মীর কাসেমে আলীর মামলা থেকে সরে দাঁড়ালেন বিচারপতি নজরুল ইসলাম

resize_102233জামায়াতের নির্বাহী পরিষদ সদস্য মীর কাসেম আলীর আপিল মামলার শুনানি থেকে নিজেকে প্রত্যাহার করে নিয়েছেন হাইকোর্টের সদ্য অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরী। আজ সোমবার সকালে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে আপিল মামলাটির তৃতীয় দিনের শুনানি শুরু হলে এ ঘোষণা দেন বিচারপতি নজরুল।

প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা (এস কে সিনহা) ওকে বলে বিষয়টির অনুমোদন দিলে পরে আসামিপক্ষে দ্বিতীয় দিনের মতো যুক্তিতর্ক (আর্গুমেন্ট) উপস্থাপন শুরু করেন মীর কাসেমের আইনজীবী এস এম শাহজাহান। উপস্থিত আছেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন। রাষ্ট্রপক্ষে আছেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।

প্রত্যাহার প্রসঙ্গে বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরী আদালতে বলেন, ‘মাই লর্ড, আমি এর আগে আপিল বিভাগে আইনজীবী হিসেবে তিনটি মামলা পরিচালনা করেছি, তখন আমার বিপরীতে অ্যাটর্নি জেনারেল ছিলেন। তখন কোনো প্রশ্ন তিনি ওঠাননি; বরং এ মামলার আইনজীবী হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার পর আমার বিরুদ্ধে বৈরী পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে। আমি সংবিধান মেনে এবং নৈতিক অবস্থান ঠিক রেখে এ মামলা পরিচালনার জন্য সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। কিন্তু বৈরী পরিবেশ তৈরি করায় নিজেকে প্রত্যাহার করে নিলাম।’

এ বিষয়ে মীর কাসেম আলীর প্যানেল আইনজীবী মতিউর রহমান আকন্দ বলেন, ‘বৈরী পরিবেশ তৈরি হওয়ায় বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরী মীর কাসেম আলীর আইনজীবী থেকে নিজেকে প্রত্যাহার করে নিয়েছেন।’

এর আগে গতকাল রোববার দুপুরে এ বিষয়ে মীর কাসেম আলীর প্রধান আইনজীবী অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন ও মীর কাসেম আলীর ছেলে মীর আহমেদ বিন কাসেমের সঙ্গে সুপ্রিম কোর্ট বারের কনফারেন্স রুমে জরুরি বৈঠক করেন।

বৈঠক শেষে নাম প্রত্যাহারের বিষয়ে সোমবার প্রধান বিচারপতির সঙ্গে কথা বলবেন বলে জানিয়েছিলেন বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরী।

বৈঠক শেষে মীর কাসেম আলীর প্রধান আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, ‘সুপ্রিম কোর্ট রুলস অনুযায়ী কোনো আইনজীবী মামলা থেকে নিজের নাম প্রত্যাহার করতে হলে তাঁকে আদালতে সেটি উপস্থাপন করতে হয়। এর পর তিনি ঘোষণা দিতে পারেন। আগামীকাল (সোমবার) মীর কাসেম আলীর মামলার শুনানি রয়েছে। তিনি নাম প্রত্যাহার করবেন কি না, তা আগামীকাল আদালতে উপস্থাপন করবেন। তবে একজন আইনজীবী যদি কোনো আসামির উকিল হিসেবে আদালতে দাঁড়ান, তাহলে তিনি ওই আসামির পক্ষের বা ভক্ত হয়ে যান না; বরং আইনি প্রক্রিয়ায় আদালতকে সহায়তা করাই আইনজীবীর কাজ।’

মীর কাসেম আলীর ছেলে ব্যারিস্টার মীর আহমেদ বিন কাসেম বলেন, বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরী অবসরে যাওয়ার পর এর আগে আপিল বিভাগে আইনজীবী হিসেবে আরো তিনটি ব্যক্তিগত মামলা পরিচালনা করেছেন। এসব মামলায় বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর বিপরীত পক্ষে রাষ্ট্রপক্ষে আ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম আইনজীবী ছিলেন। তখন কিন্তু অ্যাটর্নি জেনারেল কোনো প্রশ্ন তোলেননি। এখন মীর কাসেম আলীর মামলার সময় তাঁর সমালোচনা করা হচ্ছে।