মার্চ ২৮, ২০১৭

মারা গেছেন উজবেকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ইসলাম করিমভ

ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম |

উজবেকিস্থানের ফেরাউনশুক্রবার সারাদিন অনেক গুজবের পর উজবেকিস্তানের সরকার শেষ পর্যন্ত প্রেসিডেন্ট ইসলাম করিমভের মৃত্যুর খবর ঘোষণা করেছে।

৭৮ বছর বয়সী প্রেসিডেন্ট করিমভের অবস্থা গত কিছুদিন ধরেই বেশ সংকটজনক ছিল।

আগামীকাল শনিবার নিজ শহর সমরখন্দে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হবে।

শুক্রবার সারাদিন ধরে উজবেকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ইসলাম করিমভ মারা গেছেন বলে তীব্র জল্পনা চলছিল।

তুরস্কের প্রধানমন্ত্রী প্রথম জানিয়েছিলেন প্রেসিডেন্ট করিমভ মারা গেছেন এবং তার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন। কিন্তু উজবেকিস্তান থেকে তখনো পর্যন্ত কোন সরকারি ঘোষণা আসেনি।

প্রেসিডেন্ট ইসলাম করিমভের স্বাস্থ্য নিয়ে তীব্র জল্পনা-কল্পনা চলছে গত কয়েকদিন ধরে।

ইসলাম করিমভ মুসলিম প্রধান উজবেকিস্থানের এক নায়ক প্রেসিডেন্ট ছিলেন। তার স্থলাভিষিক্ত কে হবেন তা এখনো স্পষ্ট নয়।

ইসলাম করিমভের নিজের শহর সমরখন্দের রাস্তাঘাট পরিস্কার করছে পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা। সেখানে এমন জল্পনা চলছে যে এসব তাকে শেষ বিদায় জানানোর প্রস্তুতি।

এদিকে কাজাখাস্তানের প্রেসিডেন্ট নুরসুলতান নাজারবায়েভ চীনে তার সফর সংক্ষিপ্ত করে উজবেকিস্তানে যাচ্ছেন বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে।

১৯৯১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙ্গে যাওয়ার পর সেখান থেকে বেরিয়ে আসা উজবেকিস্তানের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন সাবেক কমিউনিষ্ট নেতা ইসলাম আবদুগানিয়েভিচ করিমভ। উজবেকিস্তানে সেটাই ছিল সর্বশেষ সত্যিকারের নির্বাচন।

ক্ষমতায় আসার পর তিনি সমালোচক এবং রাজনৈতিক বিরোধীদের জেলে ভরতে শুরু করেন, অনেককে নির্বাসনে পাঠানো হয়।

ইসলাম করিমভ শাসনকালে দেশের সাধারণ মানুষ বিশেষ করে ইসলামী অনুশাসনের প্রতি অনুরক্ত মানুষদের উপর অমানুষিক নির্যাতনের জন্য কুখ্যাত ছিলেন। নিপীড়নের জন্য ‘উজবেকিস্থানের ফেরাউন’ খেতাবপ্রাপ্ত হন তিনি।  দীর্ঘ সাতাশ বছরে হাজার হাজার ইসলামপন্থিকে হত্যা, গুম, নির্যাতন, দেশত্যাগে বাধ্য করেছিলেন করিমভ।

তার আমলে কোন বিরোধী দলকেই দাঁড়াতে দেয়া হয়নি। এমনকি একদিনেই পাচ হাজারের মত বিরোধী কর্মীকে গুলি করে হত্যা করার ঘটনাও ঘটিয়েছে এই কুখ্যাত স্বৈরশাসক।

তার শাসন আমলের পুরো সময় ধরে বাকস্বাধীনতা এবং ধর্মীয় স্বাধীনতার কোন বালাই ছিল না।

২০০৫ সালে আনদিজানে এক সরকার বিরোধী গণবিক্ষোভ দমন করা হয় নির্মমভাবে। মানবাধিকার সংগঠনগুলো জানায়, সেখানে শত শত শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীকে সৈন্যরা হত্যা করে।

তার অবর্তমানে কে উজবেকিস্তানের হাল ধরবেন সেটা এখন বড় প্রশ্ন। একসময় তার বড় মেয়ে গুলনারাকেই সম্ভাব্য উত্তরসুরি বলে ভাবা হতো।

কিন্তু নানা রকম ব্যবসায়িক কেলেংকারি এবং বিলাসবহুল জীবন যাপনের কারণে তার সেই সম্ভাবনা আর নেই, তাকে এখন গৃহবন্দী করে রাখা হয়েছে।

সম্ভাব্য উত্তরসুরী হিসেবে এখন যে দুজনের নাম শোনা যাচ্ছে তারা হচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শাভকাত মিরজিয়ায়েভ এবং ডেপুটি প্রধানমন্ত্রী রুস্তাম আজিমভ।

সুত্রঃ বিবিসি