মীর কাসেম আলীর রিভিউ খারিজ, মৃত্যুদণ্ড বহাল

মীর কাসেম আলী

মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মীর কাসেম আলীর রিভিউ আবেদন খারিজ করে মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ।

প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের পাঁচ সদস্যের বেঞ্চ আজ মঙ্গলবার সকালে এই রায় ঘোষণা করেন।

বেঞ্চের অপর সদস্যরা হলেন বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন, বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী, বিচারপতি মির্জা হোসেইন হায়দার ও বিচারপতি মোহাম্মদ বজলুর রহমান।

মীর কাসেম আলীর আইনি লড়াইয়ে রিভিউ আবেদনই শেষ ধাপ। এই আবেদন নাকচ হওয়ায় তিনি রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষা চাইতে পারবেন। প্রাণভিক্ষা না চাইলে বা প্রাণভিক্ষার আবেদন নাকচ হলে তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকরে কোনো বাধা থাকবে না।

এর আগে গত রবিবার সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে এ রিভিউ আবেদনের শুনানি হয়।

প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার নেতৃত্বে পাঁচ বিচারপতির আপিল বেঞ্চে এ শুনানি চলে। অন্য বিচারপতিরা হলেন- বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন, বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী, বিচারপতি মির্জা হোসেইন হায়দার ও মোহাম্মদ বজলুর রহমান।

মীর কাসেমের পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে শুনানি করেন তার প্রধান আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।

এর আগে গত ২৪ আগস্ট আসামীপক্ষে সময় আবেদন নাকচ করে দিয়ে মীর কাসেম আলীর আইনজীবীকে শুনানি শুরুর নির্দেশ দেন প্রধান বিচারপতি। এরপরই মীর কাসেমের আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন শুনানি শুরু করেন।

এর মধ্য দিয়েই শেষ হলো মীর কাসেম আলীর মামলার চূড়ান্ত বিচারিক প্রক্রিয়া।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর দেওয়া মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখে গত ৮ মার্চ মীর কাসেম আলীর মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলার সংক্ষিপ্ত আকারে চূড়ান্ত রায় দেয় সর্বোচ্চ আদালত।

রায়ে মুক্তিযোদ্ধা জসিম উদ্দিনসহ ছয়জনকে হত্যা-গণহত্যার অভিযোগে ফাঁসির দণ্ডাদেশ বহাল রাখা হয় মীর কাসেম আলীর।

গত ১৯ জুন ৬৮ পৃষ্ঠার রিভিউ আবেদন করেন মীর কাসেম আলী। এতে ফাঁসির রায় বাতিল করে খালাস ও অভিযোগ থেকে অব্যাহতির আরজি জানান জামায়াতের এই শীর্ষ নেতা।

রিভিউ আবেদনে সর্বোচ্চ সাজার বিরুদ্ধে মোট ৬৮ পৃষ্ঠার আবেদনে ১৪টি কারণ দেখিয়ে মৃত্যুদণ্ড থেকে খালাস চেয়েছিলেন তিনি।

মীর কাসেম আলী তার বিরুদ্ধে আনা সকল অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। জামায়াতে ইসলামী একে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বিচার বলছে। জাতিসংঘ এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোও বিচারের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।