শাপলা চত্বরের ইতিহাস এদেশের মানুষ চিরকাল স্মরণ রাখবে: আল্লামা বাবুনগরী

ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম | হাটহাজারী  প্রতিনিধি


অলঙ্করণ : জারাদা

হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব ও হাটহাজারী মাদরাসার সহযোগী পরিচালক আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী বলেছেন, শাপলা চত্বরের ইতিহাস এদেশের মানুষ চিরকাল শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ রাখবে।

আজ ৮ ই নভেম্বর আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সভাপতিত্বে হাটহাজারী পার্বতী উচ্চ বিদ্যালয় ময়দানে আল-আমিন ফাউন্ডেশন আয়োজিত দুইদিন ব্যপী ঐতিহাসিক তাফসীরুল কুরআনে মাহফিলের প্রথম দিনে প্রধান অতিথির বক্তব্য তিনি এ কথা বলেন।

আল্লামা বাবুনগরী বলেন, শাপলার ইতিহাস রক্তঝরা এক ইতিহাস। ঐদিনের ট্রাজেডি অত্যন্ত মর্মান্তিক, ও বেদনাদায়ক।সেদিন জিকিররত, তাহাজ্জুদরত নবীপ্রেমিকদের নির্বিচারে শহীদ করা হয়েছিল। শাপলা চত্বরে সেদিন আমি স্ব-চক্ষে শহীদের রক্তমাখা লাশ দেখেছি। এই শান্তিপ্রিয় হাটহাজারীতেও ছয়জন নবীপ্রেমিক শহীদ হয়েছিল।

বিখ্যাত টিভি চ্যানেল আল-জাজিরা সহ দেশী-বিদেশী অন্যান্য ইলেকট্রিক ও প্রিন্ট মিডিয়ায় সেই রাতের ভয়াভহ দৃশ্য বিশ্ববাসী দেখেছে। নবীপ্রেমিকদের উপর ইতিহাসের জঘন্যতম সেই হত্যাযজ্ঞের ভিডিও ফুটেজ আজ। ইতিহাসে সাক্ষী হয়ে আছে এবং ইতিহাসের পাতায় শাপলার শহীদদের নাম স্বর্ণাক্ষরে চিরকাল লিখা থাকবে।

তিনি আরো বলেন,শাহবাগে নাস্তিক মুরতাদরা যখন বিশ্বনবীর শানে কটুক্তি করেছিল তখন কেবলমাত্র নবী সা.এর ইজ্জত রক্ষার জন্য আমরা লাখো মুমিন শাপলা চত্বরে উপস্থিত হয়েছিলাম। ক্ষমতা দখল কিংবা দুনিয়ার কোন স্বার্থ হাসিলের জন্য আমরা সেদিন শাপলা চত্বরে যাইনি। বিশ্বনবীর শানে কটুক্তি মুমিন মুলমানরা মেনে নেবে না। বিশ্বনবীর ইজ্জত রক্ষায় নাস্তিক মুরতাদদের বিরোদ্ধে হেফাজতে ইসলামের ঈমানী আন্দোলন ছিল, আছে, থাকবে ইনশাআল্লাহ।

ইসলামের শি’আর তথা নিদর্শনকে অবমাননা ও রাসুল সা.এর শানে কটুক্তিকারী নাস্তিক মুরতাদদের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদন্ডের বিধান রেখে জাতীয় সংসদে অবিলম্বে আইন পাশের আহব্বান জানান আল্লামা বাবুনগরী।

আল্লামা বাবুনগরী আরো বলেন, ঈমানের মূল বিষয় হলো তাওহীদ বা আল্লাহ তায়ালার একাত্ববাদে বিশ্বাসী হওয়া। সমস্ত নবী-রাসুলগণ নিজ নিজ উম্মতদেরকে তাওহীদের দাওয়াত দিয়েছেন। তাওহীদে খালেছ ব্যতীত ঈমানদার হওয়া যায় না। বাংলাদেশ মুসলিম সংখ্যা ঘনিষ্ঠ দেশ। তাই সংবিধানে মহান আল্লাহর উপর আস্থা বিশ্বাস পুন:স্থাপন করতে হবে।

তিনি বলেন, তাওহীদের দাওয়াত দিতে গিয়ে নবী রাসুলগণ অনেক জুলুম-নির্যাতন সহ্য করেছেন। হযরত ইব্রাহীম আলাইহি ওয়াসাল্লাম আগুনের রিমান্ডে গিয়েছেন এরপরও তাওহীদের ব্যপারে কোন আপোষ করেননি। নবী রাসুলগণের উত্তরসূরী উলামায়ে কেরামও তাওহীদের ব্যপারে কোন আপোষ করতে পারে না।

তিনি আরো বলেন,সংবিধান হলো একটা রাষ্ট্রের মূল। ৯০% মুসলমানের দেশের লক্ষ কোটি তৌহিদী জনতার প্রাণের দাবী সংবিধানে মহান আল্লাহর উপর পূর্ণ আস্থা বিশ্বাস স্থাপন করতে হবে। মুসলমানদের জন্য সংবিধান হলো মহাগ্রন্থ আল-কুরআন। কুরআনকে সংবিধান মেনে রাষ্ট্র পরিচালনা করলে দেশ শান্তির রাজ্যে পরিণত হবে।

অন্যদের মধ্যে আরো বক্তব্য রাখেন, মুফতী ওলী উল্লাহ, মুফতী সাখাওয়াত হুসাইন,মাওলানা গাজী ইয়াকুব ওসমানী, মুফতী সিরাজুল্লাহ, মাওলানা আব্দুল করীম, মুফতী আবু সাঈদ প্রমূখ।