‘পরপর ৩ কন্যাশিশু জন্ম নেওয়ায় স্ত্রী তালাক, শিশুকেও বিক্রি’

ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম | নিজস্ব প্রতিনিধি


কুষ্টিয়া জেলার দৌলতপুর উপজেলায় পরপর ৩ কন্যা শিশু জন্ম নেওয়ায় স্ত্রীকে তালাক ও মাত্র ৯ দিনের কন্যা শিশুকে বিক্রি করে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনা ঘটেছে জেলার দৌলতপুর উপজেলার খলিসাকুন্ডি পাইকপাড়া গ্রামে।

জানা যায়, উপজেলার খলিসাকুন্ডি ইউনিয়নের পাইকপাড়ার হযরত আলীর ছেলে রবিউল ইসলামের সঙ্গে একই এলাকার রেজাউল হকের মেয়ে জেসমিনের বিয়ে হয়। পরে তাদের ঘরে পরপর ২টি কন্যা সন্তানের জন্ম হয়। গত ৭ নভেম্বর আবারও কন্যা শিশুর জন্ম নেয় জেসমিনের ঘরে। পরপর ৩ কন্যাশিশু জন্ম দেয়ায় জেসমিনকে তালাক দেয় রবিউল। পরে স্থানীয় মাতবররা মিলে ওই কন্যা শিশুকে ১ লাখ ৮০ হাজার টাকায় বিক্রি করে দেন একই এলাকার ঈদগাহ পাড়ার আইয়ুব আলীর কাছে।

এদিকে শিশু ও স্বামীর সংসার হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন জেসমিন। তিনি বলেন, ৩ টা বাচ্চা হওয়ায় আমাকে আমার স্বামী জোর করে স্থানীয়দের সহায়তায় তালাক দিয়েছে। সেই সঙ্গে আমার ৯ দিনের মেয়েকে স্থানীয় মাতবর বিক্রি করে দিয়েছেন।

জেসমিনের বাবা রেজাউল হক বলেন, কিছুদিন আগে রবিউল আমার এক আত্মীয়ের ছেলের বৌকে নিয়ে গিয়ে পালিয়ে বিয়ে করে। এরপর থেকেই আমার মেয়ের ওপর অত্যাচার করে আসছিল। আবার একটি মেয়ে হওয়ার পরে আমার মেয়েকে তালাক দেয়।

তিনি জানান, গত ৩ দিন আগে স্থানীয় মেম্বার শরিফুল, মন্ডল, খলিসাকুন্ডি পুলিশ ক্যাম্পের দালাল শহিদুল ইসলাম, খলিসাকুন্ডি স্কুলের লাইব্রেরিয়ান আসলাম তাদের সহযোগিতায় টাকার বিনিময়ে আমার মেয়েকে তালাক দিয়ে মাত্র ৯ দিনের কন্যা শিশুকে বিক্রি করে দেয়। আমার মেয়ে বাচ্চা দিতে রাজি না হওয়ায় তাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে তারা জোর করে নিয়ে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে তারা বিক্রি করে দিয়েছে।

দৌলতপুর থানার ওসি নজরুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি আমিও শুনেছি। তবে কেউ অভিযোগ করেনি। লিখিতভাবে অভিযোগ করলে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।