাথর আর কয়লা চুরি হতো না। দেশের টাকা বিদেশে পাচার হতো না। আলেমরা ক্ষমতা পেলে দেশে লুটপাট, আত্মাসাত, খুন-গুমসহ সবরকম অন্যায় অবিচার বন্ধ হবে, এবং দেশে শান্তি ফিরে আসবে।’

নির্বাচন করে নির্বাচিত হয়ে জাতীয় সংসদে যাওয়ার সুযোগ পেলে নিজ এলাকার জন্য কি কি কাজ করতেছেন চান, এমন প্রশ্নের জবাবে মাওলানা আফেন্দী বলেন, ‘আমাদের এলাকার একটা গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা হলো দরিদ্রতা-বেকারত্ব, আর আমি দরিদ্রতা ও বেকারত্ব দূরিকরণে কর্মসংস্থান তৈরীসহ যে সকল কাজ করলে এলকার দরিদ্রতা-বেকারত্ব দূর হবে তার কার্যকরী পদক্ষেপ ভূমিকার রাখার চেষ্টা করব।

এছাড়াও শিক্ষা নিয়ে কাজ করার ইচ্ছের কথা জানিয়ে মাওলানা আফেন্দী বলেন, শিক্ষাক্ষেত্র নিয়ে কাজ করার ইচ্ছে আছে আমার। কারণ শিক্ষাই জাতির মেরুদণ্ড। বিশেষ করে সমাজের সকলস্তরের মানুষকে দ্বীনি শিক্ষায় শিক্ষিত করতে প্রয়োজনী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠাসহ এর সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম হাতে নিয়ে তা বাস্তবায়ন করার চেষ্টা করব। আর মানুষের বিপদ-আপদে তাদের পাশে থাকা এবং মানুষের ইহকালীন কল্যাণ লাভ ও পরকালীন মুক্তি অর্জনের লক্ষ্যে যেসব কাজ করার প্রয়োজন সেগুলো করার ইচ্ছা আছে।