বাংলাদেশের শ্রোতাদের টার্গেট করে ভারতের নতুন চ্যানেল

ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম |

40x360_akashbani_nocreditবাংলাদেশের শ্রোতাদের টার্গেট করে ভারতের রাষ্ট্রীয় বেতার সংস্থা ‘আকাশবাণী’ আজ মঙ্গলবার থেকে এক নতুন বাংলা সম্প্রচার শুরু করেছে।

ভারতের রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জি ‘আকাশবাণী মৈত্রী’ নামের এই সম্প্রচার আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করেন কলকাতায়।

এই নতুন সম্প্রচারের লক্ষ্য বাংলাদেশের মানুষের সঙ্গে ভারতের বোঝাপড়া বৃদ্ধি বলেই সরকারিভাবে জানানো হয়েছে।

তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন বাংলাদেশের মানুষদের একাংশের মধ্যে যে ভারত-বিরোধী মনোভাব রয়েছে, তাকে নিয়ন্ত্রণ করার একটা কূটনৈতিক প্রয়াস এই রেডিও চ্যানেল।

পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল আবাস রাজভবনে প্রণব মুখার্জি ‘মৈত্রী’ চ্যানেলটির উদ্বোধন করতে গিয়ে বলেন, “আগামী দিনে দারিদ্র্য দূরীকরণ, অর্থনৈতিক বিকাশ, বাণিজ্য বৃদ্ধি, সন্ত্রাসবাদ ও মৌলবাদের বিরুদ্ধে সম্মিলিতভাবে সংগ্রামে আমাদের দুটি দেশের মধ্যে সহযোগিতা আরও বৃদ্ধি পাবে। সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ করার ক্ষেত্রে যোগাযোগ ব্যবস্থা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’’

‘আকাশবাণী মৈত্রী’ ভারত আর বাংলাদেশের যোগাযোগ বৃদ্ধির এক সঠিক মাধ্যম হয়ে উঠতে পারে বলেও মন্তব্য ভারতের রাষ্ট্রপতির।

নতুন এই বেতার চ্যানেলে ভারত আর বাংলাদেশের মধ্যে অনুষ্ঠান বিনিময় যেমন হবে, তেমনই বাংলাদেশের শিল্পী-বুদ্ধিজীবিদেরও আকাশবাণী মৈত্রী চ্যানেলে অনুষ্ঠান করার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হবে বলে বিবিসিকে জানিয়েছেন ভারতের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার কর্পোরেশন প্রসার ভারতীর প্রধান জহর সরকার।

এই বেতার চ্যানেলে যেমন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান থাকবে, তেমনই একটা বড় অংশ জুড়ে থাকবে সংবাদ আর বিশ্লেষণধর্মী অনুষ্ঠান।

কলকাতার রাজভবনে মৈত্রী চ্যানেলের উদ্বোধন করছেন ভারতের রাষ্ট্রপতি প্রণব
কলকাতার রাজভবনে মৈত্রী চ্যানেলের উদ্বোধন করছেন ভারতের রাষ্ট্রপতি প্রণব

সংবাদ বুলেটিন ছাড়াও বিশ্ব সংবাদ, উপমহাদেশের সংবাদ আর চলতি ঘটনাবলী নিয়ে বিশ্লেষণধর্মী অনুষ্ঠান থাকবে।

১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় আকাশবাণী বিশেষ বাংলা অনুষ্ঠান ‘এস বি এস’শুরু করেছিল। ২০১০ সালে সেটা বন্ধ হয়ে যায়।

বন্ধ হয়ে যাওয়া ওই বেতার পরিষেবা সম্বন্ধে মন্তব্য করতে গিয়ে মি. মুখার্জি বলেন, “১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময়ে লক্ষ লক্ষ বেতার শ্রোতার হৃদয়ে আকাশবাণী এক বিশেষ স্থান করে নিয়েছিল।’’

নতুন করে মিডিয়াম ওয়েভে বাংলা অনুষ্ঠান সম্প্রচার শুরুর জন্য পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার চুঁচুড়ায় বসানো হয়েছে অত্যাধুনিক ১০০০ কিলোওয়াটের ডিআরএম ট্রান্সমিটার।

কিন্তু শুধুই কি দুই দেশের সাংস্কৃতিক মেলবন্ধন আর যোগাযোগ বৃদ্ধির লক্ষ্যে এই নতুন বেতার চ্যানেল? নাকি কোনও রাজনৈতিক বা কূটনৈতিক উদ্দেশ্যও আছে এর পেছনে?

প্রসার ভারতীর মুখ্য কার্যনির্বাহী আধিকারিক জহর সরকার এই নিয়ে কোনও মন্তব্য করতে রাজি হন নি।

তবে রাজনৈতিক ভাষ্যকার অধ্যাপক সব্যসাচী বসু রায়চৌধুরী মনে করেন আকাশবাণীর মাধ্যমে ভারত এটা বোঝাতে চাইছে যে তারা বাংলাদেশের বৈরী নয়, বরং তারা সব ক্ষেত্রেই বাংলাদেশ সরকার, বিশেষ করে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারকে সব ধরনের সাহায্য করতে প্রস্তুত।

“এই চ্যানেলের মাধ্যমে দিল্লি বাংলাদেশের মানুষকে বোঝাতে চাইছে যে তারা বর্তমান বাংলাদেশ সরকারের পাশে আছে, সব ধরনের সাহায্য করতেই তৈরি আছে। অন্যদিকে বাংলাদেশের একটা বিরাট অংশের মানুষের মধ্যে যে ভারত বিরোধী মনোভাব রয়েছে, সেটাকেও নিয়ন্ত্রণ বা সংযত করার একটা কূটনৈতিক প্রচেষ্টা এটা,” বলছিলেন অধ্যাপক বসু রায়চৌধুরী।

আকাশবাণী এই চ্যানেলের জন্য যে অভ্যন্তরীণ নোট তৈরি করেছে, তাতে লেখা হয়েছে চলতি ঘটনাবলীর বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে যেমন বোঝাপড়া বাড়বে, তেমনই কোনও ঘটনা নিয়ে ভারতের সঠিক মনোভাব আর অবস্থানও এখানে স্পষ্ট করে প্রচার করা যাবে।

এটাও লেখা হয়েছে যে সংবাদ পরিবেশনের ক্ষেত্রে এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ কারণ ভারতের প্রতিবেশী কয়েকটি দেশ ইতিমধ্যেই তাদের বাংলা অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বাংলাদেশের শ্রোতাদের কাছে পৌঁছে যাচ্ছে।

বিবিসি বাংলা