জানুয়ারি ২৪, ২০১৭

সুস্থ সংস্কৃতি আত্মার খোরাক : ওমর ফারুক সাহিল

ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম |

%e0%a6%93%e0%a6%ae%e0%a6%b0-%e0%a6%ab%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a7%81%e0%a6%95-%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%b9%e0%a6%bf%e0%a6%b2


ওমর ফারুক সাহিল। ইসলামি সাংস্কৃতিক অঙ্গনে এ সময়কার অন্যতম ব্যস্ত জনপ্রিয় একজন সংগীত তারকা। তিনি একই সঙ্গে গায়ক, সুরকার ও সঙ্গীত রচয়িতা। নিজের প্রতিষ্ঠিত ইসলামী সঙ্গীত দল ‘ঐশীস্বর’-এর পরিচালক হিসাবে দক্ষতার সাথে বিরামহীন কাজ করে যাচ্ছেন। ইসলামী  সাংস্কৃতিক অঙ্গনসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা হয়েছে ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকমের বিশেষ প্রতিনিধি আলাউদ্দিন বিন সিদ্দিকের সাথে।


ইনসাফ: আসসালামু আলাইকুম
ওমর ফারুক সাহিল: ওয়ালাইকুম আসসালাম


ইনসাফ: কেমন আছেন?
ওমর ফারুক সাহিল: আলহামদুলিল্লাহ্‌ ভালো


ইনসাফ: সাংস্কৃতিক অঙ্গনে আপনার শুরু কিভাবে যদি বলতেন?
ওমর ফারুক সাহিল: শুরু বলতে, আসলে ছোটবেলা থেকেই ইসলামি সংগীতের প্রতি আলাদা একটা টান ছিল। মাদ্রাসায় পড়া অবস্থায় যেকোনো অনুষ্ঠানে বড়দের ভালবাসা মিশ্রিত আহবানে আমাকে অংশগ্রহণ করতে হতো। বলা যায় ভালবাসার এ টান ধরেই সামনে আগানো।


ইনসাফ: আপনার ইসলামি সংগীতাঙ্গনে আসার পিছনে মূল অনুপ্রেরণা কার ছিল?
ওমর ফারুক সাহিল: মূল প্রেরণা বলতে গেলে অবশ্যই সবার আগে আমার বাবার কথাই বলব। ছোটবেলায় দেখতাম তিনি নজরুল সংগীত সহ বিভিন্ন ইসলামি গান গাইতেন। তাই কেন যেন ছোটবেলা থেকেই সংগীতের প্রতি এক অজানা ভালোলাগা কাজ করতে থাকে।


ইনসাফ: তাহলে কী আমরা ধরে নিবো যে, আপনার বাবাও একজন কন্ঠ শিল্পী ?
ওমর ফারুক সাহিল : শিল্পী বলতে আলহামদুলিল্লাহ তিনি ভালোই গাইতেন ছোট বেলায় দেখতাম। তাছাড়া মসজিদের ইমামের দায়িত্ব যেহেতু পালন করেন, তখন দেখা যায় বয়ান করতেও প্রয়োগ করেন চমৎকার সব পংতিমালা।


%e0%a6%86%e0%a6%b2%e0%a6%be%e0%a6%89%e0%a6%a6%e0%a7%8d%e0%a6%a6%e0%a6%bf%e0%a6%a8-%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%a8-%e0%a6%b8%e0%a6%bf%e0%a6%a6%e0%a7%8d%e0%a6%a6%e0%a6%bf%e0%a6%95
ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকমের বিশেষ প্রতিনিধি আলাউদ্দিন বিন সিদ্দিক ও ওমর ফারুক সাহিল

ইনসাফ: প্রথম স্টেজ পরিবেশনার অনুভূতি কেমন ছিল?
ওমর ফারুক সাহিল: সেটাতো অবশ্যই বেশ ভালোলাগার একটা ব্যাপার ছিলো। আমি যখন দেখলাম যে, আমি গাইতে শুরু করবার সাথে সাথে পুরো সভাস্থলে এক অন্যরকম নিরবতা নেমে এসেছে। তখন এক অদ্ভুত ভালোগার অনুভূতি আমার ভেতরে দোল খেয়ে যায়। তখনি বুঝতে পারলাম আসলে সুস্থ সংস্কৃতি আত্মার খোরাক।


ইনসাফ: আপনার পরিবেশনা পরবর্তী ভাললাগার কোন বিশেষ স্মৃতিবিজড়িত ঘটনার কথা মনে পড়ে কি?
ওমর ফারুক সাহিল: আসলে এমন ঘটনা তো রয়েছে অনেক। একটি ঘটনা খুব বেশি মনে পড়ছে। একবার ছোটবেলায় রোজার মাসে মুয়াজ্জিন সাহেব মসজিদে মানুষ কে সাহরীর জন্য আহবানের সময় আমাকে পাশের মাদ্রাসায় গিয়ে ঘুমথেকে জাগিয়ে, ধরে নিয়ে গেলেন মাইকে একটা গজল পরিবেশন করতে। চোখ কচলাতে কচলাতে উঠে গিয়ে গেয়ে শেষ করতেই, এয়তেকাফে বসা এক মুসল্লি এসে আমাকে জড়িয়ে ধরে কোলে তুলে নিলেন। কপালে চুমু খেয়ে পকেটে অনেক গুলো টাকা গুঁজে দিলেন হাসি মুখে। সত্যি এ ব্যাপারটা মনে হলে এখনো ভালোলাগে।


ইনসাফ: অামরা দেখি বর্তমান সময়ের বেশ জনপ্রিয় ইসলামি ব্যান্ড অাপনার ‘ঐশীস্বর’। এর শুরু কবে, কিভাবে?
ওমর ফারুক সাহিল: প্রথমেই শুকরি জানাই রব্বে কারীমের যে, ঐশীস্বরের এই জনপ্রিয়তা তিনিই দান করেছেন। এটির আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয় ২০১১ সালের শেষ দিকে।


ইনসাফ: এর আগে কোন সংগঠনের হয়ে কাজ করেছেন কি?
ওমর ফারুক সাহিল: না। আসলে এর আগে সেভাবে কোন সংগঠনের হয়ে দীর্ঘ সময় কাজ করার সুযোগ হয়নি। তবে দেশের অন্যতম বরেণ্য ইসলামি সংগীত শিল্পীদের সাথে নিয়মিত টুকটাক কাজ করার সুযোগ হয়েছে। এদের মধ্যে অবশ্যই অন্যতম ব্যক্তিত্ব, মরহুম আইনুদ্দীন আল আজাদ (র.), জাগ্রত কবি মুহিব খান এবং বন্ধুবর, বড় ভাই দেশের অন্যতম সাড়াজাগানো চট্টগ্রামের সংগীত শিল্পী আসহাব উদ্দিন আল আজাদ, চমৎকার সুরের শিল্পী আনিস আনসারী, জনপ্রিয় মুখ এইচ, এম সাইফুল ইসলাম, জাগরণী শিল্পী শামীম মজুমদার সহ অসংখ্য গুণী শিল্পীদের সাথে।


ইনসাফ: মিডিয়াতে’তো আপনার ও আপনার সংগঠনের বেশ চমৎকার উপস্থিতি জাতি উপভোগ করছে। তো কোন কোন চ্যানেলে কি আয়োজন গুলো নিয়মিত করছেন আপনারা সে সম্পর্কে যদি কিছু বলতেন।
ওমর ফারুক সাহিল: ধন্যবাদ! মিডিয়াতে আমাদের অনুষ্ঠান গুলোর অন্যতম একটি হল এশিয়ান রেডিও ৯০.৮ এফ এম এ প্রতি শুক্রবার রাত ১০ টার প্রাইম নিউজের পর ‘ফ্রুটিকা চেতনার ধ্বনি বাই ঐশীস্বর’ নামে একটি লাইভ ইসলামি ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান। এছাড়া সিটি এফ এম ৯৬.০০ সহ অন্যান্য এফ এমও জনপ্রিয় কিছু অনুষ্ঠানে রয়েছে আমাদের সংগীত আয়োজন।

%e0%a6%93%e0%a6%ae%e0%a6%b0-%e0%a6%ab%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a7%81%e0%a6%95-%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%b9%e0%a6%bf%e0%a6%b2-3
এশিয়ান রেডিও ৯০.৮এফএম-এর হটসিটে ওমর ফারুক সাহিল

ইনসাফ: টেলিভিশনে প্রথম কবে সংগীত পরিবেশনের সুযোগ পেয়েছিলেন?
ওমর ফারুক সাহিল: ২০০৮ এ আমি প্রথম বৈশাখী টেলিভিশনের ‘হৃদয়ে রমজান’ নামে একটি জনপ্রিয় অনুষ্ঠানে ইসলামি গান করার সুযোগ পেয়েছিলাম। এর পর ধারাবাহিক ভাবে এটিএন বাংলা, ইসলামিক টিভি, দেশ টিভি সহ প্রায় সবকটি চ্যানেলেই টুকটাক অংশগ্রহণ রয়েছে।


ইনসাফ: টেলিভিশনে আপনার ও আপনার সংগঠনের কোন আয়োজন রয়েছে কি?
ওমর ফারুক সাহিল: জি শুকরিয়া চ্যানেল ২৪ এর অন্যতম জনপ্রিয় একটি অনুষ্ঠান ‘আলোকিত নারী’ তে আমাদের সংগীত আয়োজন রয়েছে ।


ইনসাফ: দেশ ব্যাপি ইসলামি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান বা কনসার্ট কার্যক্রমের ব্যস্ততা এখন কেমন?
ওমর ফারুক সাহিল: আলহামদুলিল্লাহ্‌! সেই ব্যস্ততাও রয়েছে বেশ। যদিও এখনো পুরোপুরি মৌসুম আসেনি। শীত কালেই মোটামুটি বেশি ব্যস্ততা কাটে সারাদেশে এই নিয়ে, তবুও আগামী ঈদুল আযহার পর দেশের বিভিন্ন স্থানে রয়েছে বেশকিছু ঈদ কনসার্ট প্রোগ্রাম।


%e0%a6%93%e0%a6%ae%e0%a6%b0-%e0%a6%ab%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a7%81%e0%a6%95-%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%b9%e0%a6%bf%e0%a6%b2-2
স্টুডিওতে রেকডিং-এ ব্যস্ত ওমর ফারুক সাহিল

ইনসাফ: আপনি কী মনে করেন না যে, ইসলামী সঙ্গীতাঙ্গনে চাহিদার তুলনায় কাজ খুব কম হচ্ছে?
ওমর ফারুক সাহিল: নিশ্চই চাহিদার তুলনায় কাজ কম হচ্ছে বলেই মনে করি। তবে আশাকরি এ অবস্থা খুব বেশি সময় থাকবেনা ইনশাআল্লাহ! কারণ শুকরিয়ার বিষয় ধীরে ধীরে আমাদের এ অঙ্গনে যোগ্য কর্মীদের উপস্থিতি বাড়ছে। তবে আমাদের কাঠামো গত দিকগুলো আরো মজবুত করা উচিৎ।


ইনসাফ: আমরা দেখি যে আমাদের সঙ্গীতাঙ্গনে যিনি গান লিখছেন তিনি সুর দিচ্ছেন আবার তিনিই কন্ঠ দিচ্ছেন, একই ব্যাক্তি এতোগুলো কাজ করার ফলে গানের মান দিন দিন কমে যাচ্ছে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এ সমস্যা সমাধানের জন্য আপনারা কী কোন পদক্ষেপ নিয়েছেন?
ওমর ফারুক সাহিল: এ বিষয়ে পদক্ষেপ আলহামদুলিল্লাহ্‌ অনেক আগ থেকেই আমরা নিতে চেষ্টা করেছি এবং প্রতিনিয়ত করে যাচ্ছি। কারণ আসলেই একটি গানের জন্য এ বিষয়টি অত্যন্ত লক্ষণীয় যে, একজনই সবকাজ করতে গিয়ে কোথাও না কোথাও ভুল করে ফেলে। এজন্য আমিও সবার মতো মনে করি সাংস্কৃতিক কর্মীদের এ বিষয়ে আরও তৎপর হতে হবে।


ইনসাফ: কোন ধরনের সংঙ্গীত বেশী শুনতে ভালোবাসেন ?
ওমর ফারুক সাহিল: অবশ্যই প্রথমত যেকোনো ভালোকথা ও সুরের গানকেই সবার আগে প্রাধান্য দেবো। সেটা হতে পারে মহান রবের প্রশংসা গাথা হামদে বারি তায়ালা, নাতে রাসূল (সা.), মরমি সংগীত ও দেশের গান। আর নজরুল ও রবীন্দ্রসংগীত শুনতেও খুব ভালবাসি। পাশাপাশি আগের দিনের সোনালী কথা ও সুরের একটা বেশ ভালো শ্রোতাও বটে আমি।


ইনসাফ: আপনার স্মরণীয় কোন মুহুর্ত সম্পর্কে যদি আমাদের বলতেন?
ওমর ফারুক সাহিল: স্মরণীয় মুহুর্ত বলে শেষ করা আমার জন্য সত্যি দুঃসাধ্য ব্যাপার। কারণ ছোট্ট এ জিবনে মালিক অসংখ্য অগণিত প্রিয় মুহুর্ত দিয়ে ধন্য করেছেন করছেন আমাকে। তবুও যেমন প্রত্যেকেরই অন্যতম কিছু একটা আলাদা প্রিয় মুহুর্ত থাকে, তেমন আমারও আছে।

একবার আমার গলা ভাঙা অবস্থায় এক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করতে হয়েছিল আমাকে। রেজিস্ট্রেশনের সময় গলা ঠিকঠাক ছিল। কিন্তু প্রতিযোগিতার দিন দেখি আগের অবস্থায় সেভাবে গাইতে পারছিনা। কড়া আদা চা খেয়েও কোন কুল পাচ্ছিনা। একবার ভেবেই ফেলেছি অংশগ্রহণ করবোনা। কিন্তু আমার এক প্রিয় শিক্ষক বলেছেন, আমার বিশ্বাস এ অবস্থায়ও তুমি ভালো করবে। সাথে হেসে দিয়ে আরো বলেছিলেন এ খবর গর্ব করে সারাজীবন সবার কাছে তো বলবেই এমন কি তোমার বউয়ের কাছেও বলবে যে আমি গলা ভাঙা নিয়েও সংগীত প্রতিযোগিতায় কৃতকার্য হয়ে এসেছি। এদিকে প্রতিযোগিতা দেখতে আমার কিছু শ্রোতারাও এসে হাজির।

তখন চিন্তা করলাম আজ এখানে লম্বা কোন সুরের গান গাওয়া সুবিধাজনক হবেনা। তাই অর্থবহ কবিতার মতো একটা গান প্রাকটিস করে হাজির হয়েছি। উদ্দেশ্য ছিল বিজ্ঞবিচারক মহোদয়গন যেন আমার সুরের দিক খেয়াল না করে গানের কথার দিকেই বেশি মনযোগী হন। হলও তাই। সে প্রতিযোগিতায় শুকরিয়া আমি দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেছি। সেই থেকে আমাকে অনেকেই বলেছে যে সাহিল তো গলা ভাঙা নিয়েও প্রতিযোগিতায় জয়ী হয়ে আসে। ওইদিনের জয়ী হবার ঘোষণার মুহুর্তটা সত্যি অন্যতম প্রিয় একটি মুহুর্ত ছিল আমার।


ইনসাফ: আমাদের যুব সমাজের চারিত্রিক অবক্ষয়ের কারন হিসেবে আপনি কোন বিষয়টি চিহ্নিত করবেন?
ওমর ফারুক সাহিল: অনেক গুলো কারণের মাঝে আমি মনে করি অপসংস্কৃতির অনুপ্রবেশ অন্যতম একটি কারণ। আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি গুলোর যথাযথ ব্যবহার না করে অপব্যবহার করাটাই যুব সমাজের চারিত্রিক অবক্ষয়ের একটি বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।


ইনসাফ: যুব সমাজকে চারিত্রিক অবক্ষয় থেকে ফিরিয়ে আনার মাধ্যম কী হতে পারে বলে মনে করেন?
ওমর ফারুক সাহিল: অবশ্যই এক্ষেত্রে ইসলামি সংস্কৃতি চর্চা অনেক বড় একটি হাতিয়ার। শুধু ইসলামি সংগীত নয়, ইসলামে বর্ণিত চারিত্রিক নৈতিক দিকগুলো শিক্ষা ও তদানুযায়ী চলার পরিবেশ তৈরি করার প্রচেষ্টা চালাতে হবে।


ইনসাফ: সামি ইউসুফ, মাহির জান, জুনায়েদ জামশেদ এদের সংঙ্গীত আমাদের শ্রতা মহল যখন শোনে, তখন এদেশে তাদের শুন্যতা অনুভব করে। এর কারন হিসেবে আপনি কী বলবেন?
ওমর ফারুক সাহিল: হ্যাঁ তাদের মতো দক্ষতা নিয়ে হয়তো আমাদের দেশে সেভাবে কাজ হয়ে ওঠেনি। তবে আমরা আশাবাদী, তৈরি হবে তাদের মতো বরেণ্য কেউ আমাদের দেশেও।


ইনসাফ: ইসলামী সাংস্কৃতিক অঙ্গনে বেশ কিছু সংগঠন জাতিকে চমৎকার কিছু মিউজিক ভিডিও উপহার দিয়েছে, ঐশীস্বর কী জাতিকে এমন কিছু উপহার দিতে যাচ্ছে?
ওমর ফারুক সাহিল: ইনশাআল্লাহ! কেন নয়! নিশ্চই এ ব্যাপারে ঐশীস্বরের কর্মপরিকল্পনা রয়েছে। যা বাস্তবায়নের জন্য আপ্রাণ চেষ্টা অব্যাহত রয়েছেন সব কলাকুশলীদের। আমাদের প্রতি সবার দোয়া ও ভালবাসা অটুট থাকলে আশাকরি খুব শীঘ্রই আমরা এ কাজও সফলতা অর্জন করবো।


ইনসাফ: সংস্কৃতি চর্চার পাশাপাশি দেখা গেছে এবারের বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পাশেও আপনাকে আপনার টিম সহ দাঁড়াতে! এ উদ্যোগ সম্পর্কে বলবেন কী?
ওমর ফারুক সাহিল: আসলে চেষ্টাকরেছি সাধ্যমতো অভাবগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে। তাই দুবার যাওয়া হয়েছে ত্রাণ সামগ্রী নিয়ে সিরাজগঞ্জ এবং শেষ বার যাওয়া হয়েছে জামালপুরে আলহামদুলিল্লাহ্‌।
আর এ কাজে উদ্যোগটা আমাদের থাকলেও সর্বস্তরের অংশগ্রহণ সফলতার ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রেখেছে।

%e0%a6%93%e0%a6%ae%e0%a6%b0-%e0%a6%ab%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a7%81%e0%a6%95-%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%b9%e0%a6%bf%e0%a6%b2-1
বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে ত্রান বিতরণে ওমর ফারুক সাহিল

ইনসাফ: বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক কর্মী ও তরুণ বক্তা মুফতি শামীম মজুমদার ঐশীস্বর সম্পর্কে বলেছেন যে, ছন্দ সুরে মানবতার স্লোগান শুধু মঞ্চে আর স্টুডিও’তেই নয়, তা বাস্তবে রুপায়ন করেছে দেশের জাতীয় ইসলামী সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘ঐশীস্বর’। কী বলবেন আপনি এ বিষয়ে?
ওমর ফারুক সাহিল: জি আমরা চেষ্টা করেছি ইসলামি সাংস্কৃতিক সংগঠন গুলোর পক্ষথেকে এমন একটি মহত কাজের সূচনা করতে। আশাকরি আগামীতে এ কাজের গতি আরো বৃদ্ধি পাবে ইনশাআল্লাহ।


ইনসাফ: আপনার কথা, সুর করা এবং গাওয়া প্রিয় গান কোনটি?
ওমর ফারুক সাহিল: ‘হৃদয়ের সবটুকু সুর তোমারি জন্য হে প্রিয় রাসূল (সা.)’ এই না’ত টি।


ইনসাফ: শুধু সুর করেছেন ও গেয়েছেন এমন প্রিয় কোন গান আছে কি আপনার?
ওমার ফারুক সাহিল: অবশ্যই এবং সেটি কিছু দিন হল করেছি ‘কাবার গিলাফ ছুতে মন ব্যাকুল’ নামে অসাধারণ একটা লিরিকের। আশাকরি এর কাজ সম্পন্ন হলে শ্রোতা বন্ধুরা বেশ চমকপ্রদ একটা গান উপহার পাবেন আশা
করি।


ইনসাফ: যতটুকু জানি দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ইসলামি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের পাশাপাশি মাহফিল প্রোগ্রাম ও সোনারগাঁও এর এক মসজিদে খতিবের দায়িত্বও পালন করেন। সে বিষয়ে যদি কিছু বলতেন।
ওমর ফারুক সাহিল: জি আলহামদুলিল্লাহ্‌! এটাও দ্বীনের খেদমত হিসেবেই চেষ্টা করছি টুকটাক মাহফিল প্রোগ্রাম গুলোর আহবানে সাড়া দিতে। ভালো লাগে, মহান রবের বড়ত্ব জবানে সবার সামনে বলতে পারলে। হ্যাঁ, সোনারগাঁও মিউজিয়ামের পাশে “ইছাপাড়া বাইতুল আকসা জামে মসজিদ” এ দীর্ঘ সময় খতিবের দায়িত্ব পালন করতে হয়েছে নিয়মিত। এখন অবশ্য ব্যস্ততার দরুন মাঝেমধ্যে যাওয়া হয়। আর এখন শুক্রবারটা ঐশীস্বরের সাংস্কৃতিক কর্মশালায় নতুনদের সময় দিতেই বেশী ভালো লাগছে।


ইনসাফ: ইসলামি সংস্কৃতি বিকাশে আপনার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী?
ওমার ফারুক সাহিল: পাশ্চাত্য কালচারের ভয়াল আগ্রাসন থেকে, মুসলিম তথা সারা বিশ্বমানবকে বাঁচানোর দায়িত্ব আমাদের’ই। এ অপসংস্কৃতির বিপক্ষে সুস্থ সংস্কৃতি চর্চার বিকল্প নেই। ইসলামি সংস্কৃতি বলতে সুস্থ সংস্কৃতিকে বোঝায়। সুতরাং এ সংস্কৃতির ব্যাপক বিস্তৃতি অত্যাবশ্যকীয়। নানা কর্ম পরিকল্পনা নিয়ে একাজ মৃত্যুর আগ পর্যন্ত করে যেতে চাই করুণাময়ের সাহায্য সাথে করে। পাশে টানতে চাই এ কজের প্রতিভাবান সহ সকল জনসাধারণকে।


ইনসাফ: ঐশীস্বরকে নিয়ে আপনার ভবিষ্যত পরিকল্পনা কি?
ওমর ফারুক সাহিল: মানুষের মাঝে প্রভুর দেয়া কন্ঠের অলংকৃত নাম ‘ঐশীস্বর’। আর তা অবশ্যই মহান রবের সকল সৃষ্টির মধ্যে অাছে। সুরের মতো মহা নেয়ামত হয়তো আল্লাহ সবাইকে সমান ভাবে দেননি। কিন্তু ‘স্বর’ আছে বলেই আমরা অন্তত কথা বলতে পারি। ডাকতে পারি আল্লাহ বলে। আর তাই সেদিক খেয়াল করেই নামটা ব্যবহার করেছি। এখন সেই মালিকের সাহায্য নিয়েই সবার মাঝে একটি গ্রহণযোগ্য, মান সম্মত সাংস্কৃতিক সংগঠন হিসেবে গড়ে তুলতে চাই।


ইনসাফ: এই অঙ্গনে যারা নতুন তাদের উদ্দেশ্যে কিছু বলুন।
ওমর ফারুক সাহিল: নতুনদের উদ্দেশ্যে বেশী কিছু এখন বলবনা একটা কথাই শুধু বলব, হাল ছাড়া যাবেনা। শ্রম সাধনায় অটল থাকতে হবে সর্বদা। তবে ইনশাআল্লাহ সফলতার সিঁড়ি খুঁজে পাবে।


ইনসাফ: আমাদেরকে সময় দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ!
ওমর ফারুক সাহিল : আপনাদেরকেও ধন্যবাদ!