সুন্দরবন ধ্বংস করে উৎপাদিত বিদ্যুতের প্রয়োজন নেই : ড. কাদের

ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম |

unnamedখেলাফত মজলিস মহাসচিব ড. আহমদ আবদুল কাদের বলেছেন, পরিবেশের জন্যে ক্ষতিকর বিবেচনায় ভারতে প্রত্যাক্ষত এনটিপিসি’র বিদ্যুৎ কেন্দ্র সরিয়ে এনে বাংলাদেশের অমূল্য সম্পদ সুন্দরবন লাগোয়া রামপালে নির্মাণ কোনভাবেই মেনে নেয়া যায় না। এটা সম্পূর্ণ অনৈতিক। এছাড়া ভারতীয় বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান এনটিপিসি’র অতীত রেকর্ডও ভাল নয়। আমাদের বিদ্যুৎ দরকার কিন্তু পরিবেশ বিনষ্ট করে, সুন্দরবন ধ্বংস করে উৎপাদিত বিদ্যুতের প্রয়োজন নেই। এছাড়া রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণে অর্থিকভাবে লাভবান হবে ভারত। ডান-বাম নির্বিশেষে দেশের সকল দল ও সচেতন জনগণ রামপাল তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র বন্ধের জোর দাবী জানাচ্ছে। সুতরাং পরিবেশ ও সুন্দরবনের জন্যে ধ্বংসাত্মক দেশের জন্যে অলাভজনক রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। সরকার যদি জনগণের দাবীর প্রতি কর্ণপাত না করে, রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ চুক্তি বাতিল না করে তবে দেশবাসীকে নিয়ে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।

রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের ও নতুনকরে জ্বালানী গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির চেষ্টার প্রতিবাদে কেন্দ্র ঘোষিত কর্মসূচীর অংশ হিসেবে ঢাকা মহানগরী আয়োজিত মানববন্ধনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

আজ শুক্রবার সকাল ১০টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে খেলাফত মজলিস ঢাকা মহানগরী সভাপতি শেখ গোলাম আসগরের সভাপতিত্বে ও মাওলানা আজিজুল হকের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত মাবনবন্ধনে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন নায়েবে আমীর মাওলানা সৈয়দ মজিবুর রহমান।

অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় প্রশিক্ষণ সম্পাদক মাওলানা নোমান মাযহারী, অর্থ ও আইন বিষয়ক সম্পাদক এডভোকেট মুহাম্মদ মিজানুর রহমান, অধ্যাপক মুহাম্মদ আবদুল জলিল, মাওলানা তোফাজ্জল হোসেন, মহানগরীর সহসভাপতি ডাঃ রিফাত হোসেন মালিক, হাফেজ মাওলানা নূরুল হক, সহ-সাধারণ সম্পাদক খন্দকার সাহাব উদ্দিন আহমদ, তাওহিদুল ইসলাম তুহিন, হুমাযুন কবির আজাদ, মাওলানা সাইফউদ্দিন আহমদ খন্দকার, কাজী আরিফুর রহমান, আবদুর হাফিজ খসরু, আবুল হোসাইন, মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, এডভোকেট রফিকুল ইসলাম, মাওলানা ফারুক আহমাদ, ইলিয়াস হোসাইন প্রমুখ।

নায়েবে আমীর মাওলানা সৈয়দ মজিবুর রহমান বলেন, দেশের স্বার্থকে জলাঞ্জলি দিয়ে ভারতের জন্যে লাভজনক কোন কর্মকান্ড দেশপ্রেমিকের লক্ষ্যণ নয়। সুন্দরবন ঘেষে রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ বন্ধ করতে হবে।

ঢাকা মহানগরী সভাপতি শেখ গোলাম আসগর বলেন, গত ১ জুলাই গুলশানের ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার পরদিন দেশবাসীকে অন্ধকারে রেখে সরকার ভারতের সাথে রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ চুক্তি চূড়ান্ত করে। এভাবে দেশের জনগণকে অন্ধকারে রেখে দেশের জন্যে, পরিবেশের জন্যে, সুন্দরবনের জন্যে ক্ষতিকর রামপাল বিদ্যুৎ নির্মাণ চুক্তি বাতিল করতে হবে। সরকার নতুনকরে জাবালানী গ্যাসের দাম বাড়াতে চাচ্ছে, যা সম্পূর্ণ অনৈতিক ও সাধারণ জনগণের উপর জুলুমের শামিল। কারণ সারা বিশ্বে জ্বালানী তেলের দাম কয়েকগুন কমে গেছে। সুতরাং নতুন করে জ্বালানী গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির পায়তাঁরা বন্ধ করতে হবে।


আগামীকাল সারাদেশে প্রতিবাদ কর্মসূচী পালিত হবে


সুন্দরবন ও পরিবেশের জন্যে মারাত্মক ক্ষতিকর বাংলাদেশের স্বার্থবিরোধী রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের ও নতুনকরে জ্বালানী গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির চেষ্টার প্রতিবাদে কেন্দ্র ঘোষিত কর্মসূচীর অংশ হিসেবে আগামীকাল ২৭ আগস্ট শনিবার দেশব্যাপী প্রতিবাদ দিবস সফলে সারা দেশের জেলা ও মহানগরী শাখাসমূহে মানব বন্ধন, মিছিল, গোলটেবিল বৈঠক, সমাবেশ, মতবিনিময়, গণসংযোগ অথবা আলোচনা সভার কর্মসূচী অনুষ্ঠিত হবে হবে।