ঐতিহ্যের নিদর্শন বায়তুল আজগর সাত গম্বুজ মসজিদ

ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম | সোহেল আহম্মেদ


কুমিল্লা দেবীদ্বারের গুনাইঘর গ্রামকে উজ্জ্বল করে দাড়িয়ে আছে ঐতিহ্যের নিদর্শন বাইতুল আজগর সাত গুম্বুজ জামে মসজিদ। চারটি মিনার, সাতটি গুম্বুজ ও অসংখ্য ক্যালিওগ্রাফীতে মসজিদটি ধারণ করেছে এক অনন্য সৌন্দর্য্য।

২০০২ সালের ১০জুলাই মসজিদটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন মসজিদের প্রতিষ্ঠাতা সাবেক সংসদ সদস্য আলহাজ্জ্ব ইঞ্জিনিয়ার মঞ্জুরুল আহসান মুন্সি। ২৮ জন দক্ষ মিস্ত্রি আড়াই বছর একটানা কাজ করে ঐতিহ্যের সাথে চমৎকার আধুনিকতার সমন্বয়ে মসজিদটির নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করেন। এতে ব্যায় হয় ১ কোটি ৬০ লক্ষ টাকা।

২০০৫ সালের ১৪ জানুয়ারী শুক্রবারে শতাধিক মুসুল্লি সাথে নিয়ে পবিত্র জুমআর নামাজ আদায়ের মাধ্যমে মসজিদটি উদ্বোধন করেন তৎকালীন স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা মন্ত্রী ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন।

আদি ও আধুনিক উভয় প্রকার নির্মাণ কৌশল অনুসরণে অসংখ্য ক্যালিওগ্রাফী আঁকা এ মসজিদটি প্রথম দর্শনেই যে কোন লোকের নজর কেড়ে নেয়। মসজিদটির চার কোণে ৮০ ফুট উচ্চতা সম্পন্ন চারটি মিনার মসজিদটিকে বিশেষ এক বৈশিষ্ট্যে বৈশিষ্ট্যপূর্ণ করেছে। ৪৮ ফুট দৈর্ঘ্য ও ৩৬ ফুট প্রস্থ বিশিষ্ট মসজিদের মূল অংশে একসাথে শতাধিক মুসুল্লি নামাজ আদায় করতে পারেন। এছাড়া মসজিদের সামনে টাইলস করা খোলা জায়গায় মূল অংশের দ্বিগুণ মুসুল্লি একসাথে নামাজ আদায় করতে পারেন।

মসজিদটিতে আলোকসজ্জার ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং লাগানো হয়েছে বিভিন্ন রংয়ের বৈদ্যুতিক বাতি। মসজিদের সামনের অংশে ‘আল্লাহ’ শব্দটি রাতের অন্ধকারে উজ্জ্বল তারকার মত জ্বলজ্বল করতে থাকে যা অনেক দূর থেকে মানুষের দৃষ্টিগোচর হয়।
বাংলা ও আরবী ভাষার অবাক করা ক্যালিওগ্রাফীতে সাজানো হয়েছে মসজিদটি।আরবী অক্ষরে সুন্দর করে লেখা হয়েছে সূরা আর- রাহমান, আয়াতুল কুরসী ও সূরায়ে চার কুল।

মসজিদের বাহিরের আবরণে আঁকা হয়েছে অসংখ্য চাঁদ- তারা। ইট সিমেন্ট ও বালির পাশাপাশি মসজিদটিতে ব্যবহার করা হয়েছে চিনামাটি ও টাইলস। মসজিদে ৬টি এসি ও একটি ঝারবাতি সহ সবধরনের আধুনিক সুবিধা রয়েছে। মসজিদের পশ্চিম পাশে রয়েছে দৃষ্টি নন্দন একটি ফুল ও ফলের বাগান। এছাড়াও রয়েছে শ্বেত পাথরে মোড়ানো পাড় সহ একটি বিশাল আকৃতির জলাধার।

মসজিদটির স্থপতি ছিলেন শাহীন মালিক। কারুকাজ ও নক্সা শিল্পী হিসেবে কাজ করেছেন শিল্পী আরিফুর রহমান এবং ক্যালিওগ্রাফীর কাজ করেছেন শিল্পী বশির মেসবাহ। মসজিদটির প্রতিষ্ঠাতা আলহাজ্ব ইঞ্জিনিয়ার মঞ্জুরুল আহসান বলেন, বাংলাদেশের মানচিত্রে দেবীদ্বারের নামটি যাতে একটি বিশেষ স্থান দখল করতে পারে এ উদ্দেশ্যে আমি মসজিদটি নির্মাণ করেছি।

যাতায়াত- কুমিল্লা শহর থেকে বাসে দেবীদ্বার নেমে সেখান থেকে মাত্র ২/৩ কিলোমিটার পশ্চিম দক্ষিণে গেলেই গুনাইঘর গ্রাম।


ইনসাফ শো | পর্ব : ৫৬ | বিষয় : দাওয়াতে তাবলীগের চলমান সমস্যা

ইনসাফ সম্পাদক সাইয়েদ মাহফুজ খন্দকারের (Mahfuj Khandakar) সঞ্চালনায় চলছে ইনসাফ শো।বিষয় : দাওয়াতে তাবলীগের চলমান সমস্যা ও আজকের সংবাদ সম্মেলন।অতিথি : মাওলানা মাওলানা বাহাউদ্দীন জাকারিয়া, মাওলানা জহির ইবনে মুসলিম, মাওলানা ফজলুল করীম কাসেমী ও মাওলানা লোকমান মাজহারী।পর্ব : ৫৬

Posted by insaf24.com on Sunday, December 2, 2018