নেতাকর্মীদের সিলেট ছাড়ার হুমকি দেয়া হচ্ছে : খন্দকার মুক্তাদির

ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম | নিজস্ব প্রতিনিধি


সিলেট-১ আসনে বিএনপির প্রার্থী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, “সিলেটের প্রশাসন পরিকল্পিতভাবে আমার নির্বাচনী কর্মকাণ্ডে বাধা দিচ্ছে। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিএনপি নেতাকর্মীদের গ্রেফতার ও তল্লাশির নামে অযথা হয়রানি করা হচ্ছে।”

এসময় সিলেট মহানগর পুলিশের শাহপরান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আখতার হোসেনকে দ্রুত বদলির দাবি করেন তিনি।

রোববার সকালে সিলেট নগরের ইলেকট্রিক সাপ্লাই এলাকায় ধানের শীষ প্রতীকের প্রধান নির্বাচনী কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এ দাবি জানান।

বিএনপি চেয়ারপারসনের এই উপদেষ্টা বলেন, “আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং সরকার দলীয় লোকজন প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে আমার নির্বাচনী কাজে নিয়মিত বাধা দিয়ে যাচ্ছে। নেতাকর্মীদের নির্বিচারে গ্রেফতার করা হচ্ছে ও বাসাবাড়িতে তল্লাশির নামে বিএনপি নেতাকর্মী ও তাদের স্বজনদের হয়রানি নিত্য নৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। নেতাকর্মীদেরকে সিলেট ছেড়ে চলে যাওয়ার জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী হুমকি দিচ্ছে।”

খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, “১০ ডিসেম্বর প্রতীক বরাদ্দের পরেই ধানের শীষ প্রতীকের পক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে আমরা নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা শুরু করি। সেদিন থেকেই সিলেটের প্রশাসন পরিকল্পিতভাবে আমার নির্বাচনী কর্মকাণ্ডে বাধা দিচ্ছে। ইতিমধ্যে নির্বাচনী কার্যক্রম পরিচালনার জন্যে ইলেকট্রিক সাপ্লাই রোডস্থ নুরে আলা কমিউনিটি সেন্টার ভাড়া নিয়ে আমরা প্রধান নির্বাচনী কার্যালয় স্থাপন করেছি। শুধুমাত্র আমাদের কাছে ভাড়া দেয়ার কারণে কমিউনিটি সেন্টার কর্তৃপক্ষকে গোয়েন্দা পুলিশ পরিচয়ে নানাভাবে হয়রানি করা হচ্ছে।”

তিনি বলেন, “সিলেট মহানগর ও সিলেট সদর উপজেলায় আমাদের গুরুত্বপূর্ণ নেতৃবৃন্দের বাড়িতে দফায় দফায় তল্লাশি করা হচ্ছে। আমাদের নেতাকর্মীরা গ্রেফতার এড়াতে অন্যত্র রাত কাটাতে বাধ্য হচ্ছেন। নেতাকর্মীদের বাড়িতে না পেয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাদের স্বজনদের সঙ্গে চরম অসৌজন্যমূলক আচরণ করছে। অনেকের বসতঘরের আসবাবপত্র তছনছ করা হচ্ছে। আমাদের নেতাকর্মীদেরকে সিলেট ছেড়ে চলে যাওয়ার জন্য হুমকি দেয়া হচ্ছে। এমনকি ৩০ তারিখের পর সিলেট আসার জন্য নির্দেশ দেয়া হচ্ছে। এ অবস্থায় আগামী ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচন কতটুকু অবাধ, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ হবে- তা নিয়ে জনমনে সন্দেহের সৃষ্টি হয়েছে।”

“গত ১৩ ডিসেম্বর জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ হজরত শাহজালাল (র.) এর মাজার জিয়ারতে আসলে সেখানে কর্তব্যরত পুলিশ আমাদের মাইকিংয়ে বাধা দেয় এবং আমাদের প্রচারণা মাইকের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়। অথচ আমরা নির্বাচনী আচরণ বিধিমালা লঙ্ঘন করিনি। গত এক সপ্তাহে আমাদের অনেক নেতাকর্মীকে অন্যায়ভাবে গ্রেফতার করা হয়েছে। এদের কারো কারো বিরুদ্ধে পুরনো রাজনৈতিক মামলা থাকলেও তারা এসব মামলায় জামিনে রয়েছেন। কারো কারো বিরুদ্ধে নতুন করে গায়েবি মামলা দায়ের করা হয়েছে।” যোগ করেন মুক্তাদির।

তিনি প্রশাসনের প্রতি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, “যদি আমাদের প্রচারকাজে বাধা দেয়া বন্ধ করা না হয়, প্রশাসন যদি নিরপেক্ষ আচরণ না করে, আমাদের নেতাকর্মীদের গ্রেফতার ও হয়রানি বন্ধ করা না হয় তাহলে আমরা প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অপসারণের জন্য নির্বাচন কমিশনের কাছে অভিযোগ দায়ের করতে বাধ্য হবো।”

সংবাদ সম্মেলনে আরও বক্তব্য দেন সিলেট সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী, জেলা বিএনপি সভাপতি আবুল কাহের চৌধুরী শামীম ও মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসাইন।

এ সময় সিলেট জেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট নুরুল হক, জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুল গাফফার, মহানগর ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আজমল বখত চৌধুরী সাদেক, ঐক্যফ্রন্ট নেতা অ্যাডভোকেট আনসার খান, পেশাজীবী নেতা বদরুদ্দোজা বদর, মহানগর বিএনপির সহ-সভাপতি হুমায়ুন কবির শাহীন, অ্যাডভোকেট ফয়জুর রহমান জাহেদ, জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম সিলেটের সভাপতি অ্যাডভোকেট এটিএম ফয়েজ, মহানগর বিএনপির সহ-সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, জেলা শাখার সহ-সভাপতি শাহজামাল নুরুল হুদা, মহানগর সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান সাবু, আব্দুর রহিম, সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট আক্তার হোসেন খান, মহানগর বিএনপির যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন চৌধুরী, জেলা যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মামুনুর রশীদ মামুন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।