পরিবহন ধর্মঘট নিয়ে কি বলছেন ইসলামী ধারার শ্রমিক নেতারা?

ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম | জামিল আহমদ



সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮-এর কয়েকটি ধারা সংশোধনসহ ৮ দফা দাবি আদায়ে সারাদেশে ধর্মঘট করছেন পরিবহন শ্রমিকেরা। আজ রবিবার থেকে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের নেতারা এ ধর্মঘট পালনের ডাক দেন। সকাল ৬টা থেকে শুরু হওয়া ধর্মঘট চলবে আগামী ৪৮ ঘণ্টা।

পরিবহন শ্রমিকদের ধর্মঘট চলাকালীন সময়ে অনেক যাত্রী ও চালকের মুখে কালো রঙ, পোড়া মবিল ও আলকাতরা মেখে দিচ্ছেন শ্রমিকরা। ফলে অফিসগামী চাকরিজীবী ও শিক্ষার্থীদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। এমনকি তাদের নৈরাজ্য থেকে রোগী বহনকারী অ্যাম্বুলেন্সও নিস্তার পাচ্ছে না।

আজকের পরিবহন শ্রমিকদের ধর্মঘট বিষয়ে জানতে চাইলে ইসলামী শ্রমিক আন্দোলন বাংলাদেশ-এর সভাপতি অধ্যাপক আশরাফ আলী আকন বলেন, পরিবহন শ্রমিকদের ধর্মঘটকে আমি সমর্থন করি। কেননা তারাও এদেশের নাগরিক, তাদের তো কথা বলার অধিকার আছে। তারা তো সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮ পাস হওয়ার আগে থেকেই এর প্রতিবাদ জানিয়ে আসছিলো। তাদের সমস্যা সমাধানে সরকারে উচিত ছিলো তাদের সাথে আলোচনা করে বিষয়টির সমাধান করা। সমাধান না করায়ই তো তারা এখন তাদের দাবি অাদায়ে মাঠে নেমেছে।

ড্রাইভিং লাইসেন্সে শিক্ষাগত যোগ্যতার বিষয়ে তিনি বলেন আমি মনে করি পুরাতন অভিজ্ঞ চালকদের ক্ষেত্রে ৫ম শ্রেণী যথেষ্ট। কেননা তাদের ১০/১২ বছর যাবত গাড়ী চালানোর অভিজ্ঞতা রয়েছে। যার কারণে তাদের শিক্ষাগত যোগ্যতা ৮ম শ্রেণী হওয়ার প্রয়োজন নেই। তবে নতুন যারা চালক হবে তাদের জন্য অবশ্যই ৮ম শ্রেণী পাস করা বাধ্যতামূল করা উচিত। যদি সবার জন্য ৮ম শ্রেণী পাস হওয়া বাধ্যতামূলক করা হয় তাহলে দেশ চালক সংকটে পড়বে।

শ্রমিক মজলিস-এর সভাপতি হাজ্বী নূর হোসাইন বলেন, আজকের পরিবহন শ্রমিকদের ধর্মঘটকে আমি সমর্থন করি। তবে তাদের কিছু দাবির সাথে আমি ভিন্ন মত পোষণ করি। তা হলো-  ড্রাইভিং লাইসেন্স করার ক্ষ্রেত্রে শিক্ষাগত যোগ্যতা পঞ্চম শ্রেণি নয় ৮ম শ্রেণী করাই শ্রেয়। কেননা আজকের চালকরা ট্রাফিক আইনে কিছুই জানেন না, যার কারণে প্রতিনিয়িত অধিক পরিমাণে দুর্ঘটনা ঘটছে।

সড়ক দুর্ঘটনায় মামলা জামিনযোগ্য করা ও শ্রমিকদের অর্থদণ্ড ৫ লাখ টাকা করা বিষয়ে তিনি বলেন, মামলা জামিন যোগ্য করা উচিত কেননা একটি দুর্ঘটনা তো কেউ ইচ্ছা করে ঘটায় না। আর দুর্ঘটনা অনুযায়ী দণ্ড নির্ধারণ করা উচিত। অর্থদণ্ডের ব্যাপারে কথা হলো তারা শ্রমিক মানুষ তাদের কাছে এতো পরিমাণ টাকা কোন সময়ই থাকেনা বিধায় এগুলো আদায় করা তাদের জন্য দুরহ ও কষ্ঠকর হবে। আমি মনে করি তাদের সাধ্যের ভিতরে নিয়ে আসা হোক।

আজকের ধর্মঘটে দেখা গেছে ব্যক্তিগত গাড়ীর চালক ও যাত্রীদের গায়ে-মুখে পোড়া মবিল লাগিয়ে দিচ্ছে ধর্মঘট পালনকারী শ্রমিকরা। এ বিষয়ে তিনি বলেন, এগুলো অবশ্যই নিন্দনীয় যা কোন সুস্থ বিবেকবান মানুষ দ্বারা করা সম্ভব নয়। আমি এর নিন্দা জানাই। ধর্মঘট যেহেতু তারা সর্বোচ্চ যাত্রী বা চালকদের বুঝিয়ে বলতে পারে । তাদের দাবি গুলো জনসাধারণের কাছে পৌছানো দরকার। কিন্তু শরীরে পোড়া মবিল, গায়ে রং ইত্যাদি দেয়া একেবারেই উচিত হয়নি।

পরিবহন দুর্ঘটনা রোধে কী করণীয়? এ বিষয়ে তিনি বলেন, এসব দুর্ঘটনা থেকে বাঁচতে হলে জনসচেতনতা বাড়ানো প্রয়োজন। প্রশিক্ষক ও যোগ্যতা সম্পন্ন চালকদেরকে ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রদান করা। ট্রাফিক আইনের ব্যাপকহারে প্রচার প্রসার ঘটানো যাতে সমাজের সর্বস্তরের মানুষ ট্রাফিক আইন সম্পর্কে কিছু হলেও জানা থাকে। এর জন্য প্রয়োজনে পাঠ্যপুস্তকে ট্রাফিক আইন সংযোজন করা।


Notice: Undefined index: email in /home/insaf24cp/public_html/wp-content/plugins/simple-social-share/simple-social-share.php on line 74