‘সাইক্লিং সুস্বাস্থ্যের জন্য, সবুজের জন্য’

ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম | মারজান হুসাইন চৌধুরী


সিলেট সাইক্লিং কমিউনিটির (এসসিসি) একটি রাইডের দৃশ্য। ছবি : ইমতিয়াজ চৌধুরী।

সুস্বাস্থ্যের জন্য সাইক্লিং। এক ঘণ্টা সাইকেল চালালে প্রায় ৫০০ ক্যালরি শক্তি ক্ষয় হয়। হৃৎপিণ্ড সুস্থ-সবল রাখতে এবং হৃদরোগ থেকে মুক্ত থাকতে দারুণ উপকারী সাইকেল চালানো। সাইকেল চালালে শরীরের পেশি ও হাড়ের জোড়ার ব্যায়াম হয়। এছাড়া, সাইকেল চালানোর অভ্যাস মানসিক ভাবে সুস্থ থাকতে সাহায্য করে। আর এসব কারনেই সাইক্লিস্টরা সুস্বাস্থ্যের অধিকারী হন।

সাইক্লিং শুধু সুস্বাস্থ্যের জন্য নয়, এটি পরিবেশ বান্ধবও বটে। উন্নত দেশগুলোতে সাইক্লিংয়ের প্রতি মানুষের আগ্রহ বেশি। সেখানে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে সাইকেল চালানোর প্রতি মানুষকে উৎসাহ দেয়া হয়।

বাংলাদেশ তৃতীয় বিশ্বের দেশ হিসেবে এদিক থেকে অনেকটা পিছিয়ে আছে। মোটরযানের কারণে এখানে পরিবেশ দূষণের মাত্রা দিন দিন বাড়ছেই।

সাইকেল চালানোর ক্ষেত্রে আমাদের দেশে অনেক প্রতিবন্ধকতাও আছে। বিপুল জনসংখ্যার এই দেশে রাস্তাঘাটও অনেক সরু।

এতোকিছুর পরও আশার কথা হচ্ছে, দেশে দিন দিন সাইক্লিস্টদের সংখ্যা বাড়ছে। বিশেষ করে পর্যটন নগরী সিলেটে সাইকেল চালানোর প্রতি মানুষের ঝোঁক বাড়ছে।

সিলেট সাইক্লিং কমিউনিটি (এসসিসি) নামে সাইক্লিস্টদের একটা গ্রুপও রয়েছে এখানে। এই সংগঠনের ফেসবুক গ্রুপের সদস্য সংখ্যা ৩০ হাজার ছাড়িয়েছে। বাস্তবে এর সংখ্যা আরও বেশি বলে জানাগেছে।

এসসিসির অন্যতম পরিচালক আরিফ আখতারুজ্জামান জানান, সাইক্লিংয়ের প্রতি মানুষের আগ্রহ যতটুকু তাঁরা ধারণা করেছিলেন তার চেয়েও বেশি দেখা যাচ্ছে।

তিনি বলেন, “ইউরোপে সাইক্লিংয়ের ওপর অনেক গবেষণা হয়েছে। এসবের ফলাফলে দেখা গেছে সুস্বাস্থ্যের জন্য এবং পরিবেশের জন্য সাইক্লিং বেশ উপকারি।”

এসসিসির অন্যতম পরিচালক আরিফ আখতারুজ্জামান। ছবি : ইমতিয়াজ চৌধুরী।

“আমাদের দেশে খেলার মাঠ তেমন একটা নেই। জিম সেন্টার ছাড়া ব্যায়ামের জন্য তেমন উপযুক্ত যায়গা নেই। এজন্য চিকিৎসকদের পরামর্শও হল সাইক্লিং করা।” যোগ করেন আরিফ আখতারুজ্জামান।

এসময় নেদারল্যান্ডের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, “সেদেশের মন্ত্রীরাও সাইকেল চালিয়ে গিয়ে অফিস করেন। এমনকি দেশের প্রতিটি রাস্তার সাথে আলাদা ‘সাইকেল লেন’ আছে।”

দীর্ঘদিন জার্মানিতে ছিলেন এই অভিজ্ঞ সাইক্লিস্ট। সেখানের মানুষ ও পরিবেশের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আমাদের দেশে যেখানে ঘণ্টায় ৬ কি.মি বেগে গাড়ি চলে সেখানে আমরা হাঁটতে পারি ৫ কি.মি গতিতে। যানবাহনের সংখ্যা এখানে বেড়ে গেছে। মানুষের মধ্যে এরকম একটা বিষয় কাজ করে যে, টাকা-পয়সা হলেই গাড়ি কিনতে হবে।”

প্রসঙ্গত, গতবছরের ডিসেম্বরে এসসিসির বিজয় দিবসের র‍্যালিতে যোগ দিয়ে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী সাইকেল লেন করার আশ্বাস দিয়েছিলেন। এরজন্য এসসিসিকে পরিকল্পনা তৈরি করার কথা বলেছিলেন মেয়র আরিফ।

সাইকেল লেন করা কেন সম্ভব হচ্ছে না, জানতে চাইলে আরিফ আখতারুজ্জামান বলেন, “জনসংখ্যা অনেক বেশি, রাস্তঘাট অনেক সরু এটা ঠিক। কিন্তু কিছু রাস্তা আছে যেগুলো চার লেন করার উপযোগী।”

এসসিসির অন্যতম পরিচালক আরিফ আখতারুজ্জামান। ছবি : ইমতিয়াজ চৌধুরী।

“ফুটপাত থেকে নিয়ে রাস্তার অর্ধেক পর্যন্ত দখল করে রেখেছে কিছু অসাধু মানুষ। এর পেছনে রাজনৈতিক ব্যক্তবর্গ বা প্রশাসনের কারো হাত থাকতে পারে। যদিও মেয়র মহোদয় ও পুলিশ প্রশাসন ফুটপাত দখলমুক্ত করা এবং অবৈধ গাড়ি পারকিং উচ্ছেদ করার চেষ্টা করছেন।”

এদিকে, সাইক্লিং ছাড়াও এসসিসি আরও অনেক সামাজিক কার্যক্রম চালিয়ে থাকে। যেমন, শহর পরিষ্কার রাখার জন্য মানুষকে সচেতন করা, রক্তদান কর্মসূচী, ট্রাফিক আইন মেনে চলার জন্য মানুষকে উৎসাহিত করা ইত্যাদি।

‘সাইক্লিং সিটি’ হিসেবে পরিচিত সিলেটে সাইকেল বিক্রির পরিমাণও বেড়েছে। যার ফলে এখানে বেশ কিছু সাইকেল শো-রুম গড়ে উঠেছে। নগরীর কুমারপাড়া, জিন্দাবাজার এবং বারুথখানা পয়েন্টে এসব শো-রুম দেখা যায়।

এসসিসির অন্যতম পরিচালক সৈয়দ সোহাগ। ছবি : ইমতিয়াজ চৌধুরী।

এসসিসির আরেকজন পরিচালক সৈয়দ সোহাগ জানান এই কমিউনিটির শুরুর দিকের কথা।

তিনি বলেন, “২০১৩ সালে মাত্র কয়েকজনকে নিয়ে যাত্রা শুরু করেছিল ‘সাইক্লোমেনিয়া’ নামে সাইকেল প্রেমীদের একটি সংগঠন। এরপর এটিকে বিস্তৃত করার লক্ষ্যে ২০১৪ সালের অক্টোবরে নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় ‘সিলেট সাইক্লিং কমিউনিটি’।”

“সব বয়স ও শ্রেণী-পেশার মানুষ বিশেষ করে তরুণ-তরুণীদের একটা বড় অংশ প্রতিদিন যোগ দিচ্ছে আমাদের সাথে।” যোগ করেন সৈয়দ সোহাগ।

এসসিসির অন্যতম পরিচালক সৈয়দ সোহাগ। ছবি : ইমতিয়াজ চৌধুরী।

দেশের রাস্তা সাইকেল চালানোর জন্য কতটুকু উপযোগী বলে মনে করেন আপনি?

জবাবে তিনি বলেন, “রাস্তাঘাটের যে বেহাল দশা এতে সাইকেল চালানো কষ্টকর। তাই জনপ্রতিনিধিদের উচিৎ এদিকে নজর দেয়া।”

এসসিসির পরিচালক- আরিফ আখতারুজ্জামান, অরাকাতুল জান্নাত ও সৈয়দ সোহাগ (ডান থেকে)। ছবি : ইমতিয়াজ চৌধুরী।

আরিফ আখতারুজ্জামান ও সৈয়দ সোহাগ ছাড়া এসসিসির আরও তিনজন পরিচালক হলেন- জালাল আহমেদ, অরাকাতুল জান্নাত ও শফিকুর রহমান।

সিলেট সাইক্লিং কমিউনিটির (এসসিসি) পাঁচ বছর। ছবি : ইমতিয়াজ চৌধুরী।

গত ২৬ অক্টোবর (শুক্রবার) সিলেট সাইক্লিং কমিউনিটির (এসসিসি) পাঁচ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে এক র‍্যালি ও অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন সংশ্লিষ্টরা। এতে টিমের এডমিন, মোডারেটরসহ অনেক সদস্য উপস্থিত ছিলেন।


Notice: Undefined index: email in /home/insaf24cp/public_html/wp-content/plugins/simple-social-share/simple-social-share.php on line 74