সমাজ ও রাজনীতির ইসলামীকরণ

মুফতী হারুন ইজহার চৌধুরী



বাংলাদেশে ইসলামের বিজয় ও সম্ভাবনাকে ইসলামপন্থী দলগুলোর অবস্থার বাহ্যিক দৃশ্য দ্বারা বিচার না করে সামাজিক প্রভাবের সমীকরণ দ্বারা ইসলামের সেই বিজয় ও সম্ভাবনাকে মূল্যায়ন করতে হবে।
আমরা আগে থেকেই পলিটিকাল ইসলামের বেহাল দশায় নৈরাশ না হয়ে সোশাল ইসলামের অপ্রতিরোধ্য শক্তির আশাজাগানিয়া গতিধারা সম্পর্কে কথা বলে আসছি। আজকে বিবিসি’র একটি রিপোর্ট সে সত্যকে তাদের মত করে তুলে ধরেছে।

বিবিসি’র আজকের পর্যালোচনা মতে আসন্ন সংসদ নির্বাচনে গত দশ বছরের পাঁচটি পরিবর্তন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। তার একটি হলো; “সমাজ ও রাজনীতির ইসলামীকরণ”

দশ বছর আগে বাংলাদেশের রাজনীতিতে প্রধান দুই দল ছিল আওয়ামী লীগ এবং বিএনপি, এখনও তাই। বাংলাদেশের রাজনীতিতে বাম-ডান এবং ধর্মনিরপেক্ষ ও ধর্মভিত্তিক রাজনীতির যে মেরুকরণ, সেখানে এই দুই দল ছিল দুই বিপরীত মেরুর প্রতিনিধিত্বকারী প্রধান দল। এই দুটি দল তাদের সেই অবস্থান কতটা ধরে রাখতে পেরেছে? নাকি তাদের দুর্বলতার কারণে নতুন কোন রাজনৈতিক শক্তি বাংলাদেশে জায়গা করে নিচ্ছে?

”অধ্যাপক আলী রীয়াজের মতে বাংলাদেশে বিগত কয়েক দশকের মোটা দাগের যে রাজনৈতিক বিভাজন, যার একদিকে আওয়ামী লীগ এবং আরেক দিকে বিএনপি, সেই অবস্থায় পরিবর্তন ঘটছে। বাংলাদেশের রাজনীতি এবং সমাজে রক্ষণশীল ইসলামী দল এবং গোষ্ঠীগুলো শক্তিশালী হয়ে উঠছে।

“সামাজিকভাবে বাংলাদেশে যে ইসলামীকরণ হয়েছে, তাতে করে সমাজে তাদের গ্রহণযোগ্যতা তৈরি হয়েছে। এই ধরণের সামাজিক শক্তির গ্রহণযোগ্যতা রাজনীতিতে প্রভাব ফেলতে বাধ্য। শুধু তাই নয়, সাংগঠনিকভাবেও ইসলামপন্থী এই শক্তি, যাদেরকে আমি রক্ষণশীল ইসলামপন্থী শক্তি বলি, তারা শক্তিশালী হচ্ছে। সমাজে গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধি পেয়েছে। সর্বোপরি তাদের প্রভাব বিস্তার ক্ষমতা অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে।”
অধ্যাপক রীয়াজের মতে, এর পাশাপাশি বড় দলগুলোর শক্তিক্ষয় ঘটছে, আর সেই শূন্য স্থান দখল করছে ইসলামপন্থীরা।”

“সাংগঠনিকভাবে গত দশ বছরে আওয়ামী লীগও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে সরকারের থাকার কারণে, সরকার ব্যবস্থার মধ্যে দল পরিচালনার কারণে। বিএনপি তো অবশ্যই সাংগঠনিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে , বর্তমান পরিস্থিতিতে বিএনপি চাপের মুখে থাকার কারণে যতটা গুটিয়ে গেছে, ততটুকু স্পেস তৈরি হয়েছে আসলে এই ইসলামপন্থী দলগুলোর জায়গা নেয়ার।”

বাংলাদেশের রাজনীতি যে ক্রমশ দক্ষিণপন্থার দিকে ঝুঁকছে, সে বিষয়ে একমত লেখক এবং গবেষক ড: সলিমুল্লাহ খানও। ঢাকার ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টসের অধ্যাপক ড: খানের মতে, “শেষ বিচারে বাংলাদেশের রাজনীতি অনেক বেশি ডানপন্থী হয়েছে। আমি একটা উদাহরণ দেই আপনাকে। যাদেরকে আপনি ইসলামপন্থী বলছেন, অথবা বিএনপির জোট, অথবা বদরুদ্দোজা চৌধুরী বা ড: কামাল, অথবা আওয়ামী লীগ – সকলেই একটা জায়গায় একদিকে সরে গেছে। এরা সবাই ব্যক্তিগত সম্পত্তি অভিলাষী শক্তিশালী বুর্জোয়া দলে পরিণত হয়েছে।”

“এখন তাহলে আপনার সামনে চয়েসটা কি। আপনি কি গুলিতে মারা যাবেন নাকি ফাঁসিতে মরবেন। আমরা এখন যে পরিস্থিতিতে আছি, এটিকে আমরা বলি একটা নয়া ঔপনিবেশিক পরিস্থিতি। যেখানে আপনার যে কোন চয়েসই আপনাকে খারাপ দিকে নিয়ে যাবে, যতক্ষণ পর্যন্ত আপনি বিদ্রোহ করতে না পারেন। এটা অত্যন্ত ভয়াবহ পরিস্থিতি।”

অধ্যাপক আলী রীয়াজের মতে, রক্ষণশীল ইসলামপন্থী দলগুলোর এই উত্থানের পেছনে রাষ্ট্রক্ষমতারও প্রচ্ছন্ন একটা সমর্থন আছে। “যেমন ধরুণ হেফাজতে ইসলাম। রাষ্ট্রীয়ভাবেও আসলে সমর্থন পাচ্ছে হেফাজতে ইসলাম বা হেফাজতে ইসলামের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক শক্তিগুলো। আর আমার মনে হচ্ছে, সরকারি দলও যেন চাইছেন এই ধরণের শক্তিগুলো যেন জায়গা করে নিতে পারে।।”
-বিবিসি

প্রশ্ন হলো আপনি ইসলামপন্থী হিসেবে ভবিষ্যতের রূপকল্প কীভাবে তৈরী করছেন?

ফেসবুক থেকে