মার্চ ২৩, ২০১৭

জঙ্গি হামলার হোতা তামিম চৌধুরী চ্যাপ্টার শেষ : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম |

আসাদুজ্জামান খান কামালস্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেছেন, রাজধানীর গুলশান, কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়াসহ বিভিন্ন স্থানে জঙ্গি হামলায় অর্থ জোগানদাতা ও পরিকল্পনাকারী তামিম আহমেদ চৌধুরী আজকের অভিযানে নিহত হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে তামিম চৌধুরী চ্যাপ্টার (অধ্যায়) শেষ হয়েছে।

শনিবার (২৭ আগস্ট) সকালে ওই অভিযানে তামিম চৌধুরীসহ তিন জঙ্গি নিহত হন। এর পর দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ঘটনাস্থলে পৌঁছে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, গোপন তথ্যেই জানা গিয়েছিলো, তামিম চৌধুরী এখানে রয়েছেন। তার ভিত্তিতেই সোয়াটসহ যৌথ বাহিনীর এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

স্বরাষ্টমন্ত্রী জানান, গুলশান হামলার পেছনে ছিলেন তামিম চৌধুরী। ওই হামলার পরিকল্পনা তার, অর্থায়নও করেছিলেন। তিনি কানাডিয়ার নাগরিক।

তিনি বলেন, ‘আমাদের গোয়েন্দাদের কাছে খবর ছিল, তামিম চৌধুরী এ বাড়িটিতে আত্মগোপন করে আছেন। গোপন ওই সংবাদের ভিত্তিতে নিশ্চিত হয়ে রাত তিনটার দিকে বাড়িটি ঘেরাও করে রাখে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী’।

‘সকালে সোয়াট টিম আসার পর অভিযান শুরু হয়। এর আগে তাদেরকে বার বার আত্মসমর্পণ করতে বলা হচ্ছিল। তা না করে সারা রাতই পুলিশকে লক্ষ্য করে গ্রেনেড ও গুলি ছোড়ে তারা। আক্রান্ত হয়েও আমাদের বাহিনীগুলো ধৈর্যের পরিচয় দিয়েছে। পরবর্তীতে সকালে ফায়ার ওপেন করেছে’।

নিহত বাকি দু’জনের পরিচয় তদন্তের মাধ্যমে জানা যাবে বলেও জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘আমাদের কাছে যে খবর আছে, তারা তামিমের গুরুত্বপূর্ণ সহযোগী’।

কামাল বলেন, ‘আমাদের গোয়েন্দা বাহিনী তৎপর, খোঁজ না নিয়ে, নিশ্চিত না হয়ে আমরা এগোই না’।

জঙ্গিদের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এরা সংখ্যায় অল্প, জনবিচ্ছিন্ন। জনগণ এদের সমর্থন দেয় না। আমাদের গোয়েন্দারা কাজ করছেন। বাকি অল্প সংখ্যক যারা আছে, তাদেরকেও আমরা ধরে ফেলবো’।

গত পয়লা জুলাই রাত পৌনে ৯টার দিকে গুলশানে স্প্যানিশ রেস্তোরাঁ হলি আর্টিজান বেকারিতে হামলা চালায় বন্দুকধারীরা। হামলার পর রাতেই তারা ২০ জনকে হত্যা করে।

ওই দিন রাতে উদ্ধার অভিযানের সময় বন্দুকধারীদের বোমার আঘাতে নিহত হন পুলিশের দুই কর্মকর্তা। পরের দিন সকালে যৌথ বাহিনীর অভিযানে নিহত হয় পাঁচ হামলাকারী। ওই হামলায় মোট ২৯ জন নিহত হয়।

বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কানাডার নাগরিক তামিম আহমেদ চৌধুরী ও সেনাবাহিনীর বহিষ্কৃত মেজর সৈয়দ জিয়াউল হককে এ হামলার মূল পরিকল্পনাকারী এবং অর্থ ও অস্ত্রের জোগানদাতা বলে দাবি করেন আইজিপি এ কে এম শহীদুল হক। তিনি জানান, তামিম ও জিয়াকে গ্রেপ্তারে সহায়তা করলে ২০ লাখ টাকা করে পুরস্কার দেওয়া হবে।

গত ২ আগস্ট রাজধানীর পুলিশ সদর দপ্তরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে আইজিপি এ ঘোষণা দেন।