ঝিনাইদহে বিজিবি-গরু ‘চোরাচালানিদের’ সংঘর্ষে নিহত ১

বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)ঝিনাইদহের সীমান্তবর্তী মহেশপুরে বিজিবি-গরু চোরাচালানিদের সঙ্গে সংঘর্ষকালে বিজিবির গুলিতে রফিকুল ইসলাম নামে যুবক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরো দুইজন গুরুতর আহত হয়েছে বলে জানা গেছে। শনিবার সন্ধ্যায় মহেশপুর উপজেলার জুলুলি সীমান্তের মাটিলা বাজারে এ ঘটনা ঘটে।

মহেশপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশাফুর রহমান শনিবার রাত সাড়ে ৯ টায় জানান গোলাগুলির ঘটনায় ২জন নিহত হয়েছেন। পরে রাত সোয়া ১১ টায় পুনরায় জানান, প্রথমে একজন মারা যায়। এরপর আহত আরো একজন মৃত্যুর খবর শোনায় যায়। কিন্তু পরে জানতে পারলাম তিনি মারা যাননি।

গুলিতে আহতরা হলেন, একইগ্রামের আজিবর হোসেনের ছেলে বাবলু মিয়া ও মথে মালিথার ছেলে রবিউল ইসলাম।

সংঘর্ষের পর এলাকায় টান টান উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে স্থানীয় সংসদ সদস্য নবী নেওয়াজ ও যশোর বিজিবির ২৬ ব্যাটালিয়নের পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল জাহাঙ্গীর হোসেন এলাকাবাসীর সঙ্গে বৈঠক করছেন।

বিজিবি জানায়, একদল গরু ব্যবসায়ী ভারত থেকে গরু এনে সন্ধ্যা ৭টার দিকে মাটিলা বাজারে পৌঁছালে বিজিবি সদস্যরা তাদের পথ আটকায়। এক পর্যায়ে উভয়পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বেধে যায়।

আশপাশের লোকজনও গরু ব্যবসায়ীদের সঙ্গে যোগ দিয়ে বিজিবির ওপর হামলা চালালে বিজিবি সদস্যরা গুলি চালায়।

যশোর বিজিবির ২৬ ব্যাটালিয়নের পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, এ সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলে একজনের মৃত্যু হয়। গুলিবিদ্ধ হন আরো তিনজন।

স্থানীয় সংসদ সদস্য নবী নেওয়াজ বলেন, আমার এলাকার সাধারণ দোকানদার ১জন মারা গেছে। অথচ যারা চোরাচালানীর সাথে জড়িত তাদের কিছুই হয়নি।

তবে এলাকাবাসীর দাবি, শনিবার সন্ধ্যায় জলুলি বিজিবি ক্যাম্পের পাশের চায়ের দোকানে গ্রামবাসীরা বসে গল্প করছিলেন। এ সময় বিজিবি সদস্যরা তাদেরকে সেখান থেকে চলে যেতে বলেন। এ নিয়ে বাদানুবাদের এক পর্যায়ে বিজিবির সঙ্গে গ্রামবাসীরা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। এ সময় বিজিবি গুলি চালালে ঘটনাস্থলেই রফিকুল নিহত হন।