মার্চ ২৩, ২০১৭

মসজিদের ইমাম হত্যাকারীদের শাস্তি দিন: মাওলানা ইসলামাবাদী

ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম |

আজিজুল হক ইসলামাবাদীমসজিদে ইমামকে হাত-পা বেঁধে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে হত্যাকারীদের শাস্তি দাবি করেছেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশে সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী।

আজ ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকমের সাথে একান্ত আলাপকালে তিনি এ দাবি জানান।

দেশে সাম্প্রতিককালে একের পর এক হত্যার শিকার হচ্ছেন ইমামরা। গতকাল সেই মিছিলে যোগ হলেন সিলেটের উসমানী নগর থানার সাদীপুর ইউপির দক্ষিণ মোবারকপুর গ্রামের মসজিদের ইমাম মাওলানা আবদুর রহমান।

এসব বিষয় জানতে চাওয়া হলে হেফাজত নেতা মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, খুন, গুম, হত্যা, সন্ত্রাস নিয়ন্ত্রণে সরকার ব্যর্থ। এখন মসজিদও নিরাপদ নয়। একজন ইমামকে এইভাবে হত্যার ঘটনায় আলেমসমাজ চরমভাবে উদ্বিগ্ন। আমরা এই হত্যাকান্ডের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। অবিলম্বে হত্যকারীদের গ্রেফতারপূর্বক দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবী জানাচ্ছি।

নিহত ইমাম আব্দুর রহমান সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে অত্যন্ত পরিচিত মুখ ছিলেন বলে জানিয়েছে মাওলানা ইসলামাবাদী বলেন, আমরা জানতে পেরেছি তিনি ফেইসবুকে লেখা-লেখি করতেন। সাম্প্রতিককালে সিলেটের মসজিদের মুসল্লি ও ইসকনের ভক্তদের মধ্যে ‘সংঘর্ষের’ বিষয় নিয়ে তিনি বেশ কিছু মন্তব্য পোস্ট করেন ফেইসবুকে। অনেকের ধারণা ওইসব মন্তব্যই তার জন্য কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তিনি সরকারের কাছে সঠিক তদন্তের মাধ্যমে এই ঘৃণ্য হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত অপরাধীদের শনাক্ত করে বিচার দাবি করেছেন। তিনি বলেন, খুনিদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত না হলে আলেমরা আরো বেশী নিজেদেরকে নিরাপত্তাহীন ভাববে।

উল্লেখ্য,  গতকাল সিলেটের ওসমানীনগরে মসজিদ থেকে গলায় ফাঁস লাগানো অবস্থায় মসজিদের ইমাম মাওলানা আব্দুর রহমানের লাশ হাত-পা বাঁধা অবস্থায় উদ্ধার করেছে পুলিশ।

নিহত মাওলানা আবদুর রহমান উসমানী নগর থানার সাদীপুর ইউপির দক্ষিণ মোবারকপুর গ্রামের মসজিদের ইমাম ছিলেন। তিনি সিলেটের মোগলাবাজার থানার সোনাপুর গ্রামের আব্দুল বারির ছেলে।

প্রত্যাক্ষদর্শীদের বর্ণনা মতে, বৃহস্পতিবার সকালে মুসল্লিরা ফজরের নামাজ পড়তে এলে ইমাম সাহেবের রুম তালাবন্ধ দেখেন। কয়েকজন জানালা দিয়ে দেখতে পান ইমাম সাহেবের লাশ ঝুলছে। হাত ও পা উভয়ই বাঁধা।

মুসল্লিদের ধারণা, শাসরুদ্ধ করে হত্যা করা হয়েছে ইমাম আবদুর রহমানকে।

উসমানি নগর থানা পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য উসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করে। নিহতের বড় ভাই জনউদ্দিন বলেন, তার ভাইকে হত্যা করা হয়েছে। তাকে নৃশংশভাবে খুন করা হয়েছে- যা পরিকল্পিত বলেই মনে হয়। আমরা এ হত্যার দ্রুত বিচার চাই।

ওসমানী নগর থানার ওসি আব্দুল আউয়াল চৌধুরী বলেন, নিহত ইমামের শরীরে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, তার হাত পা বেঁধে হত্যা করে লাশ ঝুলিয়ে রেখেছে দুর্বৃত্তরা। তবে কী কারণে তাকে হত্যা করা হয়েছে এ ব্যাপারে তদন্তের পর জানা যাবে।