মার্চ ২৬, ২০১৭

শাইখুল ইসলাম আল্লামা শাহ আহমদ শফী’র সর্বশেষ শারীরিক অবস্থা

ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম |

হেফাজত আমীর শাইখুল ইসলাম আল্লামা শাহ আহমদ শফী’র প্রেস সেক্রেটারি ও মাসিক মুঈনুল ইসলাম-এর নির্বাহী সম্পাদক মাওলানা মুনির আহমদের ফেইসবুক পাতা থেকে-


“দৃষ্টিসীমায় বার বার ভেসে আসছিল হযরতের মৃদু হাসিমাখা শিশুর মতো নিষ্পাপ চেহারার এক ঝলক চাহনি”


93_n

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যতম বৃহৎ ইসলামী শিক্ষাকেন্দ্র জামিয়া আহলিয়া দারুল উলূম মুঈনুল ইসলাম হাটহাজারী’র সর্বজন শ্রদ্ধেয় মহাপরিচালক, বেফাক সভাপতি ও হেফাজত আমীর, দেশের শীর্ষ আলেম, আলেম-সমাজ ও তৌহিদী জনতার ঐক্যের প্রতীক, শায়খুল ইসলাম আল্লামা শাহ আহমদ শফী (দা.বা.) গত তিন দিন ধরে অসুস্থ অবস্থায় চট্টগ্রাম মহানগরির বিশেষায়িত প্রাইভেট ক্লিনিক সিএসসিআর এর (এসডিইউ) হাই ডিপেনডেন্সি ইউনিটে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাধীন আছেন।

গতকাল বিকেলে আমরা জামিয়ার শিক্ষক ও কর্মকর্তাবৃন্দের একটি দল হযরতকে এক নজর দেখার ব্যাকুলতা নিয়ে হাসপাতালে যাই। চিকিৎসকদের কঠোর বারণ থাকায় এর আগে শত ইচ্ছে থাকা সত্ত্বেও যাওয়ার সুযোগ পাইনি আমরা। জামিয়ার মুহাদ্দিস আল্লামা মুহাম্মদ ওমর মেখলী’র নেতৃত্বে টিমে আমিসহ আরো ছিলেন, মাওলানা নূরুল ইসলাম, মাওলানা মুফতী রাশেদ, মাওলানা এনামুল হক, মাওলানা মাহবুবুর রশীদসহ জামিয়ার কয়েকজন শিক্ষার্থী।

বিকেল ৩টা থেকেই ৭তলার কেবিনে বসে সুযোগের অপেক্ষায় ছিলাম, কখন হযরতকে এক নজর দেখে মানসিক প্রশান্তিবোধ করব। হযরতের জৈষ্ঠ্যপুত্র মাওলানা মুহাম্মদ ইউসুফ, কনিষ্ঠপুত্র ও জামিয়ার সিনিয়র শিক্ষক জনাব মাওলানা মুহাম্মদ আনাস মাদানী, হযরতের জামাতা মাওলানা মুহাম্মদ ইসহাকসহ ও হযরতের পিএস জনাব মাওলানা শফিউল আলম সহ আরো কয়েকজন হযরতের চিকিৎসার সার্বক্ষণিক তদারকি ও সেবার উদ্দেশ্যে শুরু থেকেই হাসপাতালে অবস্থান করছিলেন। এর মধ্যে কয়েক দফা ৫তলার (এসডিইউ) হাই ডিপেনডেন্সি ইউনিটের দরজা পর্যন্ত ঘুরাঘুরি করেও আমাদেরকে ফিরে আসতে হয়েছে ডাক্তারের অনুমতি না মেলায়। জনাব মাওলানা আনাস মাদানী ও মাওলানা শফিউল আলম কেবিনে দর্শনার্থীদের প্রবেশের বিষয়ে চিকিৎসকের কঠোর নিষেধাজ্ঞার কথা জানিয়ে কোনভাবে সুযোগ করা যায় কিনা, সেই চেষ্টা করছেন বলে আমাদেরকে আশ্বস্ত করার চেষ্টা করেন। কেবিনে আমাদের সাবইকে কফি ও হালকা নাস্তা পরিবেশন করা হয়। এর মধ্যেই কাঙ্খিত সুযোগটি আসে বিকেল 04:10 মিনিটে; যদিও সময় ছিল মাত্র ২ মিনিটের।

চিকিৎসককে অনেকটা ফাঁকি দেওয়ার মতো করেই মাত্র ২ মিনিটের অল্প সময় হযরতের সান্নিধ্যে কাটানোর সুযোগ পেয়েছি। সেই আলোকোজ্জ্বল চেহারা, মৃদু হাসিমাখা নিষ্পাপ শিশুর মতো চেহারায় নজর পড়তেই সারা শরীরে এক অন্য রকম প্রশান্তির পরশ বয়ে যায়। হাত বাড়িয়ে দিলেন হযরত আমাদের দিকে। প্রথমে মুসাফাহা করলেন আল্লামা মুহাম্মদ ওমর মেখলী (দা.বা.)। তারপর আমি, এরপর মাওলানা এনামুল হক, মাওলানা রাশেদসহ অন্যরা। একে একে সকলকে মৃদুস্বরে জিজ্ঞেস করলেন হযরত, “কেমন আছো? তোমরা ভাল আছ তো? আমার জন্যে দোয়া করো”। তারপর জানতে চাইলেন, মাদ্রাসা কেমন আছে, অন্যান্য উস্তাদ ও ছাত্ররা কেমন আছে…। এর মধ্যে আমি হযরতকে জানালাম, “হুজুরের জন্যে সারাদেশের আলেম সমাজ ও তৌহিদী জনতা দোয়া করছেন, দেশে-বিদেশে বিভিন্ন জায়গায় খতম ও দোয়ার আয়োজন হয়েছে। হুজুরের সুস্থতা নিয়ে সকলেই উদ্বিগ্ন”। হযরত কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বললেন, আমিও সকলের জন্যে এবং দেশের ও মুসলিম জাতির শান্তির জন্যে দোয়া করছি। এর মধ্যেই হযরতের চোখে ঘুম ঘুম ভাব; বার বার চোখ বন্ধ হয়ে আসছিল….। হয়তো ঔষধের কারণে। আমাদের অবস্থানের কারণে হুজুরের ও অন্যান্য রোগীদের ক্ষতি হচ্ছিল, এ কারণে ইউনিটের দায়িত্বশীলগণ বিরক্ত হচ্ছিলেন, তাই কয়েক পলক তাকিয়ে থেকে বেরিয়ে আসতে হয়েছে।
ইউনিট থেকে বের হয়ে হাসপাতালে হযরতের সেবায় অবস্থান করা মাওলানা আনাস মাদানী ও মাওলানা শফিউল আলমসহ অন্যদের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে জামিয়ার উদ্দেশ্যে আমাদের টিম রওয়ানা হয়….। সারা পথেই দৃষ্টিসীমায় বার বার ভেসে আসছিল হযরতের মৃদু হাসিমাখা শিশুর মতো নিষ্পাপ চেহারার এক ঝলক চাহনি। হৃদয়ের গভীর থেকে বার বার অস্ফূট উচ্চারিত হচ্ছিল, “হে পরম করুণাময় প্রভু! হযরতের ছায়া থেকে জামিয়াকে এবং আমাদেরকে বঞ্চিত করো না, এতীম করো না। হযরতকে দীর্ঘ হায়াতে তাইয়্যেবা দান করো….”। মাত্র ৩ দিনের অনুপস্থিতিতেও পুরো জামিয়া যেন এতীমের মতো হাহাকার করছে……।

সর্বশেষ আপডেট খবরঃ গতকালের চেয়ে হযরত আজ আরো বেশী সুস্থবোধ করছেন। গতকাল সন্ধ্যাই হযরতকে (এসডিইউ) হাই ডিপেনডেন্সি ইউনিট থেকে ৭তলার সাধারণ কেবিনে আনা হয়েছে। হযরত আজ স্বাভাবিকভাবেই কথা বলছেন। আশা করা যাচ্ছে, আগামী কালের মধ্যেই হযরত তাঁর প্রিয় জামিয়া ক্যাম্পাসে ফিরে আসতে পারবেন।

নোটঃ হযরতের উদ্বেগাকূল ভক্তদের মানসিক প্রশান্তির জন্যেই সেলফোনের ক্লিকে গতকালের হযরতের স্মৃতিমাখা কয়েকটা মুহূর্ত। (সেলফোনে ক্লিক করতে হয়েছিল হযরতের নজরে পড়ে যাওয়ার ভয়, শংকা ও ঝুঁকি নিয়েই)

munir (1)

munir (2)

munir (3)