জানুয়ারি ১৯, ২০১৭

রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণে সুন্দরবনের ক্ষতি হবে না : প্রধানমন্ত্রী

ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম |

শেখ হাসিনা ওয়াজেদ (10)বাগেরহাটের রামপালে কয়লাভিত্তিক তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ হবে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আমরা এদেশের স্বাধীনতা এনেছি। আমরাই এ দেশের উন্নয়নে কাজ করছি। কাজেই এতটুকু আস্থা আমার ওপর রাখা উচিৎ। কোনো ক্ষতি হলে আমি অন্তত রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র করতাম না।

শনিবার বিকেলে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘দীর্ঘ দিন ধরে রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিরুদ্ধে আন্দোলন চলছে। আন্দোলনের খুঁটির জোর এতোদিন পাওয়া যায়নি। এবার আন্দোলনের খুঁটির জোর পাওয়া গেছে।’

তিনি বলেন, ‘বিএনপি নেত্রী রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে এসেছেন। আমার মনে হয় এটার মধ্যে ষড়যন্ত্র আছে। তাহলে এতোদিন বিএনপি নেত্রী বিরোধীতা করেননি কেন?’

তিনি আরো বলেন, ‘বিরোধীতাকারীরা বলছেন রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের কারণে নাকি সুন্দরবন ধ্বংস হয়ে যাবে। রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের কারণে সুন্দরবনের কোনো ক্ষতি হবে না। কয়লাভিত্তিক এ বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি নিয়ে ভিত্তিহীন, কাল্পনিক মনোভাব ছড়িয়ে দেয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিদ্যুৎ দেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বাংলাদেশে যে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো আছে তা প্রাকৃতিক গ্যাস নির্ভর। অদূর ভবিষ্যতের গ্যাসের সঙ্কট হবে। এজন্য কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র করা প্রয়োজন।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে গঠিত আওয়ামী লীগ সবসময় উন্নয়নের জন্য সংগ্রাম করেছে। জাতির অধিকার প্রতিষ্ঠায় কাজ করেছে। আওয়ামী লীগের লক্ষ্য মানুষের মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠিত করা। সরকার জনগণের সেবক, এটা আওয়ামী লীগই কাজের মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

এর আগে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের প্রয়াণদিবস স্মরণ করে সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য শুরু করেন প্রধানমন্ত্রী।

সংবাদ সম্মেলনের শুরুতেই সংক্ষিপ্ত বক্তৃতা করেন বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু। তারপর রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র নিয়ে একটি তথ্যচিত্র উপস্থাপন করেন বিদ্যুৎ বিভাগের পাওয়ার সেলের মহাপরিচালক মোহাম্মদ হোসাইন।

আন্তর্জাতিকভাবে গভীর বনভূমির ১০ কিলোমিটারের মধ্যে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ না করার আইন থাকার কথা মনে করিয়ে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের এই বিদ্যুৎ কেন্দ্র সুন্দরবনের প্রান্ত সীমানা থেকে ১৪ কিলোমিটার দূরে এবং বিশ্ব ঐতিহ্যের অংশ হতে প্রায় ৬৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।’

এই বিদ্যুৎ কেন্দ্র লাখ লাখ মানুষের জীবন-জীবিকা ধ্বংস করবে। খালেদা জিয়ার এমন বক্তব্যের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, ‘এ কথা মোটেই সত্য নয়। বরং, এটি নির্মিত হলে হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হবে।’

সুন্দরবনের উপর নির্ভরশীল মানুষের চুরি করে গাছ কাটার প্রয়োজন আর হবে না জানিয়ে তিনি বলেন, ‘কোম্পানি থেকে বছরে ৩০ কোটি টাকা সিএসআর ফান্ডে জমা হবে। তা দিয়ে এলাকার জনগণের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন কাজ করা হবে। লাখ লাখ মানুষ উপকৃত হবে।’

ভারতে বনাঞ্চলের ২৫ কিলোমিটার মধ্যে বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের আইনি বাধা রয়েছে। খালেদা জিয়ার এমন বক্তব্যের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, ‘ভারত একটি বিশাল আয়তনের দেশ। বাংলাদেশের মতো ঘনবসতিপূর্ণ দেশের সঙ্গে তুলনা সঠিক নয়।’

কয়লা পরিবহনের সময় সুন্দরবন এলাকায় শব্দ দূষণ এবং আলো দূষণ হবে, খালেদা জিয়ার এ মন্তব্যের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘শব্দ ও আলো দূষণ সর্বনিম্ন পর্যায়ে রাখার জন্য আমরা সব ধরনের ব্যবস্থা নিয়েছি। গভীর সমুদ্র হতে কভার্ড বার্জে কয়লা পরিবহন করা হবে। বার্জে ব্যবহৃত হবে ঢাকনাযুক্ত কম শব্দযুক্ত ইঞ্জিন। ফলে পরিবেশ দূষণের কোনো সম্ভাবনা নেই। রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রে শব্দ দুষণ নিয়ন্ত্রণ করার ব্যবস্থা থাকবে। ১৪ কিলোমিটার দূরে শব্দ যাবে না। ২০০ মিটারের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে।’

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে একটি কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্র বন্ধের কথাও বলেছিলেন খালেদা জিয়া, তার জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, ‘কিন্তু কত সংখ্যক কয়লাভিত্তিক প্ল্যায়ন্ট চালু আছে, তা কি তার জানা আছে?’

যুক্তরাষ্ট্রের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রায় ৪০ শতাংশ আসে কয়লা থেকে। সেখানে ৭ হাজারের বেশি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র চালু আছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

রামপালে উৎপাদিত বিদ্যুতের দাম আট দশমিক ৮৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে জানিয়ে খালেদা জিয়ার বক্তব্যকে ‘সম্পূর্ণ অসত্য কথন’ আখ্যাকয়িত করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘এ কেন্দ্র থেকে উৎপাদিত বিদ্যুতের দাম নির্ধারিত হবে কয়লার দামের উপর ভিত্তি করে।’