জানুয়ারি ২৪, ২০১৭

জাতির পিতার স্বপ্ন ছিল, একদিন বাংলাদেশ উন্নত হবে : প্রধানমন্ত্রী

ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম |

শেখ হাসিনা insaf24.com (5)ভাদ্র, আশ্বিন ও কার্তিক মাসে হতদরিদ্র শ্রমজীবী মানুষের কোনো কাজ থাকে না। কিনে খাওয়ার সামর্থ্যও তাদের নেই। তাই এই তিন মাস তাদের জন্য কেজি প্রতি ১০ টাকা দরে চালের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

এছাড়া চৈত্র-বৈশাখ মাসেও এই দামে চাল পাবেন হতদরিদ্ররা। আগে কুড়িগ্রামে মঙ্গা ছিল। এখন আর মঙ্গা হয়না।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি দেখেছি, মানুষের কী অবস্থা, পায়ে স্যান্ডেল আছে কিনা, পেটে ভাত আছে কিনা, ঘর আছে কিনা। আমরা দরিদ্রদের জমি দেবো, ঘরবাড়ি দিবো। যারা ক্ষুধার্ত তাদের খাবার দেবো। জাতির পিতার স্বপ্ন ছিল, একদিন বাংলাদেশ উন্নত হবে, সমৃদ্ধশালী হবে।

বুধবার খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় হতদরিদ্র পরিবারের মধ্যে ১০ টাকা কেজি দরে চাল বিতরণ কার্যক্রম উদ্বোধন অনুষ্ঠানে কুড়িগ্রামের চিলমারী এ কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

চিলমারীর থানাহাট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে, ‘শেখ হাসিনার বাংলাদেশ, ক্ষুধা হবে নিরুদ্দেশ’ এই স্লোগান নিয়ে হতদরিদ্র মানুষের জন্য পল্লী রেশনিং কার্যক্রমের উদ্ধোধন করেন শেখ হাসিনা।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যুদ্ধের পর দেশ গঠনে বঙ্গবন্ধু নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছিলেন। দেশে চালের দাম ১০টা টাকা সাড়ে ৩ টাকায় যখন নামিয়ে এনেছিলেন, ঠিক তখনই বঙ্গবন্ধুকে নির্মমভাবে খুন করা হয়। বঙ্গবন্ধুর সেই ক্ষুধামুক্ত বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন আমি পূরণ করবই।’

এ সময় জঙ্গিবাদের বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকার পরামর্শ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আপনার সন্তানের বিষয়ে খবর রাখুন, সন্তান স্কুলে-কলেজে যাচ্ছে কিনা, তার খোঁজ খবর নিন। আপনার সন্তান অসুস্থ হয়ে স্কুলে-কলেজে যেতে পারছে না। অন্য কোথাও যাচ্ছে কিনা তার খোঁজ নিন।

প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, পাড়া প্রতিবেশী সকলকে খবর রাখতে হবে। আপনাদের সন্তানরা কি করছে। তারা কেন ভুল পথে যাবে। ইসলাম শান্তির ধর্ম। প্রতিটি ধর্মে শান্তির কথা বলা আছে। কেউ যেন ভুল পথে না যায় সে জন্য প্রতিবেশী, নির্বাচিত প্রতিনিধি, প্রশাসন সবার এলাকার তরুণদের খোঁজ রাখতে হবে। জঙ্গিবাদ মোকাবেলায় জনমত সৃষ্টি করতে হবে।

বেকার সমস্যার সমাধানে আওয়ামী লীগ সরকার কাজ করে যাচ্ছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কাজের সুযোগ আমরা করে দিয়েছি। তরুণরা দেশের জন্য কাজ করবে, মানুষের জন্য কাজ করবে, নিজের জন্য কাজ করবে।

কর্মসূচির আওতায় দেশের ৫০ লাখ হতদরিদ্র পরিবার ১০ টাকা কেজিতে প্রতিমাসে ৩০ কেজি করে চাল পাবে। প্রতি বছরের মার্চ ও এপ্রিল এবং সেপ্টেম্বর, অক্টোবর, নভেম্বর এই পাঁচ মাস কর্মসূচির আওতায় চাল পাবে পরিবারগুলো।

কুড়িগ্রাম জেলার নয় উপজেলার এক লাখ ২৫ হাজার ২৭৯ পরিবার এ সুবিধার আওতায় আসবে।

এর আগে বুধবার বেলা ১১টার দিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলার থানাহাট এ ইউ পাইলট উচ্চবিদ্যালয় মাঠে হেলিকপ্টারযোগে পৌঁছান।

এদিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আগমন সফল করতে চিলমারীতে ব্যাপক কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে। জেলা ও স্থানীয় আওয়ামী লীগসহ প্রশাসনের কর্মকর্তারা কর্মসূচি সফল করতে কাজ করে যাচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানাতে কুড়িগ্রাম-চিলমারী মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে তৈরি করা হয়েছে তোরন। অপেক্ষায় রয়েছে চিলমারীসহ গোটা কুড়িগ্রামের মানুষ। কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক খান মো. নুরুল আমিন সাংবাদিকদের জানান, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর আগমন ও হতদরিদ্রদের জন্য ১০ টাকা কেজিতে চাল বিতরণ কর্মসূচি সফল করতে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।