মার্চ ২৯, ২০১৭

আল্লাহ ছাড়া আর কারো কাছে মাথা নত করি না : শেখ হাসিনা

ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম |

শেখ হাসিনা insaf24.com (2)উপরে আল্লাহ ছাড়া আর কারো কাছে মাথা নত করেন না বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
তিনি বলেন, ‘আমি কখনও মৃত্যুকে ভয় করি না। কারও কাছে মাথা নত করি না উপরে আল্লাহ ছাড়া। একমাত্র আল্লাহর কাছেই আমি মাথা নত করি। কারণ আমি জাতির পিতার কন্যা, এটা আমি সব সময় মনে রাখি। জন্মালে মৃত্যু হবে, তাই মরার আগে আমি মরতে রাজি না।’

রবিবার রাজধানীর ‘বঙ্গবন্ধু এভিনিউ’-এ ২১ আগস্টের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে এসব বলেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী অভিযোগ করেন, ২১ আগস্টের আগে আওয়ামী লীগ বেশিরভাগ সময়ই সমাবেশের অনুমতি পেত না। অথচ, ২১ আগস্ট আশ্চর্যজনকভাবে সমাবেশের অনুমতি দেওয়া হয়। সেদিন পুলিশের কোনও তৎপরতা ছিল না। এ ছাড়া অন্যান্য সমাবেশের সময় আশেপাশে স্বেচ্ছাসেবক থাকত। কিন্তু সেদিন কোনও স্বেচ্ছাসেবকেও ঢুকতে দেওয়া হয়নি।

তিনি বলেন, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার দিন পুলিশের কোনও তৎপরতা ছিল না। এমনকি হামলার পর উদ্ধারের কোনও তৎপরতাও ছিল না। বরং শহরের বিভিন্ন স্থানে আমাদের কর্মীদের ওপর লাঠিচার্জ করা হয়েছে। আর এ ঘটনা বিশ্ব-বিবেককে নাড়া দিয়েছিল; কিন্তু বিএনপিকে নাড়া দেয়নি। ‘হামলার পর কোনও ধরনের উদ্ধার তৎপরতা ছিল না’ বলেও অভিযোগ করেন প্রধানমন্ত্রী।

শেখ হাসিনা বলেন, ২১ আগস্টে গ্রেনেড হামলার পর আরও অনেককে হারিয়েছি। অনেকে স্প্লিন্টার নিয়ে বেঁচে আছেন। যতদিন যাচ্ছে তারা শারীরিকভাবে আসুস্থ হয়ে যাচ্ছেন।

আল্লাহ কিছু মানুষকে কিছু কাজ দিয়ে পাঠান। তা না হলে আমি রক্ষা পেতাম না উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০০৫ সালে ১৭ আগস্ট সমগ্র দেশে একইসঙ্গে আধা ঘণ্টায় পাঁচশ স্থানে বোমা হামলা চালানো হয়।

ওয়ান-এলিভেনের প্রেক্ষাপট স্মরণ করিয়ে দিয়ে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ২০০৭ সালে ইমরাজেন্সি সককার আমাকে গ্রেফতার করেছে। সমস্ত আঘাত আসে আমার ওপরে। শুধু মামলা নয়, একটার পর একটা ষড়যন্ত্র চলতে থাকে। তখন ঢাকা বিশ্বিবিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষর্থীসহ দেশের অনেকে প্রতিবাদ করেছে। ফলে আমরা গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে পেরেছিলাম।

বর্তমান সরকারের উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, আমরা দারিদ্র্য বিমোচনে বহুমুখী কর্যক্রম নিয়েছে। দারিদ্র্যের হার ২২ শতাংশে নামিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছি। জঙ্গিবাদ-সন্ত্রাস দূর করতে আমরা বিভিন্ন কার্যক্রম চালাচ্ছি।

গোটা বিশ্বের অস্থিরতা কথা উল্লেখ তিনি বলেন, কিছুদিন আগে আমেরিকার মতো জায়গার মসজিদের ইমাম নামাজ পড়ে ফিরছেন, তখন তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। সন্ত্রাসী হামলার ঘটানা সারা বিশ্বে ঘটে যাচ্ছে।

জনগণের শক্তি হচ্ছে বড় শক্তি, সমাজের সব স্তরের  মানুষ যদি রুখে দাঁড়ায়, তবে এই জঙ্গিবাদ-সন্ত্রাসের ঘটনা দেশকে মুক্ত করা সম্ভব বলে মনি করেন তিনি।