ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন পরিবর্তন জরুরি : টিআইবি

ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম | নিজস্ব প্রতিনিধি



সমাজের মঙ্গল ও সাংবাদিকতার স্বার্থেই অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা জরুরি। তাই অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার জন্য প্রতিবন্ধক হয় এমন আইন প্রয়োজনে পরিবর্তন, পরিবর্ধন বা পরিমার্জন করতে হবে। দরকার হলে পুরনো আইন বাতিল করে নতুন করে গণমাধ্যমবান্ধব আইন প্রণয়ন করতে হবে।

বৃহস্পতিবার সকালে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) এর ধানমন্ডিস্থ কার্যালয়ে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা পুরস্কার ২০১৮ ঘোষণা উপলক্ষে আয়োজিত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের প্রেক্ষিতে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার চ্যালেঞ্জ বিষয়ক আলোচনায় বক্তারা এই অভিমত ব্যক্ত করেন।

ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, “ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনটি সরকারের স্ববিরোধিতার পরিচায়ক। কারণ জাতিসংঘের যে সনদের উপর ভিত্তি করে আমরা আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী দিবস উদযাপন করছি তার ১৩ অনুচ্ছেদে দুর্নীতি প্রতিরোধে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে জনগণ, সুশীলসমাজ ও গণমাধ্যমের সম্মিলিত প্রয়াসকে অপরিহার্য বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তাই, দুর্নীতির বিরুদ্ধে সাধারণ জনগণ, গণমাধ্যম ও বেসরকারি সংগঠনসমূহ যাতে সোচ্চার ভূমিকা পালন করতে পারে, তার উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করার দায়িত্বও সরকারের। কিন্তু এই আইন সেধরণের উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিতে কোনভাবেই সহায়ক নয়। সুতরাং অবিলম্বে এই আইনটি পরিবর্তন, পরিমার্জন, সংশোধন এমনকি প্রয়োজনে বাতিল করে আবার নতুন করে প্রণয়ন করতে হবে।”

মতপ্রকাশের স্বাধীনতার গুরুত্ব তুলে ধরে প্রফেসর ড. গওহর রিজভী বলেন, “সভ্যতার শুরু থেকেই মতপ্রকাশের স্বাধীনতার বিষয়টি প্রাসঙ্গিক। স্বাধীন মত প্রকাশ নিয়ন্ত্রণ করা যায় না। নিয়ন্ত্রণ করতে গেলে এটা কোথায় গিয়ে থামবে তা কেউ জানে না। সরকার বা বিরোধী যেই হোক না কেন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ছাড়া আমরা যে সমাজ চাই তা সম্ভব নয়। তাই একটা আইন হয়েছে মানে এটা পরিবর্তন করা যাবে না এমন নয়। অনেকবার আইন হয়, আবার তা পরিবর্তনও হয়। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন নিয়ে এই ধরণের আলোচনাটা চলতে থাকুক। এটা একসময় অবশ্যই পরিবর্তন হবে।”

দুর্নীতির বিরুদ্ধে আইনের পাশাপাশি সামাজিক দ-ের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে তিনি আরো বলেন, “আমরা সামাজিকভাবে দুর্নীতিবাজদের বর্জন করতে পারি না। তাই যতক্ষণ পর্যন্ত আমাদের দ্বৈত আচরণ থাকবে ততক্ষণ পর্যন্ত নাগরিক সমাজও দুর্নীতির জন্য দায়বদ্ধ থাকবে।”

টিআইবি’র বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারপারসন অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল বলেন, “একটা সমাজের বাক স্বাধীনতা থাকতে হবে, চিন্তার স্বাধীনতা থাকতে হবে এবং তার সাথে বিবেকের স্বাধীনতাও থাকতে হবে। আর আমাদের সজাগ হওয়ার জন্য বড় ভূমিকা রাখে গণমাধ্যম। যদি এটাই নিয়ন্ত্রণ করা হয় তাহলে আমাদের সজাগ হওয়ার আর সুযোগ নেই। আমরা ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের সমালোচনা এজন্যই করছি, কারণ এখানে আশংকা আছে যে, এর মাধ্যমে বিবেক বন্দী আছে। আইনের বিভিন্ন ধারার অপব্যবহার হবে না মানে এই না যে তা কখনোই হবে না। তাই আমরা ‘যদি হয়’- এই ভয়ের মধ্যেই আছি।”

জাতিসংঘ ঘোষিত ৯ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী দিবস উদযাপনে টিআইবি’র সপ্তাহব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচীর অংশ হিসেবে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ক উপদেষ্টা প্রফেসর ড. গওহর রিজভী। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন টিআইবি’র বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারপারসন অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল। এ সময় উপস্থিত ছিলেন টিআইবি’র নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান।


ইনসাফ শো | পর্ব : ৫৬ | বিষয় : দাওয়াতে তাবলীগের চলমান সমস্যা

ইনসাফ সম্পাদক সাইয়েদ মাহফুজ খন্দকারের (Mahfuj Khandakar) সঞ্চালনায় চলছে ইনসাফ শো।বিষয় : দাওয়াতে তাবলীগের চলমান সমস্যা ও আজকের সংবাদ সম্মেলন।অতিথি : মাওলানা মাওলানা বাহাউদ্দীন জাকারিয়া, মাওলানা জহির ইবনে মুসলিম, মাওলানা ফজলুল করীম কাসেমী ও মাওলানা লোকমান মাজহারী।পর্ব : ৫৬

Posted by insaf24.com on Sunday, December 2, 2018