নারীর সম্ভ্রম রক্ষায় পর্দার প্রয়োজনীয়তা

ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম | ইসলাম ডেস্ক


প্রতীকী ছবি

পবিত্র কুরআন শরীফে আল্লাহ তা’য়ালা বলেন, হে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আপনি আপনার পত্নীগণকে ও কণ্যাগণকে এবং মুমিনদের স্ত্রীগণকে বলুন, তারা যেন তাদের চাদরের কিয়দংশ নিজেদের উপর টেনে নেয়। এতে তাদেরকে চেনা সহজ হবে। ফলে তাদেরকে উত্যক্ত করা হবে না। আল্লাহ তায়ালা ক্ষমাশীল পরম দয়ালু। (সুরা:আহযাব,আয়াত নং ৫৯)

চেহারা নারীর সৌন্দর্য প্রকাশস্থল। চেহারার মাধ্যমেই একজন নারীর রূপ, লাবণ্য ও যাবতীয় সৌন্দর্য প্রকাশ পায়। চেহারার দ্বারাই একজন নারীর সৌন্দর্য্য ফুটে উঠে।
এ জন্য আল্লাহ তায়ালা নারীদেরকে হুকুম দিয়েছেন,নারীরা যখন ঘর থেকে বের হবে তখন যেন তাদের চেহারা পর্দা আবৃত করে বের হয়। যাতে করে পর পুরুষ তাদেরকে দেখার দরুন সমাজে ফিৎনার সৃষ্টি না হয়।

আইয়্যামে জাহিলিয়্যাত বা বর্বরতার যুগে নারীরা কোন প্রয়োজন ছাড়াই শুধুমাত্র তাদের সৌন্দর্য্যতা, রূপ প্রদর্শের জন্য সেজেগুজে ঘর থেকে বের হতো। যার দরুন পুরুষেরা তাদের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে ফিৎনায় লিপ্ত হতো।

অবাধ বিচরণের ফলে সেসময়কার নারী-পুরুষদের মধ্যে লজ্জা বলতেই কিছুই ছিল না। পর্দাহীনতার দরুন তাদের সমাজ ব্যবস্থা চরম বিপর্যস্ত হয়েছিল। চারিত্রিক অবনতি তাদের সমাজ ব্যবস্থাকে হুমকির মুখে ফেলে ছিল।

ইসলামী জীবন ব্যবস্থায় নারীদের পর্দার গুরুত্ব অপরিসীম। সমাজে নারীদের নির্লজ্জতা আর বিপথগামীতা তখনি প্রকাশ পায় যখন একজন নারী বেপর্দা চলাফেরা করে। মাথা ও মুখমন্ডল থেকে তার সম্ভ্রম রক্ষার চাদর সরিয়ে ফেলে এবং পরপুরুষকে তার চেহারা পদর্শন করে।

ইসলামের ইতিহাসে সর্বযুগেই নারীর ইজ্জত-আবরু রক্ষায় পর্দার প্রচলন ও বিধান জারি ছিলো। নীতি-নৈতিকতা ও চারিত্রিক অবক্ষয়ের কারণে পূর্বেকার সময় থেকে বর্তমান সময়ে পর্দার গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা অনেক বেশী।
পর্দাহীনতা ও স্বাধীনতার নামে নারী পুরুষের অবাধ বিচরণের ফলে ইসলামী সমাজ ব্যবস্থা আজ চরম হুমকির মুখে পতিত হয়েছে।

একশ্রেণীর লোক পর্দাকে নারীর স্বাধীনতা ও উন্নতির পথে প্রতিবন্ধক হিসেবে উল্লেখ করতে চায়। কিন্তু বাস্তবতা হল, শরঈ পর্দা নারীর উৎকর্ষ সাধনে প্রতিবন্ধক নয়। বর্তমানে অনেক নারী এমন রয়েছে যারা শরঈ পর্দার সহিত সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে কার্জ সম্পাদন করছেন। এমনকি পর্দা সহকারে ডাক্তারী থেকে শুরু করে বিমানের পাইলটের দায়িত্বও পালন করছেন নারীরা। বেপর্দা নারীদের চেয়ে তারা আরো ভালভাবে নিজেদের কাজের আঞ্জাম দিচ্ছে।

ইসলাম একটি পুর্ণাঙ্গ জীবন ব্যবস্থার নাম। মানবজীবনের যাবতীয় কল্যাণ ইসলামে রয়েছে। নারী-পুরুষের সাধ্য বহির্ভূত কিংবা তাদের উন্নতি ও সফলতার পথে প্রতিবন্ধক এমন কোন নির্দেশ ইসলাম দেয়া হয়নি।

একজন নারীর ইজ্জত আবরু রক্ষার জন্য সবচে নিরাপদ স্থান হলো তার ঘর। কিন্তু নারীরা আজ ঘর ছেড়ে বাহিরে বেপর্দা ঘুরাফেরা করে। নারীদের বেপর্দাহীনতার কারণে আমাদের সমাজ আজ ধ্বংসের পথে।

আদর্শ সমাজ বিনির্মানে একজন নারীর ভূমিকা অনেক বেশি। প্রত্যেক নারী যদি নৈতিক দায়িত্ব ও কর্তব্য মনে করে নিজ সন্তানাদিকে
আদর্শ ও সততা শিক্ষা দিয়ে গড়ে তোলে তাহলে ভবিষ্যত প্রজন্ম দক্ষ ও যোগ্য নেতৃত্ব পাবে। সমাজ হবে শান্তি সুখের।

নারী সমাজ আজ পর্দা সম্পর্কে বিস্তর জানে না। অথচ পর্দা হলো নারীদের সম্ভ্রম রক্ষা ও নিরাপত্তার একমাত্র মাধ্যম। পর্দার দরুন শুধু নারীদের নিরাপত্তা হয় এমন নয় বরং নারীরা পর্দার সহিত চলাফেরা করলে একটি সমাজ নৈতিকতা বহির্ভূত অনেক কর্মকান্ড থেকে মুক্ত থাকে এবং আদর্শ সমাজ হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করে।