মার্চ ২৪, ২০১৭

রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ করতে চাইলে জনগণের আন্দোলন আরো ব্যাপক হবে

ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম |

খেলাফত-মজলিস_11906খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের বৈঠকে সুন্দরবন ও পরিবেশের জন্যে মারাত্মক ক্ষতিকর বাংলাদেশের স্বার্থবিরোধী রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের ও নতুনকরে জ্বালানী গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির চেষ্টার প্রতিবাদে আগামী ২৭ আগস্ট দেশব্যাপী প্রতিবাদ দিবসের কর্মসূচী সফলের আহবান জানান হয়েছে। বৈঠকে আগামী ২৭ আগস্ট শনিবার দেশব্যাপী প্রতিবাদ দিবস সফলে সারা দেশের জেলা ও মহানগরী শাখাসমূহকে মানব বন্ধন, মিছিল, গোলটেবিল বৈঠক, সমাবেশ, মতবিনিময়, গণসংযোগ অথবা আলোচনা সভার কর্মসূচী পালনের আহ্বান জানান হয়।

গতকাল সংগঠনের বিজয়নগরস্থ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে নায়েবে আমীর মাওলানা সৈয়দ মজবিুর রহমানের সভাপতিত্বে ও মহাসচিব ড. আহমদ আবদুল কাদেরের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত বৈঠকে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন যুগ্মমহাসচিব মাওলানা মুহাম্মদ শফিক উদ্দিন, শেখ গোলাম আসগর, সাংগঠনিক সম্পাদক ড. মোস্তাফিজুর রহমান ফয়সল, প্রশিক্ষণ সম্পাদক- অধ্যাপক আবদুল হালিম, মাওলানা নোমান মাযহারী, অর্থ ও আইন বিষয়ক সম্পাদক- এডভোকেট মো: মিজানুর রহমান, অধ্যাপক মো: আবদুল জলিল, মাওলানা তোফাজ্জল হোসেন, মাওলানা আজিজুল হক প্রমুখ।

বৈঠকে অভিমত ব্যক্ত করা হয় যে, জনমত ও পরিবেশবিদদের আপত্তি ও হুঁশিয়ারী সত্ত্বেও সরকার সুন্দরবন ও পরিবেশের জন্যে মারাত্মক ক্ষতিকর রামপাল কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণে বাংলাদেশের লাভের চেয়ে ক্ষতির পরিমান বেশী। পবিশেবিদদের অভিমত হচ্ছে, রামপালে ১৩২০ মেগাওয়াটের কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ হলে এখান থেকে নিয়মিতভাবে লক্ষ লক্ষ টন কার্বন ডাই-অক্সাইড, ফ্লাই এ্যাশ উৎপন্ন হবে। এতে সুন্দরবন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হবে। সুন্দরবনের জীববৈচিত্র বিনষ্ট হবে। বায়ু, পনি, মাটি, মাছ, গাছ মারত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হবে। স্থানীয় মানুষের জীবন ও অর্থনৈতিক কার্যক্রম ব্যাহত হবে। এ প্রকল্পে ১৫ ভাগ অর্থ বিনিয়োগ করে ৫০ ভাগ লাভ পাবে ভারতের ন্যাশনাল থারমাল পাওয়ার কোম্পনী- এনটিপিসি। এ প্রকল্পে বাংলাদেশের লাভের চেয়ে ক্ষতির পরিমান বেশী। পবিরেশের কথা বিবেচনা করে খোদ ভারতই এই কোম্পানীর একই প্রকল্প প্রস্তাব প্রত্যাক্ষান করেছে। কিন্তু ক্ষতিসত্বেও বাংলাদেশ সরকার রামপালে এ বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ করছে কার স্বার্থে? জনগণের দাবী হচ্ছে বাংলাদেশের জন্য অলাভজনক এবং পরিবেশ বিশেষ করে সুন্দরবনের জন্যে ক্ষতিকর রামপাল কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ বন্ধ করতে হবে। জনমতকে উপেক্ষা করে সরকার ভারতের স্বার্থে রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের কাজ অব্যাহত রাখতে চাইলে জনগণের আন্দোলন আরো ব্যাপক হবে।