জানুয়ারি ১৯, ২০১৭

বুধবার সারাদেশে জামায়াতের হরতাল

ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম |

হরতাল১

মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মীর কাসেম আলীর ফাঁসি বহাল রাখার প্রতিবাদে বুধবার দেশব্যাপী সকাল-সন্ধ্যা হরতালের ডাক দিয়েছে দলটি।

মঙ্গলবার জামায়াত নেতা মীর কাসেম আলীর রিভিউ আবেদন খারিজ করে মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ।

এর পরপরই রায়ের প্রতিক্রিয়ায় গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে জামায়াতে ইসলামীর ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল ডা. শফিকুর রহমান এই হরতালের ডাক দেন।

বিবৃতিতে তিনি মীর কাসেম আলীকে একজন ইসলামী অর্থনীতিবিদ, সমাজ সেবক এবং মিডিয়া ব্যক্তিত্ব বলে উল্লেখ করেন।

ডা. শফিকুর রহমান অভিযোগ করেন, ‘সরকার পরিকল্পিতভাবে ষড়যন্ত্র করে জামায়াতের শীর্ষ নেতৃবৃন্দকে একের পর এক হত্যা করছে। সরকারের সেই ষড়যন্ত্রের শিকার মীর কাসেম আলী। সরকার তথাকথিত মানবতা বিরোধী অপরাধে জড়িত থাকার মিথ্যা, বায়বীয় ও কাল্পনিক অভিযোগে মীর কাসেম আলীর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক মামলা দায়ের করে নিজেদের দলীয় লোকদের দ্বারা আদালতে মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়ায়ে তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যার ষড়যন্ত্র করছে।’

মীর কাসেম আলী ন্যায় বিচার থেকে বঞ্চিত হয়েছেন মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘আদালত সরকারের দায়ের করা মিথ্যা মামলায় সাজানো সাক্ষীর ভিত্তিতে তাকে মৃত্যুদণ্ড প্রদানের রায় ঘোষণা করেছে। এ রায়ে তিনি ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।’

মীর কাসেম আলীর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের সাথে তার কোনো সংশ্লিষ্ঠতা নেই উল্লেখ করে জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, ‘তার বিরুদ্ধে সরকারের আনীত অভিযোগের সাথে তার কোনো ধরনের সংশ্লিষ্টতাও নেই। সরকার পক্ষ আদালতে জনাব মীর কাসেম আলীর বিরুদ্ধে যে সব ডকুমেন্ট দাখিল করেছেন সেখানে মীর কাসেম আলীর নাম নেই। অভিযোগে ঘটনার স্থান, সময় এবং যে তারিখ উল্লেখ করা হয়েছে সরকারের দাখিল করা ডকুমেন্ট অনুযায়ী ঐ সময়ে জনাব মীর কাসেম আলী ঐ স্থানে উপস্থিত ছিলেন না’

‘তিনি তখন ঢাকায় ছিলেন। মীর কাসেম আলী তার ঢাকায় অবস্থানের প্রমাণ আদালতে উপস্থাপন করেছেন। তাতে সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয় যে, অভিযোগ সংঘটিত হওয়ার সময়ে মীর কাসেম আলী ঢাকায় ছিলেন, চট্টগ্রামে ছিলেন না। চট্টগ্রামের ঘটনাস্থলে তার অনুপস্থিতির প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও সরকার পক্ষ তার বিরুদ্ধে মিথ্যা সাক্ষ্য প্রদান করিয়ে তাকে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করার ব্যবস্থা করেছে।’

তিনি আরো অভিযোগ করেন, ‘জনগণ সরকারের দায়ের করা মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রমূলক মামলার রায় গ্রহণ করেনি। সরকার রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার জন্য বিচারের নামে যে প্রহসনের আয়োজন করেছে দেশে-বিদেশে তার কোনো গ্রহণযোগ্যতা নেই। সরকারের মন্ত্রী ও দলীয় নেতাগণ বিভিন্ন সময়ে দেশের সর্বোচ্চ আদালতের বিচারপতিদের লক্ষ্য করে যে বক্তব্য রেখেছেন তা আদালতের ওপর এক নগ্ন চাপ সৃষ্টি করা ছাড়া আর কিছু নয় বলে দেশের জনগণ মনে করে। সরকারের প্রভাবে মীর কাসেম আলী ন্যায় বিচার থেকে বঞ্চিত হয়েছেন বলে তার পরিবার-পরিজন মনে করেন।’

বিবৃতিতে এই জামায়াত নেতা বলেন, ‘ট্রাইবুনালের বিচার থেকে শুরু করে রিভিউ পর্যন্ত এ মামলার বিভিন্ন স্তরে সরকারের পক্ষ থেকে দফায় দফায় বিচারকে প্রভাবিত করার জন্য অবাঞ্ছিত ভূমিকা পালন করা হয়েছে। সরকারের এ ভূমিকা বিচার বিভাগের ইতিহাসে একটি কলঙ্কজনক অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে।’

ঘোষিত হরতাল কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণভাবে সফল করতে জামায়াতে ইসলামীর সকল শাখা এবং কৃষক, শ্রমিক, ছাত্র, শিক্ষক, বুদ্ধিজীবী, সুশীলসমাজ ও পেশাজীবীসহ সাধারণ জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ডা. শফিকুর রহমান।

হরতাল চলাকালে অ্যাম্বুলেন্স, লাশবাহী গাড়ী, হাসপাতাল, ফায়ার সার্ভিস, হজ্জ্বযাত্রীদের বহনকারী যানবাহন ও সংবাদপত্রের সাথে সংশ্লিষ্ট গাড়ি হরতালের আওতামুক্ত থাকবে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।