সিলেট-১ আসন যার, সরকার তার

ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম | মারজান হুসাইন চৌধুরী



বাংলাদশের স্বাধীনতার পর এই পর্যন্ত প্রতিটি নির্বাচনে সিলেট-১ আসনে জয়ী ব্যক্তির দল সরকার গঠন করায় অনেকেই বিশ্বাস করেন- ‘সিলেট-১ আসন যার, সরকার তার’।

ফলে সিলেট নগরী ও সদর উপজেলা নিয়ে গঠিত এই আসন সব দলের কাছে সমান গুরুত্বপূর্ণ।

বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে আরেকটি রীতি চালু আছে। সেটি হল, সিলেটে অবস্থিত হযরত শাহজালাল (রঃ) ও হযরত শাহপরান (রঃ) এর মাজার জিয়ারতের মাধ্যমে নির্বাচনী প্রচার শুরু করা। এখন পর্যন্ত এর ব্যতিক্রম হয়নি।

চলতি বছররের জানুয়ারীতে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সিলেটে এসে মাজার জিয়ারত করেন এবং নগরীর ঐতিহাসিক আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে এক সমাবেশে বক্তব্য রাখেন। ওই সমাবেশে নৌকা মার্কায় ভোট দেয়ার আহ্বান জানান তিনি।

অন্যদিকে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া কারাবন্দি হওয়ার আগে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে সড়ক পথে শোডাউন করে সিলেটে এসে মাজার জিয়ারত করেন। এরপর আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীককে বিজয়ী করতে নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার দিক নির্দেশনা দেন।

‘ভিআইপি’ আসন হিসেবে পরিচিত সিলেট-১ আসনে প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয়েছিলেন আবদুল হেকিম চৌধুরী। এরপর নির্বাচিতরা হলেন রফিকুল হক, হুমায়ূন রশীদ চৌধুরী, খন্দকার আবদুল মালিক, সাইফুর রহমান ও আবুল মাল আবদুল মুহিত।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেট-১ আসনের জন্য দুজন প্রার্থীকে চিঠি দিয়েছে বিএনপি। মঙ্গলবার (২৭ নভেম্বর) উভয় নেতাকে দলীয় মনোনয়নের চিঠি প্রদান করা হয়। তারা হলেন- বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ইনাম আহমদ চৌধুরী ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

দলীয় সিদ্ধান্ত মেনে এদের মধ্যে একজন শেষ পর্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকবেন, অপরজন প্রত্যাহার করবেন মনোনয়নপত্র।

এবিষয়ে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারা জানিয়েছেন, আপাতত কৌশলগত কারণে এক আসনে একাধিক প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হচ্ছে।

এদিকে, সিলেট-১ আসনে আওয়ামী লীগ থেকে পাঁচজন মনোনয়ন ফরম উত্তোলন করেছিলেন। এর মধ্যে দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন বর্তমান সাংসদ ও অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের ছোট ভাই এ কে আবদুল মোমেন।

রোববার তার টিকিট কনফার্ম হওয়ার পর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মাজার জিয়ারত করতে সোমবার টুঙ্গি পাড়ায় যান মোমেন। এরপর মঙ্গলবার সিলেটে ফিরে দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে মাজার জিয়ারত করেন।

প্রায় একই সময়ে সিলেটে ফিরেন খন্দকার আবদুল মুক্তাদির। তবে দৃশ্যপটও ছিল ভিন্ন। তিনি সোজা চলে গেলেন আদালতে। সেখানে মামলার হাজিরা দিয়ে বাসায় ফেরেন তিনি।

বিএনপির অভিযোগ- ‘নির্বাচনের আর মাত্র কয়েকদিন বাকি থাকলেও লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড এখন নিশ্চিত হয়নি’। যদিও আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে বিষয়টি অস্বীকার করে বলা হচ্ছে- ‘সবাই সমান সুযোগ পাচ্ছে’।

মর্যাদাপূর্ণ সিলেট-১ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী মোমেনের সাথে মূলত কার লড়াই হবে তা কয়েকদিনের মধ্যেই নিশ্চিত হওয়া যাবে।

আবদুল মোমেনের ভাই ও বর্তমান সাংসদ ও অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছেন, “যে যাই বলুক, (নৌকার) বিজয় নিশ্চিত।”

আর মোমেন বলেছেন, “নির্বাচনে বিজয়ের বিষয়ে আমরা আশাবাদী। এবার নির্বাচিত হলে যুবকদের জন্য বর্তমান সরকার আগামীর উন্নত বাংলাদেশ উপহার দেবে।”

অপরদিকে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী ও দলের চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা খন্দকার মুক্তাদির বলেন, “নির্বাচনের আর মাত্র কয়েকদিন বাকি থাকলেও মিথ্যা, রাজনৈতিক মামলায় আমাকে এখনও আদালতে নিয়মিত যাতায়াত করতে হচ্ছে। বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি ও তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে আনতে এই নির্বাচনে অংশ নিয়েছি। আমাদের সাথে বিপুল জনসমর্থন আছে। সুষ্ঠু নির্বাচন হলে ধানের শীষ বিজয়ী হবে ইনশাআল্লাহ্‌।”

বিএনপির আরেক সম্ভাব্য প্রার্থী ও দলের ভাইস চেয়ারম্যান ইনাম আহমদ চৌধুরীও একই কথা বলেছেন।

তিনি বৃহস্পতিবার (২৯ নভেম্বর) সকালে সিলেট শহরে অর্থমন্ত্রীর বাসায় গিয়ে তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এ সময় আবদুল মোমেনও উপস্থিত ছিলেন।

ইনাম আহমদ গণমাধ্যমকে বলেন, “একধরনের প্রতিবাদী মন নিয়ে আমি তাঁর (অর্থমন্ত্রীর) বাসায় গিয়েছিলাম। তাঁকে এসব ব্যাপারে নজর রাখতে বলেছি। মুখে গণতন্ত্র বলব, পুলিশ যথেচ্ছ আচরণ করবে তা হতে পারে না। সমান সুযোগের দাবি নিয়ে মূলত তাঁর বাসায় যাওয়া।’

তিনি আরও বলেন, “দেশের বেশিরভাগ স্থানেই বিএনপির একাধিক প্রার্থীকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। দলের প্রয়োজনে যে কেউ ত্যাগ স্বীকার করতে সদা প্রস্তুত। তাতে বিভক্তির কোনো কারণ নেই।”


ড. কামালের কাদিয়ানী সম্পৃক্ততা নিয়ে যা বললেন মাওলানা জুনাইদ আল হাবীব

ড. কামালের কাদিয়ানী সম্পৃক্ততা নিয়ে যা বললেন মাওলানা জুনাইদ আল হাবীব

Posted by insaf24.com on Wednesday, November 28, 2018