জানুয়ারি ১৭, ২০১৭

যারা জোয়ারে গাঁ ভাসায় তারা ভাটার টানে তলিয়ে যায়

ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম |

মুফতী হারুন ইজহার (হেফাজতের কেন্দ্রীয় নেতা)


মুফতী হারুন ইজহারইসলামোফোবিয়ার প্রচণ্ড বৈরী স্রোতের উলটো মুসাফির শ্রদ্ধেয় বোন ব্রিটিশ সাংবাদিক ইভন রেডলি-একজন নওমুসলিমের বুকে যতটুকু সৎ সাহস, তার সিকি ভাগের সিকিভাগও যেন নেই বাংলাদেশের লাখো আলেমের লাখো বুক যদি এক করা হয় -তাতে। হায়! আমাদের ইমানী চেতনার পৌরষত্বহীনতা, হায়! আমাদের চিন্তার দৈন্য, হায় আমাদের বুদ্ধিবৃত্তিক জড়তা, হায় আমাদের ফিকহী,ইলমী বন্ধ্যাত্ব!

অপরাধ করিনি এটা সর্বজনবিদিত।কিন্তু তবু এতটুকু যেন যথেষ্ট নয়।বরং গলা ফাটিয়ে বলতে হবে – “না,না আমি অপরাধ করিনি”, “না,না আমি জঙ্গি নই” , “না,না আমি চরমপন্থি নই” , “না না……..এবং না না…….।

মনে রাখতে হবে, যারা জোয়ারে গাঁ ভাসায় তারা ভাটার টানেও তলিয়ে যায়। নিজস্ব প্লাটফর্ম থেকে অতি জোরালো ভাবে প্রজ্ঞাপূর্ণ ভাষায় সু্স্পষ্ট দিকনির্দেশনা মূলক বয়ান জাতির সামনে তুলে না ধরে কেন হাতে নিতে হচ্ছে ফরমায়েশী কর্মসূচি নির্বোধ অসহায়ের মতো।গতানুগতিক সস্তা মানববন্ধন আর বাজারি প্রতিপাদ্য নিয়ে কেন আমাদেরকে সেক্যুলারদের শ্লোগানে একাকার হয়ে যেতে হচ্ছে। রেডলি কেন? তার মতো অনেকেই ইসলামে দীক্ষিত হয়েছেন নাইন ইলেভেনের পর। ঐসব পশ্চিমা শিক্ষিত নওমুসলিমদের কথা বাদ দিলাম।খ্যাতিমান পশ্চিমা খ্রিস্স্টান সাংবাদিক রবার্ট ফিস্কের ক্ষুরধার প্রবন্ধগুলো সার্চ করুন।আর লক্ষ্য করুন মার্কিন-আল কায়েদা সংঘাতে তার মূল্যায়নগুলো কিভাবে বিবেককে নাড়া দিয়েছিল।
হায়! মুসলমানের “হিকমাহ”, “হুজ্জাহ” আর সাহস তাহলে কি আজ ঐসব অমুসলিমদের মন মস্তিষ্কেই আশ্রয় নিলো?জঙ্গি বিরোধিতা আজ একটি ফ্যাশনে পরিণত হয়েছে।ফ্যাশন অার প্রদর্শনী দিয়ে সাময়িক তৃপ্তি হয়,অাসল কাজ হয়না।

আজ বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক বাস্তবতায় জঙ্গিবাদের চেয়ে বেশি প্রাসঙ্গিক হচ্ছে উগ্র সেক্যুলারবাদ।পশ্চিমা সাম্রাজ্যবাদ, ভারতীয় আধিপত্যবাদ,রাজনৈতিক ফ্যাসিবাদ তো অাছেই।কিন্তু যতসব চুলকানি ইসলামকে নিয়েই।

রাষ্ট্র ও রাজনৈতিক দলগুলোর সন্ত্রাসবাদী চরিত্রকে অাজ সহনীয় করে তোলা হচ্ছে জঙ্গি জিগির তোলার অাড়ালে। আমরা মনে করি, জঙ্গিবাদ যতটুকু বাস্তবতা তার চেয়ে বেশি জুজু। ইসলাম এবং দেশ বা আদর্শ এবং মাটি – দুটোই জনগনের প্রাণের স্পন্দন।একটিকে বাদ দিয়ে আরেকটির নিরাপত্তার বিধান হতে পারেনা।

উগ্রধর্মনিরপেক্ষবাদের উৎপাত,উসকানি,ষড়যন্ত্র ও সন্ত্রাস-এসবকে আমলে না নিয়ে এক তরফা জঙ্গিবাদ বিরোধি প্রোপাগান্ডা ভূতাত্ত্বিক বাস্তবতায় মনোবিজ্ঞান ও সমাজবিজ্ঞানের পরিপন্থী।

উল্লেখ্য যে বাংলাদেশের সেক্যুলারবাদ একটা ডাবল স্ট্যান্ডার্ড নীতি গ্রহন করে আছে।আমি কারাগারের অভিজ্ঞতা থেকে বলছি-মার্ডার কর,অস্ত্র সহ হাতেনাতে ধরা পড়ো-সমস্যা নেই,মুক্তি পেয়ে যাবে,কিন্তু কথিত জিহাদী সন্দেহে যদি ধরা খাও তাহলে পৃথিবীর আলোকে বিদায় জানাতে হবে দীর্ঘ কালের জন্য।সাবাস ধর্মনিরপেক্ষবাদী ইনসাফ!

আমি বঙ্গোপসাগরের পাহাড়সম ঢেউয়ের সামনে দাড়িয়ে চিৎকার করে বলতে চাই-তাদের কথাতো আমরা রেখেছি,কিন্তু তের দফার একটি দফাও তারা মেনে নিবে না।


ফেইসবুক থেকে নেয়া