চট্টগ্রামে কারখানায় বিস্ফোরণের জন্য প্রকৌশলীসহ শীর্ষ কর্তারা দায়ী

ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম |

149737_191কর্মকর্তা কর্মচারীদের চরম অবহেলা, যন্ত্রপাতি অকেজো অবস্থায় দীর্ঘদিন পড়ে থাকা, দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলী ও কর্মচারিদের প্রশিক্ষণ না থাকার কারণেই গত ২২ অগাস্ট ডিএপি সারকারখানা এ্যামোনিয়া গ্যাস ট্যাংকে বিস্ফোরণ ঘটে বলে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসন গঠিত তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

বুধবার দুপুরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সামনে এ তদন্ত প্রতিবেদন তুলে ধরেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মেজবাহ উদ্দিন ও তদন্ত কমিটির প্রধান অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মামুনুর রশিদ।

তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ্যামোনিয়া ট্যাংক শীতল রাখার জন্য ও এর নিরাপত্তার জন্য রেফ্রিজারেশন কম্প্রেসার সিস্টেম, প্রেসার গজ সহ ৫ ধরণের সুরক্ষা যন্ত্র দীর্ঘদিন অকেজো হয়ে পড়ে থাকার কারণেই মূলত আনোয়ারা উপজেলায় অবস্থিত ডিএপি সার কারখানায় ট্যাংক বিস্ফোরণ ঘটে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ট্যাংকের তাপমাত্রা ও চাপ মাপার জন্য আধুনিক এবং স্বয়ংক্রিয় ডিসিএস সিস্টেম রয়েছে। এই সিস্টেমে দু’টি প্রেসার ট্রান্সমিটারের মাধ্যমে ট্যাংকের গ্যাসের চাপ দু’টি কম্পিউটারে প্রদর্শিত হয়। যার একটি দীর্ঘদিন ধরেই অকেজো হয়ে পড়ে রয়েছে। অপরটি দুর্ঘটনার আগের দিন নষ্ট হয়ে যায়। এ ছাড়া কী পরিমাণ গ্যাস ট্যাংকে রয়েছে বা অতিরিক্ত চাপ হলে তা বের করে দেয়ার জন্য দুটি স্বয়ংক্রিয় প্রেসার ভেন্ট ও ফ্লেয়ার সিস্টেম রেয়েছে। দুর্ঘটনার সময় এ দু’টি সহ সেটিও বন্ধ পাওয়া যায়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, দুর্ঘটনার সময় ৫ শ মেট্রিক টন ধারণ ক্ষমতা সম্পন্ন ট্যাংকে ৩৪০ টন তরল এ্যামোনিয়া গ্যাস ছিল। একদিকে ট্যাংকের নিরাপত্তা যন্ত্রপাতি নষ্ট অপরদিকে মাত্রাতিরিক্ত গ্যাসের চাপ সইতে না পেরে ট্যাংকে বিস্ফোরণ ঘটে এবং এটি প্রায় ২০ ফুট দূরে গিয়ে পড়ে। ফলে এলাকায় পরিবেশগত সমস্যা দেখা দেয়। রাতেই ৫২ জনকে চমেকে ভর্তি করতে হয়। গ্যাস ছড়িয়ে পড়ায় আশ-পাশের জলাশয় গুলোতে বিপুল পরিমাণ মরা মাছ ভেসে উঠে।

তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, ডিএপি কারখানার সকল নিরাপত্তা সিস্টেম অকেজো হয়ে থাকার পরও তা মেরামতের উদ্যোগ নেননি দায়িত্বে থাকা উপ প্রধান প্রকৌশলী দিলীপ কুমার বড়ুয়া এবং জিএম টেকনিকেল ও মেইনটেনেন্স মো. নকিবুল ইসলাম। এ জন্য তাদের দুর্ঘটনার জন্য তাদের গাফেলতিকে দায়ী করা হয়।

কমিটি ডিএপি’কে একটি জবাবদিহী বিহীন প্রতিষ্ঠান উল্লেখ করে প্রতিষ্ঠানের সকল কাজ কর্মে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন বলে মতামত দেয়। এছাড়া কমিটি ভবিষ্যতে দুর্ঘটনা এড়ানোর জন্য আরো ৪টি সুপারিশ করে।

এর মধ্যে রয়েছে- ডিএপি’র ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন ও আন্ত:বিভাগীয় সমন্বয় সাধন, ড্যাপের ক্রয়, মেরামত ও অন্যান্য বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা ব্যবস্থাপকের উপর ন্যাস্ত করা, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে চেইন অব কমান্ড শক্তিশালী করা, এবং নিজস্ব ফায়ার ফাইটিং ও সেফটি ইউনিট তৈরি করা।