আদালত অবমাননা : দুই মন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি বিএনপি’র

ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম |

মওদুদ আহমদ‘শপথ ভঙ্গ’ করায় খাদ্যমন্ত্রী এডভোকেট কামরুল ইসলাম ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আকম মোজাম্মেল হকের পদত্যাগ দাবি করেছে বিএনপি। দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানিয়ে বলেন, আইনগত এবং নৈতিকভাবে এই দুই মন্ত্রী আর পদে থাকতে পারেন না।

দলের পক্ষে নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের পর এ দুই মন্ত্রী যে সব সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তাও বাতিল করতে হবে।

ব্যারিস্টার মওদুদ বলেন, মাননীয় প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বে আট সদস্যের আপিল বিভাহের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চের ৫৪ পৃষ্ঠার রায়ে দুই মন্ত্রিকে সাজা দেয়ার ক্ষেত্রে একমত হয়েছেন এবং দুই মন্ত্রীর প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে সাত দিনের জেল প্রদান করেন। প্রধান বিচারপতিসহ সংখ্যাগরিষ্ঠ বিচারপতি, দুই মন্ত্রী সংবিধান রক্ষার শপথ ভঙ্গ করেছেন বলে মত দিয়েছেন।

রায়ে আরো বলা হয়, সংবিধানের অর্পিত দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে দুই মন্ত্রি অবহেলা করেছেন। তারা তাদের দোষ স্বীকার করেছেন। বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলে দুই মন্ত্রী বিচার বিভাগের মর্যাদাকে খাটো করেছেন। এটা মারত্মক ফৌজদারি আদালত অবমাননা এবং সংবিধানে প্রদত্ত ব্যবস্থার লঙ্ঘন।

আজ বিকেলে নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এই সংবাদ সম্মেলন হয়। এসময় বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, খায়রুল কবির খোকন, কেন্দ্রীয় নেতা ও আইনজীবী মাসুদ আহমেদ তালুকদার, ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, জাকির হোসেন, মেজবাহ ব্যারিস্টার আতিকুর রহমান, অ্যাডভোকেট রোকনুজ্জামান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

মওদুদ আহমদ বলেন, এখন প্রশ্ন এসেছে সাজাপ্রাপ্ত দুই মন্ত্রী স্বপদে বহাল থাকতে পারেন কিনা। যদিও এ বিষয়ে সরকারের নীতি নির্ধারক পর্যায়ের কেউ এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেননি। সে কারণেই দেশের সর্ববৃহৎ দায়িত্বশীল গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপি মনে করে, সুপ্রিম কোর্টের মর্যাদা ও ভাবমূর্তি রক্ষার্থে কালবিলম্ব না করে দুই মন্ত্রী অবিলম্বে মন্ত্রিত্ব ও জাতীয় সংসদ থেকে পদত্যাগ করবেন।

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মওদুদ আহমদ সর্বোচ্চ আদালতের রায়ের তারিখ অর্থাৎ ২৭ মার্চ থেকে দুই মন্ত্রী কর্তৃক স্বাক্ষরিত সব আদেশ বাতিল ঘোষণা করার আহ্বানও জানিয়ে বলেন, আমরা অবিলম্বে দুই মন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি করছি। সেইসাথে ২৭ মার্চ, ২০১৬ তারিখ থেকে দুই মন্ত্রী কর্তৃক স্বাক্ষরিত সকল আদেশ বাতিল ঘোষণার আহ্বান জানাচ্ছি।

আদালত অবমাননার দায়ে পদত্যাগকারী বিদেশের বেশ কয়েকজন মন্ত্রী বা প্রভাবশালী ব্যাক্তির নাম উল্লেখ করে মওদুদ আহমদ বলেন, পাবলিক সার্ভেন্ট অর্ডিন্যান্স- ১৯৮৫ এর ধারা ৩ (১) অনুযায়ী রায় ঘোষণার তারিখ হতে তারা পদচ্যুত হবেন। কারণ কোনো পাবলিক সার্ভেন্ট আদালত কর্তৃক ফৌজদারী মামলায় ১০ হাজার টাকার অধিক জরিমানা করা হলে তিনি তার স্বপদে বহাল থাকিতে পারেন না।

বিএনপির শীর্ষ এই নেতা বলেন, ২০০৬ সালের ১২ মে ভারতের মহারাষ্ট্রের পরিবহন মন্ত্রি স্বরূপ সিং নায়েককে আদালত দোষী সাব্যস্ত করলে তিনি পদত্যাগ করেন। ১৯৮২ সালে আদালত অবমাননার দায়ে কেরালার মন্ত্রী আর বালাকৃষ্ণ পিল্লাই পদত্যাগ করেন। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইউসুফ রাজা গিলানি ২০১২ সালে দোষী সাব্যস্ত হলে শুধু প্রধানমন্ত্রী নয় সংসদ থেকেও পদত্যাগ করেন।