ভারতে ফ্যাসিবাদের উত্থান: অধ্যাপক গিলানীকে গ্রেপ্তার

professor-sar-geelaniভারতের হিন্দুত্ববাদী বিজেপির শাসনে ফ্যাসিবাদের উত্থানের ঘটনায় এবার দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক এসএআর গিলানিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার ভোরে দিল্লি পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করেছে। তার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলার অভিযোগ আনা হয়েছে।

আজ ভোরে পার্লামেন্ট সড়কস্থ পুলিশ স্টেশনে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে।

পুলিশ বলছে, ২০০৩ সালে দিল্লী পার্লামেন্ট হামলার ঘটনায় ফাঁসিতে হত্যার শিকার সংখ্যালঘু মুসলিম আফজাল গুরুর সমর্থনে এ বছরের গত ১০ ফেব্রুয়ারি প্রেস ক্লাবে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছেন অধ্যাপক গিলানী।

এর আগে অধ্যাপক গিলানিকেও পার্লামেন্ট হামলা মামলায় ফাঁসানোর চেষ্টা করেছিল ভারতীয় পুলিশ। কিন্তু এ মামলায় তিনি সম্পূর্ণ নির্দোষ হিসেবে খালাস লাভ করেছেন।

এদিকে এই অধ্যাপককে গ্রেপ্তারের আগে জওহরলাল নেহেরু বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদের সভাপতি কানহাইয়া কুমারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

গত ১০ ফেব্রুয়ারি দিল্লি প্রেসক্লাবে একদল যুবক আফজাল গুরুর সমর্থনে ভারত বিরোধী স্লোগান দিলে অধ্যাপক গিলানিসহ অজ্ঞাতদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ, ষড়যন্ত্র এবং বেআইনি সমাবেশ করার অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়।

পুলিশ বলছে, অধ্যাপক গিলানি ওই অনুষ্ঠানের মূল আয়োজক। একজন উর্দ্ধতন পুলিশ কর্মকর্তা বলেছেন, ‘গিলানির ই-মেইল থেকে অনুষ্ঠান স্থলটি বুকিং দেয়ার অনুরোধ আসে। অনুষ্ঠানটিকে পাবলিক মিটিং বলা হলেও এটি মোটেও সেরকম ছিল না’।

২০০১ সালে ভারতের পার্লামেন্ট হামলায় জড়িত সন্দেহে প্রফেসর গিলানিকে গ্রেপ্তার করা হলেও অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত হওয়ায় ২০০৩ সালে উচ্চ আদালত তাকে মামলাটি থেকে অব্যাহতি প্রদান করে।

একই অভিযোগে ২০১৩ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি আফজাল গুরুকে ফাঁসি দেয়া হয়। ভারতের খ্যাতিমান লেখিকা অরুন্ধতী রায়সহ বহু মানবাধিকারকর্মী আফজাল গুরুর বিচারে গুরুতর ত্রুটির কথা তুলে ধরে প্রহসনের বিচারে তাকে ফাঁসি দেয়া হয়েছে বলে মন্তব্য করেছিলেন। সূত্র: এনডিটিভি