আহতদের নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে তাবলীগ জামাত

ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম | নিজস্ব প্রতিনিধি


গত ১ ডিসেম্বর টঙ্গী বিশ্ব ইজতেমার ময়দানে বিশ্ব ইজতেমার প্রস্তুতিমূলক কাজেরত আলেম-উলামা, মাদরাসার ছাত্র ও সাধারণ তাবলীগি সাথীদের উপর অতর্কিত সশস্ত্র হামলা চালায় বিতর্কিত আলেম মাওলানা সা’দ কান্ধলবীর অনুসারী ওয়াসিফুল ইসলাম গং। এতে ১ জন নিহত ও আহত হয় অসংখ্য। পরে এর প্রতিবাদে গত ২ ডিসেম্বর সংবাদ সম্মেলন করে বাংলাদেশের দাওয়াত তাবলীগের সর্বোচ্চ কর্তাব্যক্তি বা মুরব্বীগণ। সেখানে হামলার দায়ে ওয়াসিফুল ইসলাম ও শাহাবুদ্দিন নাসিমসহ ষড়যন্ত্রকারীদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তারের দাবী জানানো হয়। যদিও প্রশাসন এখনো তাঁদের গ্রেপ্তারেনি।

আজ ০৬ ডিসেম্বর (বৃহস্পতিবার) আবারো ৭ দফা দাবি নিয়ে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে সংবাদ সম্মেলন করে বাংলাদেশের দাওয়াত তাবলীগের সর্বোচ্চ কর্তাব্যক্তি বা মুরব্বীগণ। এতে সেদিনের হামলায় আহত পঞ্চাশের অধিক ব্যাক্তি উপস্থিত ছিলেন।

দাবিগুলো হলো- এ হামলার নির্দেশ দাতা ওয়াসিফুল ইসলাম ও সাহাবুদ্দীন নাছিম গং সহ প্রফেসর ইউনুছ শিকদার, মাওলানা আশরাফ আলী, মাওলানা মোশারফ সহ হামলার সাথে জড়িত সকলকে অতিসত্ত্বর গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান করা। টঙ্গী ময়দান এতদিন যেভাবে শুরা ভিত্তিক পরিচালিত তাবলীগের সাথী ও ওলামায়ে কেরামের অধীনে ছিল তাঁদের কাছেই হস্তান্তর করা। অতিসত্ত্বর কাকরাইলের সকল কার্যকলাপ হতে ওয়াসিফ ও নাসিম গংকে বহিষ্কার করা। সারাদেশে ওলামায়ে কেরাম ও শুরা ভিত্তিক পরিচালিত তাবলীগের সাথীদের উপর হামলা মামলা বন্ধ করে পূর্ণ নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা। টঙ্গীর আগামী ২০১৯ সালের বিশ্ব ইজতেমা পূর্বঘোষিত তারিখেই (১৮, ১৯১ ২০শে জানুয়ারী প্রথম পর্ব ও ২৫, ২৬, ২৭শে জানুয়ারী দ্বিতীয় পর্ব) অনুষ্ঠানের কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করা। টঙ্গী ইজতেমার মাঠে অতিসত্ত্বর আযান, নামাজ ও কারগুজারী চালু করা ও ময়দানের মাদরাসা দ্রুত চালুর ব্যবস্থা করা।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন তাবলীগের দায়িত্বশীল মুফতি আমানুল হক। উপস্থিত ছিলেন, মাওলানা নুর ইসলাম, মুফতি জহির ইবনে মুসলিম, মাওলানা মোঃ ফয়সাল, মাওলানা মোঃ জাকারিয়া, গুরুতর আহত মোহাম্মদ আলী হোসেন, মোঃ মোহসীন, আব্দুল জলিল, আবুল হাসেম, মোঃ হাবিবুর রহমান, মাওলানা এমদাদ, মোঃ আব্দুল কাদেরসহ অর্ধশতাধিক সাথী।

সংবাদ সম্মেলনে টঙ্গী ইজতেমা মাঠের গেটের পাহারায় নিয়োজিত জিম্মাদার মুমিনুল হক ভূঁইয়া, ইঞ্জিনিয়র মামুন ও মুফতি আমানুল হক তাদের বক্তব্যে বলেন, হামলার পূর্ব রাতে ওয়াসিফ ও নাসিম পন্থীরা চৌধুরীপাড়া একটি মাদরাসায় ও কয়েকটি মসজিদে আবস্থান নিয়েছিল।

তারা বলেন, এতো সকালে হাজার হাজার হামলাকারী বাইরে থেকে এসে লাঠি, রড ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ন্যাক্কারজনক হামলার বিষয়টি গোয়েন্দাসংস্থার জানা থাকার বাইরে নয়। তাছাড়া হামলার পূর্বে পরিচয় দেয়া ডিআইজি পদবির একজনসহ চারজন গোয়েন্দা কর্মকর্তা উপস্থিত হন। কিছুক্ষণ পর টঙ্গী ইজতেমার মাঠে উত্যপ্ত পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। এসময় জিম্মাদাররা আতঙ্কিত হয়ে পুলিশ কর্মকর্তাদের নিকট প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ কামনা করেন। এমতাবস্থায় মাঠে কোন অঘটন ঘটবে না এমন নিশ্চয়তা দিলে মাঠের ভিতরের সাথীরা নামাজের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। নামাজের শেষ পর্যায়ে হামলাকারী ওয়াসিফ পন্থীরা আশরাফ সেতু প্রকল্পের ছাদে পূর্ব থেকে জমা করা ইটের টুকরো দিয়ে হামলার সূচনা করে চূড়ান্ত হামলা শুরু করে। আর তাদের এ হামলাতেই দুই হাজার বা তারও বেশি আহত ও গুরুতর আহত হয়েছে। যা বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছে।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশে এ সাদপন্থীরা এত বড় ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটানোর পর প্রায় এক সপ্তাহ পার হয়ে গেছে। এ হামলার নির্দেশদাতা ওয়াসিফ, নাসিম ও হামলার সাথে সরাসরি জড়িত কেউ এখনো গ্রেফতার হয়নি। প্রশাসনের এই নিরব ও রহস্যজনক ভূমিকায় বাংলার আলেম সমাজ ও তাওহীদি জনতা হতবাক। কোনো থানাতে তাদের নামে মামলা গ্রহণ করা হচ্ছে না। উপরন্তু তারা আমাদের সাথী, আলেম, ওলামাকে হামলা মামলার হুমকি প্রদান করছে। প্রকাশ করছে বিজয় উল্লাস। সাংবাদিক সম্মেলনে ও টকশোর মাধ্যমে প্রচার করছে মিথ্যা ও বিভ্রান্তমূলক খবর। অথচ তাদের মুখপাত্র মাওলানা আশরাফ আলী টিভি টকশোতে স্বীকার করেছে তারা গেট ভেঙ্গে ভিতরে প্রবেশ করে তান্ডব চালিয়েছে। এমতাবস্থায় তাওহীদি জনতার ধৈর্যের বাধ ভেঙ্গে যাচ্ছে। যদি কোনো অপ্রীতিকর অবস্থার সৃষ্টি হয় তাহলে এর দায়-দায়িত্ব সরকার এবং প্রশাসনকে বহন করতে হবে।

কর্মসূচী:- আগামীকাল শুক্রবার জুমআর আলোচনায় হামলার বিষয়টি তুলে ধরা এবং নামাজ শেষে বিক্ষোভ। পরবর্তী কর্মসূচী জানানো হবে।