আল্লামা বাবুনগরী আহবান

আল্লামা বাবুনগরী আহবান

“হাটহাজারীতে বেফাক মানববন্ধন অনুষ্ঠিত”

সবধরণের অপরাধের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানালেন

আল্লামা বাবুনগরী


বেফাক-ঘোষিত-মানববন্ধ-ইসলামের নামে গুলশান, শোলাকিয়াসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বিদেশী, অমুসলিম ও ধর্মীয় ব্যক্তিত্বদের টার্গেট করে একের পর এক নৃশংস হত্যাকান্ডসহ সকল প্রকার খুন, গুম, অপহর ও দুর্নীতির প্রতিবাদে বাংলাদেশ কওমী মাদ্রাসা শিক্ষাবোর্ড (বেফাক)এর আহ্বানে আজ (১ সেপ্টেম্বর) সন্ত্রাস ও জঙ্গীবাদ বিরোধী মানববন্ধন করেছে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় কওমী মাদ্রাসা দারুল উলূম হাটহাজারী মাদ্রাসার ছাত্ররা।

প্রখ্যাত মুহাদ্দিস আল্লামা হাফেজ মুহাম্মদ জুনাইদ বাবুনগরী’র নেতৃত্বে হাটহাজারী মাদ্রাসার ছাত্ররা সকাল সাড়ে ১০টা থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত আধঘণ্টা ব্যাপী মাদ্রাসার সামনে চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি সড়কে মানববন্ধন কর্মসূচী পালন করে। উত্তরের নূর মসজিদ থেকে শুরু হয়ে হাটহাজারী কাছারি সড়ক পর্যন্ত সারিবদ্ধভাবে ব্যানার নিয়ে মাদ্রাসার ছাত্ররা দাঁড়িয়ে থেকে সকল প্রকার সন্ত্রাস ও জঙ্গীবাদের বিরুদ্ধে তাদের দৃঢ় অবস্থান জানান দেয়।

মানববন্ধনের সময় দারুল উলূম হাটহাজারী মাদ্রাসার মুহাদ্দিস, মুফতী ও শিক্ষকবৃন্দ ও ছাত্র প্রতিনিধি তাদের বক্তব্যে বলেন, দেশে কার্যকর শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্যে সবার আগে রাষ্ট্রীয় পর্যায় থেকে হুমকি-ধমকি, আইন-আদালত ও বন্দুকের ভয় দেখানোর পরিবর্তে সর্বক্ষেত্রে ন্যায় ও ইনসাফের চর্চা, আইনের নিরপেক্ষ প্রয়োগ, ঘুষ-দুর্নীতি উচ্ছেদসহ মানুষের মৌলিক অধিকার হরণ ও রাজনৈতিক কাদাছোঁড়াছুড়ি বন্ধ করতে হবে। তারা আশংকা প্রকাশ করে বলেন, রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে সুবিচার প্রতিষ্ঠা ছাড়া সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে কার্যকর ফল অর্জন করা কঠিন হতে পারে। দেশ ও জনগণের স্বার্থে সন্ত্রাস উৎখাত যেমন জরুরী, তেমনি নাগরিকদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। দেশে কাঙ্খিত শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার জন্যে দুইটা বিষয়কেই সমান গুরুত্ব দিতে হবে।

মানব বন্ধনে হাটহাজারী মাদ্রাসার ছাত্রদের সাথে শরীক ছিলেন দারুল উলূম হাটহাজারী মাদ্রাসার প্রখ্যাত মুহাদ্দিস ও হেফাজতে ইসলামের মহাসচিব আল্লামা হাফেজ মুহাম্মদ জুনায়েদ বাবুনগরী, হাটহাজারী মাদ্রাসার মুখপত্র মাসিক মুঈনুল ইসলাম পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদক মাওলানা মুনির আহমদ, সিনিয়র শিক্ষক মাওলানা নূরুল ইসলাম, মাওলানা রাশেদুল ইসলাম, মাওলানা আবু আহমদ প্রমুখ।

বেফাক-ঘোষিত-মানববন্ধ-1মানব বন্ধনের সময় আল্লামা হাফেজ মুহাম্মদ জুনায়েদ বাবুনগরী বলেন, আমরা সন্ত্রাসবাদ ও ইসলামবিরোধী নাস্তিক্যবাদ কোনটাই সহ্য করব না। আমরা সন্ত্রাসবাদকে যেমন ঘৃণা করি, প্রত্যাখ্যান করি, প্রতিরোধের ও উৎখাতের আহ্বান জানাই, আমাদের একই অবস্থান ইসলাম বিদ্বেষী নাস্তিক্যবাদিদের বিরুদ্ধেও। আমরা বোমাবাজি, খুন, গুম, অপহরণ, সন্ত্রাসী হামলা, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, দুর্নীতি এবং বেছে বেছে বিদেশী, অমুসলিম, ইমাম-খতীবসহ অন্যান্য ধর্মীয় ব্যক্তিত্বদের টার্গেট করে যে খুনাখুনির ঘটনা ঘটছে, তার যেমন কঠোর নিন্দা ও প্রতিবাদ করি। তেমনি দাড়ি-টুপি-হিজাব বিরোধী অপতৎপরতা, উলামা-মাশায়েখের বিরুদ্ধে অপপ্রচার, ওয়াজ ও তাফসীর মাহফিলে প্রতিবন্ধকতা, ধর্মহীন শিক্ষানীতি, স্কুল পাঠ্যবইয়ে নাস্তিক্যবাদ ও হিন্দুত্ববাদের শিক্ষাদান এবং জুমার খুতবায় হস্তক্ষেপসহ সকল ইসলামবিরোধী নীতিরও তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।

তিনি বলেন, এখন দ্বিমুখী নীতিতে দেশ পরিচালিত হচ্ছে। একদিকে নাগরিক অধিকার হরণ, ঘুষ-দুর্নীতি ও ত্রাসের রাজত্ব কায়েম, ধর্মের বিরুদ্ধে একের পর এক অব্যাহত আঘাত হেনে মামলাবাজি ও বন্দুকের ভয় দেখিয়ে নাগরিকদের কণ্ঠকে স্তব্ধ করে গভীর ক্ষোভ ও হতাশা তৈরী করা হচ্ছে। অন্যদিকে সন্ত্রাস, বোমাবাজি ও হত্যাকান্ডের বিরুদ্ধে নাগরিক প্রতিরোধের কথাও বলা হচ্ছে। তিনি বলেন, সন্ত্রাসী ও জঙ্গীবাদিরা যেমন দেশের ভয়াবহ ক্ষতি করছে, তেমনি নাগরিকদের মৌলিক অধিকার হরণ ও বন্দুকের ভয় দেখিয়ে দেশে লুটপাটের রাজত্ব কায়েম করে শাসক মহলও দেশে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করছে। তিনি বলেন, আমরা মানুষকে সকল ধরণের অন্যায়, অপরাধ ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানাই।

আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী বলেন, গত ১৯ জুলাই গণভবনের এক অনুষ্ঠানে জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘সন্তানদেরকে ধর্মীয় শিক্ষা দিন। তারা যাতে সঠিকভাবে ধর্মীয় শিক্ষা পায়, সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। কেননা সব ধর্মই শান্তির কথা বলে’। কিন্তু ২০১০ সালের ধর্মহীন শিক্ষানীতি বহাল রেখে কীভাবে সন্তানদেরকে ধর্মীয় শিক্ষায় শিক্ষিত করা সম্ভব, সেটা বলেননি।unnamed