জানুয়ারি ২৩, ২০১৭

হজ ব্যবস্থাপনা নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ এজেন্সিগুলোর

ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম |

হজহজে গমনেচ্ছুদের ভিসা প্রাপ্তিতে বিলম্ব এবং এখনো পর্যন্ত ১৫টি হজ ফ্লাইট বাতিলের পেছনে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের উচ্চপদস্থ কিছু কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ করছে হজ এজেন্সিগুলো।

তারা বলছে, ইচ্ছাকৃতভাবে বিলম্ব করা হচ্ছে এবং এনিয়ে অর্থ দাবিরো অভিযোগ করছে তারা। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে ধর্ম মন্ত্রণালয় বলছে, তাদের পক্ষ থেকে কোনো বিলম্ব করা হয়নি এবং লিখিত অভিযোগ পেলে তারা সেটি তদন্ত করে দেখবে।

বাংলাদেশের প্রায় ১ লাখ নিবন্ধিত হজযাত্রীর মধ্যে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের হিসেবে এখনো পর্যন্ত গিয়েছেন ৪৫ হাজারের বেশি যাত্রী।

তবে সময়মত ভিসা না হওয়াসহ নানা জটিলতায় এখনো পর্যন্ত বাংলাদেশ বিমানের ১৩টি এবং সৌদিয়া এয়ারলাইন্সের ২টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে।

হজ এজেন্সিগুলোর সংগঠন হাবের সভাপতি ইব্রাহিম বাহার বলছেন, হাইকোর্টের নির্দেশে যে সরকারী ব্যবস্থাপনা থেকে যে ৪,৮০০ যাত্রীকে বেসরকারি এজেন্সিতে ক্রমানুসারে নিবন্ধন করতে বলা হয়েছিল, সেগুলো এখনো ইচ্ছাকৃতভাবে করেনি ধর্ম মন্ত্রণালয়।

ইব্রাহিম বাহার বলেন, এই সিরিয়াল দিতে ৪৮ মিনিট লাগার কথা। কিন্তু ২৪ দিন ধরে ঐটাকে ঘুরানো হচ্ছে।

তার মতে, ফ্লাইট বাতিল হওয়ার ফলে পরবর্তীতে হজযাত্রীদের সৌদি আরবে যাওয়া খুব কঠিন হয়ে দাঁড়াবে। এবং এই গাফিলতির জন্য তিনি সরাসরি অভিযোগ করছেন ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সচিবের বিরুদ্ধে।

এবিষয়ে জানতে চাইলে সচিব মোহাম্মদ আব্দুল জলিল বলেন, ধর্ম মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সকল ফি জমা দেয়া হয়েছে এবং বিলম্ব ঘটানো হয়নি।

মোহাম্মদ আব্দুল জলিল বলেন, রাজকীয় সৌদি সরকার কর্তৃক নিবন্ধনের জন্য ১৬ তারিখ পর্যন্ত সময় ছিল। ১৬ তারিখেই আমরা প্রাপ্ত সকল সিরিয়াল সৌদি আরব প্রেরণ করেছি। আমাদের পক্ষ থেকে কোন বিলম্ব ঘটানো হয় নাই।

তবে হজ এজেন্সিগুলোর দাবি এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে এতটা সময়ের প্রয়োজন হয়না এবং উপরন্তু বাহার দাবি করছেন, অন্যান্য ভিসার ক্ষেত্রেও, বিশেষ করে নারী হজযাত্রীদের সঙ্গী হিসেবে পরিবারের সদস্য পরিবর্তনের ক্ষেত্রে হজ অফিস থেকে অর্থ দাবি করা হচ্ছে।

বাহার বলেন, রাস্তাঘাটে দালালচক্র যেভাবে টাকাটুকা নেয় ট্রাক ওয়ালাদের কাছ থেকে, এটা অনেকটা সেরকম।

হজ অফিসের পরিচালক আবু সালেহ মোস্তফা কামালের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, এরই মধ্যে ১ লাখ হজযাত্রীদের মধ্যে প্রায় ৮০ শতাংশের ভিসা হয়ে গেছে এবং তার বিরুদ্ধে অভিযোগগুলো সত্য নয়।

তবে এর আগের বছরগুলোতেও ধর্ম মন্ত্রণালয়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছিল হজ এজেন্সিগুলো এবং এবারো তারা ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং হজ অফিসের পরিচালকের অপসারণ দাবি করছে।

সচিব জলিল বলেন, লিখিত অভিযোগ পেলে তারা বিষয়টি তদন্ত করে দেখবেন।

জলিল আরো বলেন, আমরা চাচ্ছি হাজীদের সেবা সময়মত সঠিকভাবে সম্পন্ন করা এবং সে ব্যাপারে আমরা সবকিছু করে যাচ্ছি।

সরকারী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ নিয়ে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ কিংবা আইনগত কোনো পদক্ষেপ নেবেন কিনা জানতে চাইলে হজ এজেন্সিগুলোর নেতা বাহার বলেন, তারা চাইছেন হজ যাত্রীরা যাতে সময়মত হজে যেতে পারেন।

সূত্র: বিবিসি বাংলা