মুক্তিযুদ্ধের মহানায়কদের ‘রাজাকার’ বলা লজ্জাজনক : মাহফুজ খন্দকার | insaf24.com

মুক্তিযুদ্ধের মহানায়কদের ‘রাজাকার’ বলা লজ্জাজনক : মাহফুজ খন্দকার

ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম | আলামিন ফারাজ


ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকমের সম্পাদক সাইয়েদ মাহফুজ খন্দকার বলেছেন, দুঃখজনক বিষয় হলেও সত্য যে স্বাধীনতার ৪৭ বছর পরেও মহান মুক্তিযুদ্ধকে নির্বাচনের ঢাল হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। এখনো একে-ওকে মুক্তিযুদ্ধের বিরোধী শক্তি হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে। এটা জাতি হিসেবে আমাদের জন্য লজ্জাজনক। এই বিতর্ক স্বাধীনতার এত বছর পর সামনে আনাই হচ্ছে অসৎ উদ্দেশ্যে।

গতকাল (২৪ ডিসেম্বর) বাংলাদেশ ইনটেলেকচুয়াল মুভমেন্ট (বিআইএম) এর উদ্যোগে আসন্ন ৩০ডিসেম্বর অনুষ্ঠিতব্য একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষ্যে ‘যেমন নির্বাচন চাই’ শীর্ষক আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মাহফুজ খন্দকার বলেন, এটা অস্বীকার করার উপায় নেই যে, স্বাধিকার আন্দোলনের সময় কিছু লোক এর বিরোধিতা করেছিল। কিন্তু তাদের সংখ্যা অনেক বেশি নয়। কিন্তু আজ ৪৮ বছর পরে এসে লাখো কোটি মানুষকে স্বাধীনতা বিরোধী হিসেবে আখ্যায়িত করা হচ্ছে। সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষকে মুক্তিযুদ্ধের বিরোধী শক্তি হিসেবে রূপ দেয়ার অপচেষ্টা চলছে।

তিনি বলেন, শুধু তাই নয়, মহান মুক্তিযুদ্ধের মহানায়কদের রাজাকার বলে অপবাদ দেয়া হচ্ছে। স্বাধীনতার স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের একান্ত আস্থাভাজন ডক্টর কামাল হোসেন, প্রথম জাতীয় পতাকা উত্তোলনকারী আ স ম আবদুর রব, স্বাধীনতার ইশতেহার পাঠকারী শাহজাহান সিরাজ, বঙ্গবীর আবদুল কাদের সিদ্দিকীসহ রণাঙ্গনের বীরদের রাজাকার ও স্বাধীনতার বিরোধিতাকারী বলে অপবাদ দেয়া হচ্ছে। নিঃসন্দেহে এসব ভণ্ডামি, এসব দেশ ও দেশের জনগণকে বোকা বানানোর চক্রান্তের অংশ। তাই আসুন আমরা স্বাধীনতার সঠিক ইতিহাস জানি। আমাদের জানতে হবে, এ দেশের মুক্তিযোদ্ধারা ইসলামের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেনি, বরং এই দেশের জনগণ ইসলামী সত্য ও ইনসাফের বাণীকে ধারন করে জালিমের বিরুদ্ধে লড়াই করেছে। এবং বিজয় ছিনিয়ে এনেছে।

ইনসাফ সম্পাদক বলেন, আমাদের মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয়েছে ইন শা আল্লাহ বলে, আর শেষ হয়েছিল দেশ পরিচালনায় আল্লাহর সাহায্য চেয়ে। খুঁজে দেখুন স্বাধীন বাংলাদেশের অস্থায়ী প্রেসিডেন্টের সেই ঘোষণা।

এবারের নির্বাচনে ইসলামী দলগুলোর অবস্থা নিয়ে তিনি বলেন, আমার মনে হয় বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে দুঃসময় পার করছে ইসলামী দলগুলো। স্বাধীন বাংলাদেশে এরকম বিব্রতকর পরিস্থিতিতে কখনোই পড়তে হয়নি আলেম-ওলামাদের। স্বাধীনতা পরবর্তী প্রায় প্রতিটি নির্বাচনে আলেম-ওলামারা জনগণকে একটা স্পষ্ট বার্তা দিয়ে আসছিলেন। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হচ্ছে, এই নির্বাচনে সম্মেলিত ভাবে আলেম-ওলামারা নিজেদের মতামত তুলে ধরতে পারছেনা। এমন কি তৃণমূলেও আলেম-ওলামারাগণ নিজেদের অবস্থানের কথা জনগণের সামনে উপস্থাপনের সাহস পাচ্ছেন না। আমি মনে করি আলেমদের খুঁজে বের করা উচিৎ, কেন আলেম-ওলামাগণ আজ এই অবস্থায় এসে দাঁড়ালেন। না হয় আগামীতে পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ হবে।

মাহফুজ খন্দকার আরও বলেন, নির্বাচনকে সামনে রেখে একটা বড় বিতর্ক উঠেছে এসেছে। কেউ বলছে উন্নয়নটাকে প্রাধান্য দিন, আবার কেউ কেউ বলছে অধিকারের কথা। আমাকে অনেকে জিজ্ঞেস করে কোনটা বেশি জরুরী। আমি তাদের বলি, কেউ যদি এমন প্রস্তাব করে যে, আপনাকে একটি পাঁচ তারকা হোটেলে দামী খাবার খাওয়ানো হবে, দামী গাড়িতে করে আপনাকে হোটেলে নেয়া হবে। আপনার জন্য সার্বক্ষণিক আরামদায়ক ব্যবস্থা করা হবে। তবে এর বিনিময় আপনাকে সেই হোটেলে উলঙ্গ হয়ে অবস্থান করতে হবে, তাতে কি আপনি রাজি হবেন? অধিকার হীন উন্নয়নও তেমন।  উন্নয়ন অবশ্যই কাম্য। এবং এটি আমাদের প্রাপ্য। তবে অধিকার বিহীন উন্নয়ন খুবই বেমানান। তাই রাজনীতিবিদদের মনে রাখতে হবে, উন্নয়নের কথা বলে অধিকার হরণের আশা করা চরম ভুল ছাড়া আর কিছুই নয়। জনগণ অবশ্যই উন্নয়ন চায়, তবে সেটা তাঁর অধিকার হরণের বিনিময় নয়।

ইনটেলেকচুয়াল মুভমেন্টের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ইনটেলেকচুয়াল মুভমেন্ট প্রতিষ্ঠিত হয়েছে কাউকে ক্ষমতায় নেওয়ার জন্যও নয়, কাউকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেওয়ার জন্যও নয়। বরং সকল প্রকার অন্যায়, অবিচার ও জুলুম এর বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে দেশ ও উম্মাহর স্বার্থের পক্ষে কথা বলার জন্য। আসন্ন জাতীয় নির্বাচনেও জাতির কাছে ইনটেলেকচুয়াল মুভমেন্টের পক্ষ থেকে সেই বার্তাই থাকবে, যাতে মানুষের অধিকার সুপ্রতিষ্ঠিত হয়।

ইনটেলেকচুয়াল মুভমেন্টের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ শামসুল হুদার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন, ইনটেলেকচুয়াল মুভমেন্টের সহসম্পাদক ও পাক্ষিক সবার খবর সম্পাদক মাওলানা আব্দুল গাফফার, সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা মুফতি ইমরানুল বারী সিরাজী, অর্থ বিষয়ক সম্পাদক মাওলানা মাহমুদ হাসান সিরাজী, ইসলামী সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব কাজী আমিনুল ইসলাম, ইনটেলেকচুয়াল মুভমেন্টের পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক আনাস বিন ইউসুফ প্রমুখ।