জানুয়ারি ২০, ২০১৭

স্বীকৃতির বিষয়ে কারো অপপ্রচারে কান দিবেন না : বেফাক মহাসচিব

ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম |

2016-09-11_200556বেফাক মহাসচিব মাওলানা আব্দুর জাব্বার জাহানাবাদী বলেছেন, কাওমী মাদরাসার সনদের স্বীকৃতির পূর্বাপর ভেবেই বেফাক সভাপতি আল্লামা শাহ আহমদ শফী অতি সম্প্রতি পত্রিকায় বিবৃতি দিয়েছেন।

তিনি তাঁর বিবৃতিতে স্পষ্ট করেই বলেছেন- শিক্ষানীতি-২০১০, খসড়া শিক্ষা আইন-২০১৬ ও বিতর্কিত বর্তমান শিক্ষা সিলেবাসের মত জটিল বিষয়গুলোর সুরাহা না হওয়া পর্যন্ত অন্য কিছু নিয়ে ভাববার কোনো সুযোগ নেই।

বেফাক সভাপতির উক্ত বক্তব্যই এদেশের আলেম সমাজের বক্তব্য। অতএব আমি সংশ্লিষ্ট সকলকে অনুরোধ করছি, আপনারা স্বীকৃতির বিষয়ে কোনো অপপ্রচারে কান দিবেন না।

আজ এক বিবৃতিতে বেফাক মহাসচিব একথা বলেন।

বিবৃতিতে তিনি আগামী ১৭ই অক্টোবর’১৬ বেফাক ঘোষিত উলামা-মাশায়েখ সম্মেলন সর্বাত্মক সফল করার আহবান জানান।

উল্লেখ্য, গত ৭ সেপ্টেম্বর বুধবার বেফাকের বৈঠকে শাইখুল ইসলাম আল্লামা শাহ আহমদ শফী বলেছিলেন, “আলেমদেরকে আবেগ দিয়ে নয়, বুদ্ধি ও বিচক্ষণতা দিয়ে দুনিয়াবী মোহের ঊর্ধ্বে ক্বওম ও মিল্লাতের প্রত্যাশা ও স্বার্থকে সামনে রেখে কথা বলতে হবে এবং সিদ্ধান্ত নিতে হবে। মনে রাখতে হবে, ক্বওমি মাদ্রাসাসমূহ রাষ্ট্রীয় কোষাগারের অর্থে নয়, বরং সরাসরি জনগণের সাহায্য সহযোগিতায় পরিচালিত হয়। উলামায়ে কেরামের দুনিয়াবী মোহ বিসর্জন দিয়ে ইসলামী শিক্ষা ও দাওয়াতী কার্যক্রমের প্রচার-প্রসার, দ্বীনের জন্যে একনিষ্ঠ মেহনত ও আত্মত্যাগে উদ্বুদ্ধ হয়েই ক্বওম তথা জাতি অকুণ্ঠ চিত্তে ক্বওমি মাদ্রাসা ও উলামায়ে কেরামকে সবসময় সর্বাত্মক সমর্থন সহযোগিতা দিয়ে আসছে। জনগণ উলামায়ে কেরামকে ইসলামের জন্যে ত্যাগ-তিতীক্ষার আদর্শকে সমুন্নত রেখে দ্বীন-ইসলামের খেদমতেই সবসময় নিবেদিত দেখতে চায়। সুতরাং যে কোন উক্তি, বক্তব্য ও সিদ্ধান্ত নিতে দুনিয়াবী খ্যাতি, মোহ ও স্বার্থের বিষয়ে আত্মত্যাগী হয়ে ইসলামী শিক্ষার প্রচার-প্রসার এবং মুসলিম জাতিসত্ত্বার চেতনাবোধ ও দ্বীন-ইসলামের স্বার্থকে সমুন্নত রাখার বিষয়টাকে প্রাধ্যান্য দিতে হবে”।

এরপর তিনি আরো বলেছিলেন, “আমরা ক্বওমি সনদের স্বীকৃতির প্রয়োজনীয়তাকে অস্বীকার করছি না। তবে ইসলাম বিরোধী শিক্ষা আইন, নাস্তিক্যবাদি ও হিন্দুত্ববাদি চেতানার স্কুল পাঠ্যবই, বিতর্কিত শিক্ষা আইন এবং শিক্ষা বিভাগের নীতিনির্ধারণী ও গুরুত্বপূর্ণ পদসমূহে একটি বিশেষসম্প্রদায়ের লোকজনের প্রাধ্যানতার বিষয়ে আমাদের যৌক্তিক দাবী পূরণকে আমরা প্রাধান্য দিতে চাই। কারণ, এসব বিষয়ে সমাধানে না পৌঁছালে শুধু জাতীয় পর্যায়ে ইসলামী চেতনাবোধ বিলীন করার ষড়যন্ত্রই বাস্তবায়িত হবে না, পাশাপাশি ক্বওমি মাদ্রাসা শিক্ষার স্বকীয়তা ও লক্ষ্য-উদ্দেশ্যকেও মারাত্মক হুমকির মুখে ঠেলে দেবে”।