জুম’আর দিনের করনীয়

জুম’আর দিনের করনীয়

মাওলানা আতাউল কারীম মাকসুদ


মুসলিম জাতির জন্য সাপ্তাহিক ঈদের দিন। মহান আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে আমাদের জন্য উত্তম উপহার।
মহান আল্লাহ তাআলা কুরআনে কারিমে একটি সুরার নাম রেখেছেন ‘জুমুআ’। এদিনের বিধান আল্লাহ তাআলা স্বয়ং কুরআনে কারিমে প্রদান করেছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘ হে ঈমানদারগণ! জুমার নামাজের জন্য মসজিদ থেকে আহ্বান করা হলে দ্রুত নামাজ আদায় করার জন্য মসজিদের দিকে গমণ কর, এবং ব্যবসা বাণিজ্য ও দুনিয়াবী কাজ কারবার ছেড়ে দাও। এটিই তোমাদের জন্য উত্তম, যদি তোমরা জানতে।

এজন্য ফুকাহায়ে কেরামের মতে জুমার আযানের পর ক্রয় বিক্রয় নিষিদ্ধ। কেবল ক্রয় বিক্রয়ই নয়, বরং জুমার নামাজে যেতে দেরী করে, বাধা সৃষ্টি করে এমন সকল কাজ নিষিদ্ধ।

হাদিস শরিফে জুমার দিনের অনেক ফজিলত বর্ণিত হয়েছে। সংক্ষিপ্ত কয়েকটি উল্লেখ করছি।
রাসুলে কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, ‘জুমার দিন সপ্তাহের সর্বোত্তম দিন। আদম আ.কে সে দিন সৃষ্টি করা হয়েছে। এদিনই তাকে বেহেশতে দেওয়া হয়েছিল। আবার এ দিনই তাকে দুনিয়ায় পাঠানো হয়েছিল।

সাময়িক এক প্রেক্ষাপটে আদম আ.দুনিয়ায় আগমন করেন। তওবা কবুল করার জন্য দীর্ঘদিন তাকে অপেক্ষা করতে হয়। সর্বশেষ আদম আ.এর তওবা শুক্রবারে কবুল করা হয়।
রাসুলে কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরো বলেন, জুমার দিন ইনতিকালকারী ব্যক্তির কবরে আজাব হয় না। কিয়ামত পর্যন্তের জন্য তার কবর আজাব মাফ করে দেওয়া হয়।

‘জুমুআ’ শব্দের অর্থ একত্রিত হওয়া। মুসলিম জাতি এ দিন দল মত নির্বিশেষে মসজিদে গিয়ে একত্রিত হন। এজন্য তাকে জুমার দিন বলা হয়। আবার কোনো কেনো হাদিস এর ভাষ্যমতে বুঝে আসে, কিয়ামতের ময়দানে সকল মানুষ এদিনেই একত্রিত হবে। তাই তাকে ‘জুমার’ দিন বলা হয়।

হাদিস শরিফে জুমার দিনের কয়েকটি করণীয় বিবৃত হয়েছে। সংক্ষেপে উল্লেখ করছি-
১. রাসুলে কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, জুমার দিন ভালোভাবে গোসল করা, অতি দ্রুত মসজিদে চলে আসা, কোনো বাহনে আরোহণ না করে পায়ে হেঁটে মসজিদে আসা, ইমাম সাহেবেরে কাছাকাছি বসা, খুতবা মনোযোগ দিয়ে শ্রবণ করা, খুতবার সময় অনর্থক কোনো কাজ না করা। এ কাজগুলো করলে মহান আল্লাহ তাআলা মসজিদে আগন্তুক সকল মুসল্লির প্রতিটি কদমের বিনিময়ে এক বছর নফল নামাজ ও এক বছর নফল রোজার সওয়াব দান করবেন।
রাসুলে কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরো বলেন, ‘জুমার দিন রহমতের ফেরেশতা খাতা কলম নিয়ে মসজিদের দরজায় দাড়িয়ে যান। সর্বপ্রথম আগন্তুক ব্যক্তির জন্য একটি উট কুরবানি করার সওয়াব দেওয়া হয়। দ্বিতীয়জনকে একটি গরু কুরবানি করার সওয়াব দেওয়া হয়। তৃতীয় ব্যক্তির জন্য একটি ছাগল কুরবানি করার সওয়াব দেওয়া হয়। চতুর্থ ব্যক্তির জন্য মুরগি কুরবানি করার সওয়াব দেওয়া হয়। পঞ্চমবারে আগন্তুক ব্যক্তির জন্য একটি ডিম কুরবানি করার সওয়াব দেওয়া হয়।
এজন্য সবাইকে জুমার দিন দ্রুত মসজিদে আসার চেষ্ঠা করা দরকার।

২. জুমার দিনের দ্বিতীয় আমল হলো সুরায়ে কাহাফ তিলাওয়াত করা। হাদিস শরিফে তার ফজিলত বিবৃত হয়েছে। নবিজি সা. বলেন, শুক্রবার দিন সুরায়ে কাহাফ তিলাওয়াতকারীর জন্য একটি নুর পরবর্তি শুক্রবার পর্যন্ত আলো দান করবে।

৩. জুমার দিনের গুরুত্বপূর্ণ আরেকটি করণীয় হলো বেশি বেশি দুরুদ শরিফ পড়া। রাসুলে কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘জুমার দিন তোমরা আমার উপর বেশি বেশি দুরুদ শরিফ পাঠ কর। কারণ তোমাদের দুরুদ শরিফ ফেরেশতাদের মাধ্যমে আমার কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়।

মুসলমানদের জন্য দুরুদ শরিফ পাঠ করা অত্যন্ত সৌভাগ্যের বিষয়। স্বয়ং মহান আল্লাহ তাআলা মুমিনদেরকে দুরুদ শরিফ পাঠ করার নির্দেশ প্রদান করেছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘নিশ্চয় আল্লাহ তাআলা ও ফেরেশতারা নবির উপর দুরুদ পাঠ করেন। হে মুমিনরা! তোমরাও নবির উপর দুরুদ ও সালাম পাঠ কর।

রাসুলে কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উম্মাহকে বিভিন্নভাবে দুরুদ শরিফ পাঠ করতে উদ্বুদ্ধ করেছেন। নবিজি বলেন, ‘আমার রওজার কাছে এসে দুরুদ শরিফ পাঠ করলে আমি নিজের কানে শুনতে পারি এবং উত্তর প্রদান করি। আর দুনিয়ার কোনো প্রান্থে বসে দুরুদ পাঠ করলে ফেরেশতাদের মাধ্যমে আমার কারেছ পৌছে দেওয়া হয়।

ভিন্ন আরেকটি হাদিসে বিবৃত হয়েছে নবিজি বলেন, আমার উপর একবার দুরুদ পাঠকারী ব্যক্তির উপর মহান আল্লাহ তাআলা দশটি রহমত নাযিল করেন।

তাই জুমার দিন বেশি বেশি দুরুদ শরিফ পাঠ করা উচিৎ। বিশেষত জুমার দিন অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দুরুদ শরিফ পড়া প্রয়োজন। মহান আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে তাওফিক দান করুন।

(চলবে)