এটাতো বন্ধুত্বের নিদর্শন হতে পারে না : খালেদা জিয়া

ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম |

1611348060004_nবিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বলেছেন, সাত বা দশ দিনের ট্রায়ালের কথা বাংলাদেশের অনুমতি নিয়ে ফারাক্কা ব্যারাজ চালু করেছিল ভারত। অথচ তারা এখন পর্যন্ত এ ব্যারাজটি বন্ধ করে নাই। এটাতো বন্ধুত্বের নিদর্শন হতে পারে না।

বৃহস্পতিবার বিকালে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউশন, বাংলাদেশ (আইইবি) মিলনায়তনে দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর সভায় তিনি এ কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানকে স্মরণ করে খালেদা জিয়া বলেন, এই অঞ্চলের সবার সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তোলার জন্য জিয়াউর রহমান সার্ক গড়ে তুললেন।তিনি (জিয়াউর রহমান) বললেন, আমরা আমাদের সমস্যা সার্কের মাধ্যমে সমাধান করতে পারব। তিনি সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব চেয়েছেন। তবে তিনি বলেছেন, সদ্য স্বাধীন দেশ, কিন্তু সবার সামনে মাথা উঁচু করে থাকবে। আমরা কারো কাছে মাথা নিচু করব না। আমরা এগিয়ে যাব। সেভাবেই তিনি তার কাজগুলো করেছিলেন। আমরাও তার (জিয়াউর রহমানের) ধারাবাহিকতায় এগিয়ে যাচ্ছি।

বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, আমরা সবার সঙ্গে সুসম্পর্ক, বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রাখতে চাই। তবে কারো কাছে মাথা নত করে, চুপিসারে কাউকে কিছু দিয়ে, ক্ষমতায় থাকার জন্য আমরা কিছু করিনি, করবও না। আর কেউ করলেও আমরা সমর্থন করতে পারি না।

খালেদা জিয়া বলেন, আজ দেশে বহুবিধ সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে। কিন্তু নদীতে পানি বণ্টন চুক্তি একমাত্র জিয়াউর রহমানের আমলেই (পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে) পানির হিস্যা যতটুকু আমাদের পাওয়ার কথা ঠিক ততটুকুই নিয়েছিলেন। এই সম্পর্কটা জিয়াউর রহমান করতে পেরেছিলেন, যা অন্য কেউ পারেনি।

আওয়ামী লীগকে ইঙ্গিত করে বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, তারা অনেক কিছুই বিসর্জন দিয়েছে। অথচ পানি এখন আমরা (প্রয়োজনের সময়) পাইনি। বর্ষাকালে সবগুলো গেইট খুলে দেয়া হয়। এতে বাংলাদেশ প্লাবিত হয়। আর শুকনো মওসুমে যতটুকু পানি পাওয়ার কথা তা-ও পাইনি।তখন পানির অভাবে খরা হয়।এজন্য বন্ধু বলে যে অন্যায়ের প্রতিবাদ করবো না-সেটাতো সত্যিকারের বন্ধুত্ব নয়। এজন্য আলোচনা করে নিজেদের প্রাপ্যটা আদায় করা উচিত। সেটা আমরা অন্য কোন দলের মধ্যে দেখিনি।শুধু বিএনপি এটা করেছে। বিএনপি এটা চায়।

খালেদা জিয়া বলেন, আমরা মারামারি ঝগড়াঝাটি নয়, আমরা আলাপ আলোচনার মধ্য দিয়ে এটার সমাধান করতে চাই।

তিনি বলেন, বন্ধুত্ব হবে সমমর্যাদার ভিত্তিতে। যদি তারা (ভারত) মনে করে তাদের মাথা উঁচু থাকবে, আরেকজনের মাথা নিচু থাকবে- সেটা কিন্তু বন্ধুত্ব হলো না।

শহীদ জিয়ার আদর্শ ও দর্শনের ব্যাখা দিয়ে খালেদা জিয়া বলেন, জিয়াউর রহমান অত্যন্ত কঠিন সময়ে দেশের দায়িত্ব নিয়েছিলেন। তিনি স্বাধীন বাংলাদেশকে উন্নত ও শক্তিশালী করতে চেয়েছিলেন। যা স্বাধীনতার পর ক্ষমতায় থাকা কেউ ভাবেনি। বরং তারা বিভেদ ও লুটের রাজনীতি শুরু করেছিল। ওই সময়কার সরকার দেশের নিয়ন্ত্রণ করতে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছিল বলে তিনি মন্তব্য করেন।

41612066_nবিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, ওই সময়ের সরকারের দেশকে নিয়ে কোনো পরিকল্পনা ছিল না বলেই দুর্ভিক্ষ হয়েছিল। মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত দেশের গণতন্ত্রকে শেষ করে দিয়ে একদলীয় বাকশালী শাসন কায়েম করা হয়েছিল। ঠিক সেই সময়ে জিয়াউর রহমান দায়িত্ব নিয়ে দেশের সব শ্রেনি-পেশার মানুষের সাথে কথা বলেন, বুদ্ধিজীবীদের মতামত নিয়ে দেশের উন্নয়নের জন্য একটি পরিকল্পনা গ্রহণ করেন। দেশকে অরাজকতা থেকে মুক্ত করে দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র চালু করেছিলেন।

বেগম জিয়া বলেন, এভাবে অল্প কয়েক বছরের মধ্যেই দেশের সমৃদ্ধ হয়েছিল। ফসলের উৎপাদন বেড়েছিল। যেখানে মানুষ দুর্ভিক্ষে মারা যেত, সেখানে শহীদ জিয়া মানুষকে উদ্বুদ্ধ করে নতুন নতুন কল-করাখানা স্থাপন ও গার্মেন্টস শিল্প প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বহু কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেছিলেন।

সাম্প্রতিক প্রসঙ্গে খালেদা জিয়া বলেন, গণতন্ত্র ও ন্যায় শাসন না থাকলে দেশে জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসের উত্থান ঘটে। যশোর, গোপালগঞ্জে এর প্রমাণ আমরা দেখেছি। জেএমবি এবং হরকাতুল জিহাদের উত্থান হয়েছিল। কিন্তু আমরা ক্ষমতায় এসে জেএমবির বাংলা ভাইকে গ্রেফতার করেছিলাম।

সরকার কিছুদিন পর পর এখন জঙ্গিবাদের ধুয়া তুলছে উল্লেখ করে বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, আসলে তাদের কাছে কিছু লোক আগে থেকেই ধরা থাকে। যারা কারাগারে থাকে, দাড়ি-গোঁফ বড় হয়ে যায়। তাদেরকেই আবার অস্ত্র দিয়ে মিডিয়ার সামনে এনে বলা হচ্ছে এরা জঙ্গি। এখন যাদেরকে ধরা হচ্ছে তাদের মেরে ফেলা হচ্ছে। কোনো তথ্য উদ্ঘাটন করা হচ্ছে না।

সরকারকে দেশবিরোধী আখ্যা দিয়ে খালেদা জিয়া বলেন, এই সরকার দেশের বিরুদ্ধে এবং জনগণের বিরুদ্ধে কাজ করছে। তারা দেশের সার্থকে জলাঞ্জলি দিচ্ছে। আমি বলবো-কারো কাছে মাথা নত করে নয়, সবার কাছে মাথা উঁচু করে আমরা দেশের সার্থকে সমুন্নত রাখবো।

দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আমরা নতুন করে অনেক তরুণ ছেলেকে কমিটিতে পদ দিয়েছি। তাদেরকে আরো বেশি সচেতন হতে হবে দেশের বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে।