মার্চ ২৩, ২০১৭

যারা জিয়ার পদক প্রত্যাহার করেছে তারা স্বাধীনতাকে অস্বীকার করছে : ফখরুল

ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম |

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরশহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের পদক যারা প্রত্যাহার করেছে তারাই স্বাধীনতাকে অস্বীকার করছে বলেও মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

জাতীয় জাদুঘর থেকে জিয়াউর রহমানের পদক শরিয়ে নেওয়া প্রসঙ্গে বৃহস্পতিবার দুপুরে বিএনপির নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। এসময় আগামী শনিবার ১০ সেপ্টেম্বর সারাদেশে জেলা ও মহানগরে বিক্ষোভ কর্মসূচিও ঘোষণা করেন তিনি।

মির্জা ফখরুল বলেন, জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতা পদক যারা বাতিল করেছে তারাই মূলত স্বাধীনতা বিরোধী। এই সিদ্ধান্ত শুধু সংকীর্ণতার পরিচয় নয়, বাংলাদেশের রাজনীতিতে নিকৃষ্টতম একটা উদাহরণ হয়ে থাকবে।

 

ফখরুল বলেন, ১৯৭১ সালে পাকিস্তান সেনাবাহিনী যখন অসহায় নিরস্ত্র বাংলাদেশীদের নিশ্চিহ্ন করবার জন্য ঝাঁপিয়ে পড়েছিলো, হত্যা করছিলো নির্বিচারে, যখন রাজনৈতিক নেতৃত্ব সঠিক দিক নির্দেশনা দিতে ব্যর্থ হয়েছিল তখন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান চট্টগ্রাম কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঘোষনা দিয়ে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়বার নির্দেশ দিয়েছিলেন এবং অনুপ্রানিত করেছিলেন সমগ্র জাতিকে। সেই শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এর স্বাধীনতার পদক যারা কেড়ে নিচ্ছে তারা স্বাধীনতাকে অস্বীকার করছে। স্বাধীনতা যুদ্ধে তাঁর অবদান অস্বীকার করার কোন সুযোগ নেই। তখন থেকেই শহীদ জিয়া একটি নাম-একটি কিংবদন্তী, একটি স্বপ্ন।

তিনি বলেন, এই ধরনের কার্যকলাপ হীন রাজনৈতিক প্রতিহিংসাপ্রসূত। এই সিদ্ধান্তে শুধু জিয়াউর রহমানকে হেয় করা হচ্ছেনা বরং স্বাধীনতার সংগ্রামে যারা অসাধারণ অবধান রেখেছেন তাদের সকলের জন্য এটা চরম অবমাননাকর। সরকার এই ধরনের সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রমান করলো যে, সত্যিকারের মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে তাদের সর্ম্পক ছিলনা। এই ধরনের গণবিরোধী, বাংলাদেশের অস্তিত্ব বিরোধী সিদ্ধান্ত দেশকে আরও বিভক্ত করবে। দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও সংকটময় ও জটিল করবে। এই সিদ্ধান্ত শুধু সংর্কীণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রনোদিত নয়, এটা প্রতিহিংসাপরায়ণ, গণবিচ্ছিন্ন ও ঔদ্ধত্যপূর্ণ। এই সিদ্ধান্তের ফলে স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে পদকপ্রাপ্ত বরেণ্য ব্যক্তিবর্গকে অবমাননা করার সামিল।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের নাম স্বাধীনতা যুদ্ধ, স্বাধীনতা, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক মুক্তির সঙ্গে জড়িয়ে আছে। হৃদয়ে প্রোথিত জিয়াকে মুছে ফেলা যাবেনা। জিয়া এবং বাংলাদেশ অবিচ্ছেদ্য।

তিনি আরো বলে, বিচারপতি খায়রুল হকের একটি রায়ের Observation হতে সমগ্র বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক চিত্র বদলে দিচ্ছে আওয়ামীলীগের এই অনৈতিক সরকার। আদালতের রায়ের এই Observation এর ভুল ব্যাখা দিয়ে নিজেদের দলীয় স্বার্থে-তত্বাবধায়ক সরকারের বিধান বাতিল করে, দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন, সংবিধানের মৌলিক Observation কে বিকৃত করে সংবিধানে ৩টি অনুচ্ছেদ অন্তর্ভূক্তকরণ করা হয়েছে যা কোনদিন পরিবর্তন করা যাবেনা। আওয়ামী লীগ আজীবন ক্ষমতায় থাকার জন্য স্বৈরাচারী একনায়কতান্ত্রিক সরকারগুলোর  মতোই অবৈধভাবে ক্ষমতার অপব্যবহার করে চলেছে।

ফখরুল বলেন, শহীদ জিয়া সামরিক অভূত্থান ঘটাননি। ১৯৭৫ সালে সামরিক অভূত্থান  ঘটিয়েছিলো আওয়ামী লীগ নেতা খন্দকার মোস্তাক। ১৯৭৫ সালে যখন দেশে নৈরাজ্য চলছিলো-শহীদ জিয়াকে বন্দী করা হয়েছিলো-পরবর্তীতে ৭ই নভেম্বর সিপাহী জনতার গণঅভূত্থানের মধ্য দিয়ে শহীদ জিয়া বন্দীদশা থেকে মুক্ত হন। রাষ্ট্রপতি বিচারপতি আব্দুল সায়েম ছিলেন প্রধান সামরিক প্রশাসক। পরবর্তীতে একটি গণভোটের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নেন প্রেসিডেন্ট জিয়া। পরবর্তীতে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এই নির্বাচনে আওয়ামী লীগসহ বিরোধী দলগুলোর জোটের প্রার্থী হন-মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক-জেনারেল এম এ জি ওসমানি। প্রেসিডেন্ট জিয়া জনগণের বিপুল ম্যান্ডেট নিয়ে ১৯ দফা কর্মসূচি প্রদানের মাধ্যমে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বলাভ করেন। জনগণ তাঁকে এই দায়িত্ব অর্পণ করেন।

তিনি বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়া বহুদলীয় গণতন্ত্র, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, মানুষের মৌলিক অধিকারগুলো ফিরিয়ে দেন। ৫ম সংশোধনী সংবিধানে অর্ন্তভূক্তির ফলেই আওয়ামী লীগসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলো পুনরায় রাজনীতি করবার আইনগত বৈধতা অর্জন করেন।

ফখরুল বলেন, যে জাতীয় সংসদে ৫ম সংশোধনী গৃহীত হয়েছিলো সেই সংসদে আওয়ামী লীগ প্রধান বিরোধী দল হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছে। সেই সংসদে ন্যাপ এর প্রফেসর মোজাফ্ফর আহমেদ, সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত, সাম্যবাদী দলের কমরেড মোহাম্মদ তোয়াহা, ইউ পি ডি এর রাশেদ খান মেনন, বরেণ্য রাজনীতিবিদ আতাউর রহমান খান, আওয়ামী লীগ (মিজান) এর জনাব মিজানুর রহমান চৌধুরী প্রমূখ সংসদ সদস্য ছিলেন। যদি ৫ম সংশোধনী অবৈধ হয় তবে পঞ্চদশ সংশোধনীর পূর্বে সকল সরকারের সকল কার্যকলাপ কি অবৈধ হয়না ? পঞ্চম সংশোধনী বলেই-১৯৮২ সালের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থী বিচারপতি আব্দুস সাত্তারের বিপক্ষে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন জোটের প্রার্থী ছিলেন বর্তমান গনফোরামের সভাপতি ড.কামাল হোসেন।

নির্বাচনে ৭০ ভাগের উপরে ভোট পড়েছিলো এবং সেই সাংবিধানিক ধারাবাহিকতায় পঞ্চদশ সংশোধনী গৃহীত না হওয়া পর্যন্ত রাষ্ট্র  পরিচালিত হয়েছে। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ নির্বাচিত  হয়ে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে এসেছে এবং বিএনপি সরকারের আমলে গৃহীত তত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনে অংশ নিয়েছে। ১৯৯৬ সালে এবং ২০০৮ সালে নির্বাচিত হয়ে ক্ষমতায় গিয়েছে আওয়ামী লীগ।