আমেরিকায় মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভোটগ্রহণ শেষ; কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে ডেমোক্রেটিক এগিয়ে

ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম | রশীদ আহমদ, যুক্তরাষ্ট্র প্রতিনিধি


যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভোটগ্রহণ শেষ। স্থানীয় সময় ৬ নভেম্বর মঙ্গলবার সকাল থেকে দেশজুড়ে ভোট দিয়েছেন আমেরিকার নাগরিকরা।

মার্কিন শাসনব্যবস্থার শীর্ষে রয়েছেন প্রেসিডেন্ট। ওই পদের মেয়াদ চারবছর। প্রতি চারবছর অন্তর সেখানে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন হয়। তাতে যিনি জয়ী হন, দু’বছরের মাথায় আর একটি নির্বাচনের মধ্য দিয়ে যেতে হয় তাঁকে। সেটিকেই মধ্যবর্তী নির্বাচন বলা হয়। ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্ট সম্পর্কে মানুষের কী ধারণা, তাঁর কাজকর্ম পছন্দ হচ্ছে কিনা, দ্বিতীয় বার ক্ষমতায় আসার সম্ভাবনা কতটা, এই নির্বাচনেই তা স্পষ্ট হয়ে যায়।

২০১৬ সালের ৮ নভেম্বর মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন হয়েছিল। তাতে বিপুল ভোটে জয়ী হন ডোনাল্ড ট্রাম্প। দেশের ৪৫তম প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। একটা অংশের কাছে যা অপ্রত্যাশিত ছিল। কারণ রিপাবলিকানদের তরফে প্রেসিডেন্ট প্রার্থী মনোনীত হওয়া থেকে ভোটের দিন পর্যন্ত— একের পর এক বিতর্কে জড়িয়ে পড়েন তিনি। কিন্তু ৯ নভেম্বর ফলাফল ঘোষণা হওয়ার পর সব হিসাব পাল্টে যায়। ডেমোক্র্যাট প্রার্থী হিলারি ক্লিন্টনকে বিপুল ভোটে হারিয়ে জয়ী হন ট্রাম্প।

তারপরেও বিতর্ক থামেনি। ২০১৭-র ২০ জানুয়ারি প্রেসিডেন্ট পদে শপথ নেওয়ার পরই অভিবাসন নীতিতে কড়াকড়ি শুরু করেন। স্বাস্থ্য বিল হোক বা কর্মক্ষেত্রে সন্তান সম্ভবা মহিলাদের সুযোগ-সুবিধা, একের পর এক বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নিতে শুরু করেন। তবে হাজার বিতর্কের মধ্যেও মার্কিন রাজনীতিতে ক্রমশ জাঁকিয়ে বসতে শুরু করেন ট্রাম্প। যার সবচেয়ে বড় প্রমাণ হল, এককালে তাঁকে নিয়ে দ্বিধাবিভক্ত রিপাবলিকানরা এখন তাঁরই গুণগান করে বেড়াচ্ছেন। একসময় মেক্সিকো সীমান্তে দেওয়াল তোলার বিরোধিতা করেছিলেন যাঁরা, এখন তারমধ্যেই রাজনৈতিক ফায়দা দেখছেন তাঁরা। তাই ডেমোক্র্যাটরা সবরকম চেষ্টা চালালেও, তারকাদের নিয়ে ‘ট্রাম্প হটাও’ আন্দোলনে নামলেও, জনগণের রায় তাঁদের পক্ষে যাবে বলে দৃঢ় বিশ্বাস রিপাবলিকানদের।

সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ডেমোক্র্যাট দলের হয়ে নির্বাচনী প্রচারণা চালান সোমবার ইন্ডিয়ানা রাজ্যে ডেমোক্র্যাটিক দলের সেনেট সদস্য প্রার্থী জৌ ড্যানেলীর পক্ষাবলম্বনে। ওখানকার সমাবেশে তিনি দাবি করেন, এই যে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার এখন চোখে পড়ছে এটার সূচনা হয়েছিল তাঁর সময়ে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির শাসনামলেই। এর আগে নিজ রাজ্য শিকাগোর এক নির্বাচনী সমাবেশে সাবেক প্রেসিডেন্ট ওবামা বলেন, ‘এবারের নির্বাচন হবে আমাদের সময়কালের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচন। এবারের নির্বাচনে যে বিষয়গুলো ভোটারদের মূল্যায়ণের জন্যে সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হবে বলে মনে করা হচ্ছে তা হলো অভিবাসন-স্বাস্থ পরিচর্যা এবং কর্ম সংস্থান ও অর্থনীতি।

এ ভোটের মাধ্যমে কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস এর সব কয়টি (৪৩৫) আসনের প্রতিনিধি নির্বাচন করবেন ভোটাররা। এছাড়া, উচ্চকক্ষ অর্থাৎ সিনেটের একশ’ আসনের মধ্যে ভোট গ্রহণ করা হবে ৩৫টির।

আর ৫০টি অঙ্গরাজ্যের মধ্যে ৩৬টির গভর্নর নির্বাচনে ভোট প্রদান করবেন ভোটাররা। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের তিনটি অঞ্চলের গভর্নর নির্বাচন করা হবে। এর বাইরে অনেক নগরীর মেয়র এবং স্থানীয় কর্মকর্তাও নির্বাচিত হবেন এ ভোটের মাধ্যমে।

বিবিসি জানিয়েছে, পূবাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোতে প্রথম ভোট গ্রহণ শুরু হয়েছে। সর্ব প্রথম নিউ হ্যাম্পশায়ার, নিউজার্সি, নিউইয়র্ক, ভার্জিনিয়া এবং মেইনের ভোটাররা ভোট দিয়েছেন।

স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টায় সর্বপ্রথম ইন্ডিয়ানা রাজ্যের বেশিরভাগ অংশ এবং কেন্টাকির পূর্ব অংশের ভোট গ্রহণ শেষ হয়েছে । আর সর্বশেষ আলাস্কা রাজ্যে ভোট গ্রহণ শেষ হওয়ার কথা।

নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, বিভিন্ন অঙ্গ রাজ্যে বিভিন্ন সময় ভোট গ্রহণ শেষ হয়েছে । তবে পূর্ণ ফল পেতে সময় লাগবে। ইতিমধ্যে ভোটের ফলাফল আসতে শুরু করেছে।

মধ্যবর্তী এ নির্বাচন ট্রাম্পের জন্য বড় পরীক্ষা হিসেবে দেখছেন বিশ্লেকরা। কেননা এর মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট হিসাবে ডোনাল্ড ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা যাচাইয়ের পাশাপাশি তার ভবিষ্যতের পূর্বাভাস পাওয়া যাবে।
সর্বশেষ জনমত জরিপে কংগ্রেসের উভয় কক্ষে বিরোধী ডেমোক্র্যাটদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভের আভাস পাওয়া গেছে। আমেরিকার গণমাধ্যমের সর্বশেষ জনমত জরিপ অনুযায়ী, বিরোধী ডেমোক্র্যাটিক পার্টি অনেকটা এগিয়ে আছে। জরিপে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির পক্ষে ৫৫ শতাংশ এবং রিপাবলিকান পার্টির পক্ষে ৪২ শতাংশ ভোট পড়েছে।

সাধারণত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের তুলনায় মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি কম থাকে। তবে সরেজমিনে নিউইয়র্কের কয়েকটি ভোট কেন্দ্র পর্যবেক্ষণে দেখা গেল এবার রেকর্ড পরিমাণ ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করছেন। ভোটে কংগ্রেসের দুই কক্ষের মধ্যে একটি কক্ষ রিপাবলিকান আর অপরটি ডেমোক্র্যাটদের দখলে গেলে যে কোনও বিল পাস করাতে বেশ বেগ পেতে হবে ট্রাম্পকে।