ইজতেমার ময়দানে অবস্থিত মাদরাসার ছাত্রদের ওপর অমানবিক নির্যাতন চালায় হামলাকারীরা (ভিডিও)

ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম | নিজস্ব প্রতিনিধি


ইজতেমার ময়দানে অবস্থিত মাদরাসায় হামলা

ইজতেমার ময়দানে অবস্থিত মাদরাসার ছাত্রদের ওপর অমানবিক নির্যাতন চালায় হামলাকারীরা

Posted by Insaf Tv on Wednesday, December 5, 2018


গত ১ ডিসেম্বর টঙ্গী বিশ্ব ইজতেমার ময়দানে আগামী বিশ্ব ইজতেমার জন্য মাঠ প্রস্তুতির লক্ষ্যে কর্মরত অসংখ্য আলেম উলামা, মাদরাসার ছাত্র ও সাধারণ তাবলীগি সাথীদের উপর অতর্কিতে সশস্ত্র হামলা চালায়  বিতর্কিত আলেম মাওলানা সা’দ কান্ধলবীর অনুসারী  ওয়াসিফুল ইসলাম গং। এতে ১ জন নিহত ও আহত হয় অসংখ্য।

ইতিহাসের জঘন্যতম ও বর্বরোচিত এ হামলার সময় দাওয়াতে তাবলীগের সাথী গাজীপুরের বাসিন্দা মুহাম্মাদ বেলাল হোসেন সেখানে উপস্থিত ছিলেন। সাধারণ আলেম উলামা, মাদরাসার ছাত্র ও সাধারণ তাবলীগি সাথীদের উপর অতর্কিতে সশস্ত্র হামলা শুরু হলে তিনি ময়দানে অবস্থিত মাদরাসায় গিয়ে আশ্রয় নেন।

তবে তাতেও রক্ষা হয়নি তাঁর। ভয়ঙ্কর হানাদাররা মাদরাসায় ঢুকে হামলা চালায়। এতে বেলাল হোসেনসহ সেখানে অবস্থিত মাদরাসার ছাত্র ও শিক্ষকরা গুরতর আহত হয় সা’দের ওয়াসিফ গংদের হাতে।

বেলাল হোসেন বলেন, আমি ওই দিনের ঘটনার সময় ইজতেমার ময়দানে যে মাদরাসা আছে তার ভিতরে অর্থাৎ; মাদরাসা ভবনের সামনে খোলা চত্তরে দাঁড়িয়েছিলাম। সা’দ পন্থীরা বাটা গেট ভেঙে মাঠে প্রবেশ করে এবং মাদরাসায় এসে ব্যাপক ভাঙচুর করে। তারা মাদরাসার থাই গ্লাসের জানালাগুলো ভেঙে ফেলে এবং স্টিলের দরজা ভাঙ্গার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে পিছনের দরজা দিয়ে মাদরাসার ভিতরে প্রবেশ করে। এরপর সেখানকার ছোট ছোট ছাত্রদেরকে কিল, ঘুষি ও লাথি মেরে মেরে মাদরাসা থেকে বের করে মাঠে ছেড়ে দেয়। এসময় মাদরাসার উস্তাদগণকে নির্মমভাবে নির্যাতন করে। তারা বৃদ্ধদেরকেও ছাড় দেয়নি। একজন বৃদ্ধকে মারতে মারতে বেহুঁশ করে দেয়।

এ ঘটনার পর মিডিয়ায় সবচেয়ে আলোচিত ইস্যু মাদরাসার ছোট ছাত্রদের ময়দানে নিয়ে আসার বিষয়েও বিস্তারিত জানান বেলাল হোসেন। তিনি জানান, ওইদিন ধারনকৃত ইজতেমার ময়দানের বিভিন্ন ভিডিও ফুটেজে যে ছোট ছোট মাদরাসার ছাত্রদের দেখা গেছে তাদেরকে বাইরের কোন মাদরাসা থেকে আনা হয়নি। তারা ইজতেমার মাঠে যে মাদরাসা রয়েছে সে মাদরাসারই ছাত্র যাদেরকে কিল, ঘুষি ও লাথি মারতে মারতে মাদরাসা থেকে বের করে ময়দানে ছেড়ে দিয়েছিল সা’দ পন্থীরা।

সা’দ পন্থীদের হাতে লাঠি, রড ও অন্যান্য অস্ত্র ছিল বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমি ওদের নাগালের ভিতরে পড়ে যাই এবং আমার সাথে একজন নতুন সাথী ছিল যে নিজেকে সা’দ পন্থী হিসেবে পরিচয় দিয়েও ওদের নির্যাতন থেকে রক্ষা পায়নি।

মারধরের এক পর্যায়ে সে দৌড়ে ওদের দলের ভিতর ঢুকে পড়লে রক্ষা পায়। এরপরই আমার উপর আক্রমণ চালায় ওরা।

তার সাথে সা’দ পন্থীরা কিরুপ ব্যবহার করেছে জানতে চাইলে কান্নায় ভেঙে পড়েন বেলাল হোসেন। তিনি বলেন, ওরা আমাকে চতুর্দিক থেকে ঘিরে ফেলে এবং লাঠি দিয়ে মারতে থাকে। এসময় আমি যতটুকু সম্ভব দুহাতে ফিরাতে থাকি। এক পর্যায়ে আমার মাথায় সজোরে আঘাত করলে আমার মাথা ফেটে যায় এবং দুচোখ অন্ধকার হয়ে যায়। তারা আমাকে দৌড় দিতে বলে কিন্তু আমি দৌড় দেইনি। কারন দৌড় দিলে ওরা একযোগে আমাকে পিছন থেকে আক্রমণ করে মেরে ফেলতো।

বেলাল হোসেন কান্না জড়িত কন্ঠে আরো বলেন, ওরা আমাকে মারতে মারতে মাঠের বাইরে নিয়ে যায়। তখন আমার গেঞ্জি ও পাঞ্জাবি রক্তে লাল হয়ে যায়। ওদের মধ্য থেকে একজন গেটের কাছে এনে আমার গেঞ্জি ও পাঞ্জাবি খুলে রেখে দিয়ে খালি গায়ে ছেড়ে দেয়। এরপরও রক্তাক্ত অবস্থায় আমাকে যে যেভাবে পেরেছে মেরেছে। ওদের একজন আমার কিছু দাড়িও ছিঁড়ে ফেলে।

বেলাল বলেন, ওই সা’দ পন্থীরা মানুষ নয়। ওরা ইসলামের শত্রু মূর্তি পুজারীদের মত। মুশরিকরা যেমন মূর্তির পুজা করে ওরাও তেমনি সা’দের পুজা করে।