শুকরানা মাহফিলের সেই বক্তব্য কোটি কোটি তৌহিদী জনতাকে মর্মাহত করেছে: উবায়দুল্লাহ ফারুক

ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম | ডেস্ক রিপোর্ট


জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের সহসভাপতি ও অন্যতম নীতিনির্ধারক বর্ষিয়ান আলেম শায়খুল হাদীস মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক বলেছেন, গত ৪ নভেম্বর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে হাইয়্যাতুল উলইয়্যার শোকরানা মাহফিলে ২০১৩ সালের ৫ই মে শাপলা চত্বরের রক্তাক্ত ঘটনা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সামরিক সচিব মেজর জেনারেল মিয়া মোহাম্মদ জয়নুল আবেদীন যে বক্তব্য দিয়েছেন, তাতে আমরা গভীরভাবে হতাশ ও মর্মাহত হয়েছি। তাঁর বক্তব্যে দেশের আলেম সমাজ ও কোটি কোটি তৌহিদী জনতা মর্মাহত হয়েছেন।

তিনি বলেন, সরকারের মন্ত্রী-এমপি ও রাষ্ট্রীয় কর্মকর্তারা আমাদের উদ্দেশ্যে অনেক সময় ধমকের সুরে কথা বলেন। তাঁদের উচিত নিজেদেরকে জনগণের প্রভু নয়, বরং সেবক ভেবে মায়ামমতা ও আন্তরিকতা দিয়ে কথা বলা।

আজ (৭ নভেম্বর) বুধবার বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রেরিত এক বিবৃতিতে জমিয়ত সহসভাপতি মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক এসব কথা বলেন।

মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক বলেন, ৫ই মে’র ভয়াল রাতে শাপলা চত্বরে যে বীভৎস হামলা হয়েছে, তা টেলিভিশন লাইভের মাধ্যমে পুরো জগতবাসী দেখেছেন। বাংলাদেশের জনগণ দেখেছেন। সেই রাতে বিদ্যুৎ বন্ধ করে দিয়ে যেভাবে ভীত-সন্ত্রস্ত হেফাজত নেতাকর্মীদের উপর হায়েনার মতো ঝাঁপিয়ে পড়েছিল রাষ্ট্রীয় বাহিনী, সেই নিষ্ঠুরতার চিত্র ছিল বর্ণনাতীত। সেই রাতে সশস্ত্র সরকারী বাহিনীর আচরণ ছিল ভয়ানক নির্দয়। ঘুমন্ত, ক্লান্ত ও যিকিররত আলেম ও তৌহিদী জনতার উপর সেই রাতের আক্রমণ ছিল ঠিক যুদ্ধের ময়দানে শত্রুবাহিনীর মোকাবেলার মতো। সেই রাতে শাপলা চত্বরে যারা ছিলেন, তারা এখনো সেই ঘটনা মনে ওঠলে শিউরে ওঠেন, অস্বাভাবিক আচরণ শুরু করেন।

মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক বলেন, ৫ই মের ঘটনা নিয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সংসদে দাঁড়িয়ে বলেছিলেন, শাপলা চত্বরে হেফাজতের নেতাকর্মীরা রং মেখে শুয়েছিল। গত ৪ নভেম্বর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সামরিক সচিবের বক্তব্যেও ছিল তারই প্রতিধ্বনী। তিনি বলেন, সামরিক সচিব কওমি সনদ ইস্যুতে কয়েক বছর ধরে আলেমদের সাথে কাজ করছেন। আমরা তাঁর উপর অত্যন্ত আস্থাশীল ছিলাম। আমরা বিশ্বাস করতাম, তিনি উলামা-মাশায়েখ ও মাদরাসা শিক্ষার প্রতি অত্যন্ত আন্তরিক। তাঁর তো ধারণা না থাকার কথা নয় যে, এমন বক্তব্যে আলেম সমাজ ও তৌহিদী জনতার মনে কতটা গভীর ক্ষত তৈরি করতে পারে।

জমিয়ত সহসভাপতি হতাশা প্রকাশ করে বলেন, সেদিন সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের শোকরানা মাহফিলে শরীক হওয়া আলেমদের প্রায় সকলেই হেফাজতের ঈমান-আক্বীদার আন্দোলনের সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন। স্টেজে থাকা আলেমদের অনেকেই শাপলা চত্বরের হতাহতের ঘটনার প্রতিবাদে সোচ্চার ছিলেন এবং নিরপেক্ষ তদন্ত ও বিচার দাবি করে অনেক বক্তব্য ও বিবৃতি দিয়েছেন। কিন্তু সেদিন তাদের কাছ থেকে প্রতিবাদ না আসাটা ছিল অবিশ্বাস্য। সনদের স্বীকৃতি নিয়ে কওমি আলেমদের স্বকীয়তাবোধ ও আদর্শিক আনুগত্য অক্ষুন্ন থাকা নিয়ে অনেকের মনে যে শংকা কাজ করছিল, শোকরানা মাহফিলে উপস্থিত উলামায়ে কেরামের বক্তব্য ও ভূমিকা থেকে এমন আশংকাকে আরো গভীর করেছে।

মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক বলেন, সেদিনের সমাবেশে উলামায়ে কেরামের বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাহারের কথা বলা হয়েছে, অথচ একজন বক্তাও শাপলার বিয়োগান্তক ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের কথা মুখে আনেননি। তিনি বলেন, আমি আশাবাদি হতে চাই, উলাময়ে কেরাম রাসূলের উত্তরসুরি, এটা স্মরণে রেখে নিজেদের দায়িত্ব ও কর্তব্যবোধ সম্পর্কে আরো সতর্কতার সাথে কাজ করবেন এবং ইসলাম, দেশ ও জাতির সেবায় নিজেদেরকে বুদ্ধিমত্তার সাথে পরিচালিত করবেন।