মার্চ ২৯, ২০১৭

ভারতে ‘জরুরি অবস্থা’র চেয়েও ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে : মমতা

ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম |

মমতাভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, দেশে ‘জরুরি অবস্থা’র চেয়েও ভয়ঙ্কর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। স্বাধীনতার ৭০ বছরের মধ্যে এমন বিপর্যয় সৃষ্টি হয়নি। এটা মহামারী হিসেবে দেখা দিয়েছে।’

গতকাল (শনিবার) রাজ্য সচিবালয় নবান্নে এক সাংবাদিক সম্মেলনে মমতা বলেন, ‘দেশে ডিক্টেটরশিপ (একনায়কতন্ত্র) চলছে। এখানে কী প্রেসিডেন্সিয়াল সরকার চালু হয়ে গেছে? যদি তা না হয়, তাহলে বিভিন্ন বিষয়ে রাজ্য সরকারের সঙ্গে পরামর্শ করা হবে না কেন? এ জন্যই জম্মু-কাশ্মিরে এভাবে বিপর্যয় হয়েছে। এ জন্যই পাকিস্তান ইস্যুতে এত বিপর্যয় হয়েছে। এজন্যই এনএসজি (নিউক্লিয়ার সাপ্লায়ার্স গ্রুপ) ইস্যুতে টোটাল ডিপ্লোম্যাসি ফেল করেছে।’

মমতা বলেন, ‘কে ভাই, প্রধানমন্ত্রী? পাঁচ বছর আসে, আবার চলে যায়। একবারই মাত্র নির্বাচিত হয়েছেন। তাতেই এত দম্ভ, এত ঔদ্ধত্য, এত অহংকার!’

মমতা তার বক্তব্যে কেন্দ্র-রাজ্য সম্পর্ক, যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামো, রাজ্য সরকারের ওপরে নজরদারি, রাজ্যের অধিকার খর্ব করা ইত্যাদি ইস্যুতে কেন্দ্রীয় সরকারকে কার্যত তুলোধোনা করেন। এমনকী পররাষ্ট্রনীতি নিয়েও কেন্দ্রীয় সরকারের সমালোচনা করতে ছাড়েননি তিনি।

মমতা বলেন, ‘কো-অপারেটিভ ফেডারালিজম নামটি সামনে রেখে একনায়কতন্ত্র চলছে। ট্রেজারিতে কেন্দ্রের পাঠানো লোক নজরদারি চালালে রাজ্য সরকারের থাকার দরকার কী! যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোকে ধূলিসাৎ করা হচ্ছে।’

পররাষ্ট্র, অর্থ, প্রতিরক্ষা এবং রেল ছাড়া কেন্দ্রের বাকি সব মন্ত্রণালয় তুলে দেয়া উচিত বলেও মন্তব্য করেছেন ক্ষুব্ধ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে মমতা বলেন, ‘কোনো কিছুতেই রাজ্যের সঙ্গে কথা বলা হচ্ছে না। রাজ্যের ট্রেজারি এবং বিডিও অফিসে কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি বসানোর প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। এভাবে রাজ্যের উপরে নজরদারি চালিয়ে যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোয় আঘাত করছে কেন্দ্রীয় মোদি সরকার। বার বার যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামো ভাঙা হচ্ছে।’

কেন্দ্রীয় সরকারের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত সংবিধান অনুযায়ী যুক্তিযুক্ত কী না তা নিয়ে ক্ষুব্ধ মমতা আগামীকাল সোমবার প্রেসিডেন্ট প্রণব মুখোপাধ্যায়কে চিঠি দেবেন এবং এসবের প্রতিকার চাইবেন।

মমতার কথায়, সারা দেশের মানুষ নরেন্দ্র মোদির আমলে পরাধীন হয়ে গেছে। রাজ্যের সাংবিধান স্বীকৃত অধিকারে বুলডোজার চালাচ্ছে কেন্দ্রীয় সরকার।

তিনি কেন্দ্রীয় সরকারের সমালোচনা করে বলেন, ‘আমি গ্যারান্টি দিয়ে বলছি, ওদের বুলডোজ করার জন্য দেশের ৭০ হাজারেরও বেশি শিল্পপতি দেশ ছেড়ে চলে গেছেন। তাদের বিরুদ্ধে কোনো না কোনো এজেন্সি লাগিয়ে তাদের ওপরে অত্যাচার করা হয়েছে। হয় ইনকাম ট্যাক্স, নয় সিবিআই, না হলে ইডি লাগিয়ে দেয়া হয়। পরিকল্পিতভাবে এসব করা হয় বলেও পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মন্তব্য করেন।

পার্সটুডে