আমরা এখন সফলতার দ্বার প্রান্তে : হামাস

ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম | মুসলিম বিশ্ব ডেস্ক


হামাসের সিনিয়র কর্মকর্তা খালিল আল-হয়ায় বলেছেন, ‘আমরা এখন সফলতার দ্বার প্রান্তে পৌঁছে গিয়েছি। ‘মার্চ অব রিটার্ন’ এ বিক্ষোভে অংশ নেয়ার জন্য সবাইকে ধন্যবাদ এবং এমন একটি শুভ সংবাদের আশা করছি যা সকলের জন্যই ইতিবাচক প্রভাব বয়ে আনবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘যদি গাজার উপর থেকে অবরোধ তুলে দেয়া হয় তবে আমরা আমাদের সংগ্রামের কৌশল পরিবর্তন করবো।’

এদিকে, বৃহস্পতিবার হামাসের একজন কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা হারেটজেকে জানিয়েছেন, অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকার সীমান্তবর্তী স্থানগুলোতে সাংঘর্ষিক বিক্ষোভ অনুষ্ঠান না করার জন্য হামাস নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। একই সাথে আকাশে আগুনের বোমা নিক্ষেপ করা থেকেও হামাস বিরত থাকবে।

শুক্রবারে অনুষ্ঠিত হওয়া বিক্ষোভ সম্পর্কে একটি সংবাদ সম্মেলনে- হামাস, ইসলামিক জিহাদ, পপুলার ফ্রন্টসহ বিক্ষোভে অংশ নেয়া অন্যান্য দলের সদস্যগণ চলমান পরিস্থিতি নিয়ে মিশরের উদ্যোগের আলোচনাকে সফল করার জন্য বিক্ষোভের তীব্রতা কমিয়ে আনার ব্যাপারে সম্মত হয়েছেন।

তবে এই সিদ্ধান্ত ইসরাইল কর্তৃপক্ষের গাজা উপকূলে ফিলিস্তিনিদের জন্য মাছ ধরার অনুমতি দেয়া এবং কাতার থেকে হামাস সদস্যদের জন্য বেতন ভাতা কোনো ধরনের বাধা বিপত্তি ছাড়াই আসতে দেয়ার উপরে নির্ভর করছে।

অন্যদিকে, একজন ইসরাইলি কর্মকর্তা বলেছেন, ‘গাজা উপত্যকা নিয়ে একটি সমাধানে পৌঁছানো অবশ্যই দরকার। আমরা হামাস কর্মকর্তাদের নিকটে কাতার থেকে আসা জ্বালানি তেল এবং নগদ অর্থ ঠেকিয়ে দিয়ে সেখানকার মানবাধিকার পরিস্থিতির উন্নয়ন করেছি।’

শুক্রবার গাজা সীমান্তে অন্তত ৭,০০০ হাজার ফিলিস্তিনি কর্তৃক ব্যাপক বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। অর্ধেকের বেশী সংখ্যক বিক্ষোভকারী গাজা সীমান্তবর্তী বিভিন্ন বন্দি শিবিরের আশেপাশে অবস্থান নিয়েছেন এবং অন্যরা সীমান্ত কাঁটাতারের পাশে ইসরাইলি নিরাপত্তা বাহিনীর মুখোমুখি অবস্থান নেন।

ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের দেয়া সংবাদ অনুযায়ী জানা যাচ্ছে যে, বেশীরভাগ বিক্ষোভকারী সীমান্ত কাঁটাতারের ৭০০ মিটারের মধ্যে অবস্থান করছেন এমনকি গাজার বেশ কয়েক ডজন তরুণ সীমান্ত অতিক্রম করার চেষ্টা চালিয়েছেন।

গাজার বিভিন্ন বার্তা সংস্থা জানিয়েছে, মিশরের একজন নিরাপত্তা কর্মী পশ্চিম বুরিজ এর উদ্বাস্তু শিবিরের নিকটে বিক্ষোভকারীদের গতিবিধি লক্ষ্য করার জন্য সেখানে নিযুক্ত হয়েছেন।

বিক্ষোভ চলাকালে ফিলিস্তিনের রেড ক্রিসেন্টের অন্তত ৮৭ জন সদস্য আহত হয়েছেন। ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, ৩২ জন আহত ব্যক্তিকে ইতোমধ্যেই হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে যাদের মধ্যে ৭ জন সরাসরি গুলির আঘাতে আহত হয়েছেন।