আমাদের মধ্যে অনেকে এমপি হওয়ার মোহে হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে ফেলেছে | মাওলানা মামুনুল হক

ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম | সোস্যাল মিডিয়া ডেস্ক


মাওলানা মামুনুল হক | সভাপতি : যুব মজলিস


দিল্লী কা লাড্ডু!

১৯৯০ এর স্বৈরাচার পতনের পর বাংলাদেশে যখন প্রথমবারের মত নিরপেক্ষ নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি হয়, ইসলামপন্থী সমমনা সবগুলো -মোট ছয়টি দল মিলে গঠিত হয়েছিল ইসলামী ঐক্যজোট ৷ ৯১ এর নির্বাচনে নিজস্ব প্রতীক মিনার নিয়ে নির্বাচিত হন মাওলানা ওবায়দুল হক রহমাতুল্লাহি আলাইহি ৷ ৯৬ এর নির্বাচনেও ইসলামী ঐক্যজোট ব্যপকভাবে প্রার্থী দেয় ৷ ঐ নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে ২০ বছর পর ক্ষমতায় আসে আওয়ামীলীগ ৷ ৯৬ থেকে ২০০১ আওয়ামীলীগের ঐ পাঁচবছরের আমল ছিল বাইতুল মুকাররমের মিম্বর থেকে হাইকোর্ট পর্যন্ত ইসলাম বিরোধিতা ও আলেম-ওলামাদেরকে দমন করার কালো সময় ৷ ইসলামী ঐক্যজোটের কর্মসূচীগুলোতে সরাসরি আওয়ামীলীগের দলীয় ক্যাডারদের সাথে সংঘাত-সংঘর্ষের ঘটনা ছিল স্বাভাবিক ব্যাপার ৷ এককভাবে রাষ্ট্রযন্ত্রের নির্যাতন মোকাবিলায় হিমশিম খেতে হয় ঐক্যজোটকে ৷ সেই সময়ে চারদলীয় জোট গঠনের উদ্যোগ শুরু হলে তাতে শামিল হয় ইসলামী ঐক্যজোট ৷ তৎকালীন সরকারের জুলুম থেকে আত্মরক্ষার প্রয়োজনে সর্বদলীয় প্রতিরোধমোর্চা হিসাবেই আত্মপ্রকাশ ঘটে চারদলের, যা শেষ পর্যন্ত ঐক্যবদ্ধ নির্বাচনে গড়ায় ৷ নির্বাচনের আগে এরশাদ চারদল থেকে বেরিয়ে যায় ৷ এদিকে জোটবদ্ধতায় অনিয়মের প্রশ্নে ইসলামী ঐক্যোজট ছেড়ে বেরিয়ে যান পীর সাহেব চরমোনাই রহঃ ৷ জোটবদ্ধতার হাওয়ায় ভাসতে থাকা নির্বাচনী পরিবেশে জাতীয় পার্টির সাথে জোট হয় ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলনের ৷

২০০১ এর সেই নির্বাচনী প্রক্রিয়া ইসলামপন্থীদের একটি সাময়িক প্রক্রিয়া ছিল, স্থায়ী কোনো ব্যবস্থা অবশ্যই নয় ৷ ইসলামী ঐক্যজোটের কান্ডারী হযরত শাইখুল হাদীস রহঃ স্বাভাবিক ক্ষেত্রে এভাবে অন্যের নমিনেশন ও প্রতীকে নির্বাচন করাকে পছন্দ করতেন না ৷ বিষয়টি আমার প্রত্যক্ষ করার সুযোগ হয়েছে ঘনিষ্টভাবে ৷ ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে হযরত শাইখ রহঃ ইসলামী ঐক্যজোটের ব্যনারে প্রার্থী দাড় করানোর জন্য বিশেষ প্রচেষ্টা চালিয়েছিলেন ৷ নিজের ছাত্র-শিশ্যদের মধ্যে যারা বিভিন্ন এলাকায় প্রভাবশালী ছিল, তাদেরকে ডেকে ডেকে নির্বাচনে দাড় করিয়েছেন ৷ সিরাজগঞ্জে শাইখের ছাত্র একজন প্রভাবশালী আলেমের ব্যপারে সংবাদ পেলেন, তিনি বিএনপির নমিনেশনে নির্বাচন করার চিন্তা করছেন ৷ শাইখ তাকে ডেকে বললেন অন্যের আশ্রয়ে নির্বাচন করে পাশ করলেও কোনো প্রভাব সৃষ্টি করতে পারবে না ৷ আমাদের নিজস্ব ব্যানারে নির্বাচন কর ৷

২,
আমাদের অনেকের মধ্যেই এমপি হওয়ার একটা মোহ ছড়িয়ে পড়েছে ৷ স্বপ্নের মত এই মোহ তাদেরকে কেমন যেন একটা ঘোরের মধ্যে ফেলে দিয়েছে ৷ এমপিগিরির স্বপ্নে তারা এতটাই বিভোর হয়ে পড়েছে যে, কেউ কেউ তো হিতাহিত জ্ঞানও হারিয়ে ফেলেছে ৷ তাদের ধারণা, যে কোনো উপায়ে যদি এমপিটা হয়ে যা-ও-য়া যা-য়! তাইলে আর কি? আমাকে আর কে পায়?

আমি বুঝি না, বিচ্ছিন্ন দু-চারজন, তাও আবার অন্যের উপর পরিপূর্ণ নির্ভরশীল হয়ে সংসদে গেলে কী অসাধ্যটা তারা সাধন করে ফেলবেন? হ্যাঁ নিজেদের জনসমর্থন, শক্তমত্তা ও স্বকীয় অবস্থান থেকে একটা পর্যায়ে উপনীত হওয়ার পর অন্যদের সাথে লেয়াঁজো করে বা না করে এমপি হতে পারলে একটা কিছু হয় ৷ কিন্তু না আছে সেই জনসম্পৃক্ততা, না আছে নিজস্ব শক্তিশালী অবস্থান, আছে শুধু ফাঁক চান্সে এমপি হওয়ার খাহেশ !
জাতি ও মিল্লাতের খেদমতে কাজ করতে চাইলে এমপি হয়ে যেমন করা যায়, এমপি না হয়েও কি করা যায় না ? মুফতী আমিনী রহঃ এমপি হয়েছেন, আর শাইখুল হাদীস রহঃ এমপি হননি, এমপি হওয়া না হওয়া কি রাজনীতিতে তাদের ভূমিকাকে খুব বেশি প্রভাবিত করেছে? আজকের জাতীয় রাজনীতিতে মুফতী ওয়াক্কাস সাহেব সাবেক এমপি, সামনেও সম্ভাব্য এমপি, ওদিকে আল্লামা নূর হুসাইন কাসেমী সাবেক বা সম্ভাব্য কোনো রকম এমপিই নন, এতে জাতীয় রাজনীতিতে তাদের প্রভাবে কি খুব পার্থক্য থাকছে?

আমি বলতে চাচ্ছি, এমপি হতে কোনো সমস্যা নেই, কিন্তু অনেকের যেমন ধারণা, কোনো সুযোগে এমপি হয়ে যাওয়া মানে আলাদিনের চেরাগ হাতে পেয়ে যাওয়া, যেই চেরাগের মাধ্যমে রাজনৈতিক দৈত্য বশিভূত করে অসম্ভবকে সম্ভব করে ফেলা যাবে – এটা একটা ফালতু বাতিক, যা আজ আমাদের মধ্যে সংক্রমিত হচ্ছে, এটা এক ধ্বংসাত্মক প্রবণতা ৷ বুড়ো গুড়ো নির্বিশেষে অনেকেই আজ এই সংক্রমনের শিকার ৷ অনেক ভাবগম্ভির মানুষকে পর্যন্ত আজ এই সংক্রমিত প্রবণতা হাস্যস্পদে পরিণত করেছে ৷ এমন অনেক বড় বড় ব্যক্তি আজ ল্রেফ হাসির পাত্র! তারা শুধু একটা কথাই জেনেছে, নৌকা বা ধান পেলেই এমপি হওয়া যায়, কিন্তু তারা এটা জাননেনি বা জানার চেষ্টাও করেনি যে, এমন সদকার এমপিদেরকে যুবলীগ ছাত্রলীগ আর যুবদল ছাত্রদলের ক্যাডাররা কীভাবে থাপ্রায়!

আমি শংকিত আমাদের অনেক নিয়ত এমপিদেরকে নিয়ে, নমিনেশন না পাওয়ার হতাশায় কেউ স্ট্রোক করে বসে কি না! কিংবা মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে উম্মাদ হয়ে যায় কি না! এ এক বিস্ময়কর দিল্লীর লাড্ডু ! জো খায়া ওহ ভী পস্তায়া ! জো না খায়া ওহ ভী পস্তায়া!!

ফেসবুক থেকে


চলছে ইনসাফ শো | পর্ব : ৫৫

ইনসাফ সম্পাদক সাইয়েদ মাহফুজ খন্দকারের (Mahfuj Khandakar) সঞ্চালনায় চলছে ইনসাফ শো।অতিথি : মাওলানা জুনাইদ আল হাবীবসহসভাপতি : জমিয়তে উলামায়ে ইসলামপর্ব : ৫৫

Posted by insaf24.com on Saturday, November 24, 2018