৭০ মামলায় জামিনের পর মাহমুদুর রহমানকে শ্যোন এরেস্ট রাষ্ট্রীয় অনাচারের শামিল

94044_161সব মামলায় জামিন হওয়ার পর দৈনিক আমার দেশ-এর ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক কারাবন্দী মাহমুদুর রহমানের তিন বছর আগে বিস্ফোরক আইনে দায়েরকৃত রাজনৈতিক মামলায় গ্রেফতার (শ্যোন এরেস্ট) দেখিয়ে নিশ্চিত মুক্তিকে বাধাগ্রস্ত করার ঘটনায় তীব্র নিন্দা, ক্ষোভ ও বিস্ময় প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে) নেতারা।

বিএফইউজের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শামসুদ্দিন হারুন ও মহাসচিব এম আবদুল্লাহ এবং ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন-ডিইউজের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হাসনাত করীম পিন্টু ও সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গির আলম প্রধান এক যুক্ত বিবৃতিতে বলেন, সাহসের সঙ্গে সত্য লেখা ও প্রকাশের দায়ে দীর্ঘ প্রায় তিন বছর কারাভোগ করছেন মাহমুদুর রহমান। মোট ৭০টি হয়রানিমূলক মামলায় জামিন লাভ করে সাহসী সম্পাদক মাহমুদুর রহমান যখন মুক্তি পেতে যাচ্ছেন, ঠিক সে সময় ২০১৩ সালের জানুয়ারি মাসে শাহবাগ থানার একটি রাজনৈতিক মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখিয়ে সরকার আইনের শাসনের প্রতি চরম অবজ্ঞা প্রদর্শন করেছে। যে সময়ের ঘটনায় তাকে অভিযুক্ত করে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে সে সময় তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রহরায় কাওরান বাজারের আমার দেশ অফিসে অবরুদ্ধ ছিলেন। আমরা গভীর উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ করছি যে, হাস্যকর অভিযোগে তাকে শুধু গ্রেফতারই দেখানো হয়নি, সঙ্গে সঙ্গে দশ দিনের রিমান্ড চাওয়া হয়েছে যা বিবেকবান সাংবাদিক সমাজকে স্তম্ভিত করেছে। সরকারের এ ধরণের আচরণ মানবাধিকারের পরিষ্কার লঙ্ঘন এবং রাষ্ট্রীয় অনাচারের শামিল। কোনো সভ্য দেশে একজন পত্রিকা সম্পাদকের ওপর এমন নিপীড়ন কল্পনাও করা যায় না।

বিবৃতিতে সাংবাদিক নেতারা বলেন, ক্ষমতাসীন সরকারের দলন-দমনে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা আজ ভূলুন্ঠিত। গোটা সংবাদ মাধ্যমজুড়ে ভীতি ও ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করা হয়েছে। সাংবাদিকদের শীর্ষ সংগঠন বিএফইউজের নির্বাচিত সভাপতি শওকত মাহমুদকে বানোয়াট মামলায় কারাবন্দী করে রাখা হয়েছে ছয় মাস ধরে। গায়ের জোরে আমার দেশ, দিগন্ত টেলিভিশন ও ইসলামিক টেলিভিশন বন্ধ করে হাজারো সাংবাদিককে দুর্বিষহ বেকারত্বে ঠেলে দেয়া হয়েছে। সাগর-রুনীসহ ২৭জন সাংবাদিক খুনের বিচার পাচ্ছে না সাংবাদিক সমাজ। সম্প্রতি ইংরেজী দৈনিক ডেইলি স্টার বন্ধ ও সম্পাদককে গ্রেফতারের হুমকি এবং সম্পাদকের বিরুদ্ধে সারাদেশে মামলার হিড়িক পড়েছে। সরকারের এসব আচরণ মুক্তগণমাধ্যম পরিপন্থী মানসিকতার নগ্ন প্রকাশ ঘটাচ্ছে।

সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে মাহমুদুর রহমান ও শওকত মাহমুদের মুক্তি এবং বন্ধ গণমাধ্যম খুলে দেয়ার দাবি জানিয়ে বলেন, অন্যথায় বিক্ষুব্ধ সাংবাদিক সমাজ ঐক্যবদ্ধভাবে সরকারের ক্রমবর্ধমান নিপীড়নের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াবে।