কোথায় হারিয়ে গেল সে সোনালী দিন ?

ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম |

ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন (বিশিষ্ট আলেম, চিন্তাবিদ, গবেষক ও লেখক)


ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন
ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন

জানতে প্রবল আগ্রহী-

১.এ যুগে মুসলমানরা বিজ্ঞান চর্চায় পিছিয়ে কেন ?
২.এ যুগে নব আবিস্কারে মুসলমানদের কী কী অবদান আছে ?
৩. মুসলমানদের মেধা কী অন্যদের তুলনায় কম ?
৪.বিজ্ঞান চর্চায় মুসলমানদের এগিয়ে যাবার সম্ভাবনা কতটুকু?
৫.‘হারানো সভ্যতা ফিরে আসে না’ এ কথার যৌক্তিকতা কতটুকু?

এক সময় (৭৫০-১২৫৮খ্রি.) বিজ্ঞান চর্চায় মুসলমানরা ছিলেন বিশ্ববাসীর অগ্রদূত। তাঁদের আবিস্কার নিয়ে গোটা দুনিয়া গর্ব করেছে। মুসলিম বিজ্ঞানীদের লিখিত গ্রন্থ ল্যাটিনসহ বিভিন্ন ভাষায় অনুদিত হয়েছে। জ্ঞান-বিজ্ঞান অধ্যয়নের জন্য ইহুদি-খ্রিস্টান শিক্ষার্থীগণ দুরদেশ থেকে যেতেন মুসলিম শিক্ষকদের কাছে স্পেনে ও বাগদাদে। রসায়ন শাস্ত্রে জাবির ইবন হাইয়ান, চিকিৎসা শাস্ত্রে আর রাজি, ইবন সিনা, আল বেরুনি, উমর খৈয়াম, আল ইয়াকুবি, নাসিরুদ্দিন তুসি, খুরদাদবিহ, আল-মাসউদি, আল খাওয়ারিজমি বিজ্ঞান চর্চায় আসামান্য অবদান রাখতে সক্ষম হন। একা জাবির ইবন হাইয়ান রসায়ন শাস্ত্রের উপর ২২টি প্রামাণিক গ্রন্থ রচনা করেন। পাশ্চাত্য বিজ্ঞানীগণ স্বীকার করেন যে, রসায়ন শাস্ত্রের ২টি সূত্র উস্মীকরণ (Calcination) এবং লঘুকরণ (Reduction) সম্বন্ধে তিনি উচ্চাঙ্গের গবেষণাকর্ম বিশ্ববাসীকে উপহার দিয়েছেন। ইবনে সিনা (Avicenna) রচিত ‘কানুন ফিত তিব’ (Canon of Medicines) গ্রন্থে ৭৬০টি প্রয়োজনীয় ওষুধের বিষয়ে বিজ্ঞানসম্মত আলোচনা করেন। এ বিশাল গ্রন্থটি বিজ্ঞানী জিরার্ড দ্বাদশ শতাব্দীতে ল্যাটিন ভাষায় তরজমা করেন। ডক্টর অসলার বলেন, “এ গ্রন্থটি অন্য যে কোন গ্রন্থাপেক্ষা সর্বাধিক কাল ইউরোপে চিকিৎসা জগতে বাইবেল নামে অবহিত ছিল।”

কোথায় হারিয়ে গেল সে সোনালী দিন ?

আগের তুলনায় মুসলমানদের হাতে এখন অঢেল অর্থ-বিত্ত । গবেষণার সুযোগও যথেষ্ট। মেধাবী সন্তানও কম নেই। কিন্তু বিজ্ঞানের অগ্রযাত্রায় এবং নবতর আবিস্কারে কেন আমরা পিছিয়ে ? এর উত্তর জানা দরকার।


 ফেইসবুক থেকে