জানুয়ারি ১৮, ২০১৭

মুসলিমদের বিরুদ্ধে অস্ত্র ধরার আহ্বান বিশ্ব হিন্দু পরিষদের

ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম |

capture71-696x371

ভারত ও বাংলাদেশে হিন্দুরা নির্যাতিত হচ্ছে এমন উল্লেখ করেছেন হিন্দুত্ববাদী জঙ্গি সংগঠনের নেতারা। উগ্র হিন্দু জঙ্গি গুষ্টি বিশ্ব হিন্দু পরিষদের নেতারা মুসলিমদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হিন্দুদেরকে অস্ত্র হাতে তুলে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন । খবর দৈনিক যুগশঙ্খের।

শনিবার কলকাতায় মহাজাতি সদনে এক সাংবাদিক সম্মেলনে বিশ্ব হিন্দু পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সুরেন্দ্র জৈন এ আহ্বান জানান। তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন স্থান এবং প্রতিবেশী রাষ্ট্র বাংলাদেশের হিন্দুরা প্রতিনিয়ত হামলা হচ্ছেন। তাই আর ভয় পেলে চলবে না, এবার শক্তি ও সাহস দখোতে হব। এই আক্রমণকে প্রতিহত করতে বাড়িতে বাড়িতে মজুত লাঠি, অস্ত্র তুলে পাল্টা আক্রমণে নামতে হবে। ভয় পেয়ে নিজের ঘরবাড়ি থেকে উৎখাত হওয়ার সময় শেষ। এবার দরকার মারমুখি আক্রমণ।

বিশ্বজুড়ে মুসলমানদের হাতে হিন্দুদের নিগৃহীত হওয়ার বিষয়টি আর কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না। বিশ্ব হিন্দু পরষিদের নেতারা বলনে, এপার-ওপার দুই বাংলার হিন্দুদেরকে এখন সমবতে হয়ে মুসলমানদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হব।

সাংবাদিক সম্মেলন সভায় বিশ্ব হিন্দু পরিষদের সদস্য ও বক্তারা বলেন, ভারতবর্ষে ক্রমাগতই মুসলমানদের সংখ্যা বাড়ছে । সংখ্যালঘু মুসলমানরা ধীরে ধীরে সংখ্যাগরিষ্ঠ হওয়ার দিকে অগ্রসর হচ্ছে। আগামী ২০ বছররে মধ্যে হয়তো হিন্দু জাতিসহ অন্যান্য জাতিকে মুসলমানদের ‘অত্যাচারে’ ঘর ছাড়া হতে হবে। তবে এখনই যদি হিন্দুরা রুখে দাঁড়ালে পরিস্থিতি বদলাতেও পারে।

বক্তারা বলেন, পশ্চিমবঙ্গে মোট ২৭ শতাংশ মুসলমান বসবাস করে। এই মুসলমানরা যদি সংঘবদ্ধভাবে ভোট দিয়ে জমিয়ত নেতা সিদ্দিকুল্লা চৌধুরীকে রাজ্য সরকারের মন্ত্রী পদেবসায়, তাহলে ৭১ শতাংশ হিন্দুরা কেন নিজেদের অধিকার প্রয়োগের সাহস দেখাতে পারবে না?

বিশ্ব হিন্দু পরিষদের নেতা সুরেন্দ্র জৈন দাবি, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ভোট ব্যাংকের রাজনীতি করছেন। আর সেই ঘৃণ্য রাজনীতির অংশ হিসেবে তিনি মুসলিমদরেকে খুশি রাখার পথ বেছে নিয়েছেন।

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে বিশ্ব হিন্দু পরিষদের প্রশ্ন, মুসলিমদরেকে খুশি করার উদ্দেশ্যে মোয়াজ্জেম ভাতা বা উলেমা ভাতার ব্যবস্থা করেছেন। কিন্তু দরিদ্র হিন্দু পুরোহিতদের জন্য কোনো ভাতা বা আর্থিক সাহায্যের ব্যবস্থা করেননি। তিনি এটা কেন করলেন?

হিন্দু পরিষদের ক্ষোভ, ‘বিজয়া দশমীর দিনেই কলকাতার সমস্ত সর্বজনিন দূর্গোৎসবের প্রতিমা বিসর্জন দিতে হবে। এমন ফতোয়া দেওয়ার কারণ কি মুসলমানদের সন্তুষ্ট করার জন্য নয়? কারণ সামনেই আছে মহরম। আর সেই সময় মুসলমানদের তুষ্ট করার জন্যই এমন আদেশ দিয়েছেন মমতা।

সুরেন্দ্র জৈন মুখ্যমন্ত্রী মমতাকে উদ্দশ্যে করে বলেন, বহু মুসলিম অধ্যুষিত এলাকায় হিন্দু মন্দিরে প্রার্থনা, ভজন সবকিছু বন্ধ করা হয়েছে। শুধুমাত্র আজান ও নামাজের সময় যাতে মুসলমানদের অসুবিধা না হয় সেই কারণে। মুসলমানদের তুষ্ট করতে গিয়ে স্বজাতি হিন্দুদের চোখেই খারাপ হচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী। মুখ্যমন্ত্রীর দল এ রাজ্যে রাস্তায় দাঁড়িয়ে প্রকাশ্যে গরুর মাংস খেলেও সহনশীল হিন্দুরা সেই ব্যাপারটাকে মেনে নিলো। কিন্তু কোন বিশেষ ধর্ম-অধ্যুষিত এলাকায় দাড়িয়ে যদি শুকুরের মাংস খেতে বা খাওয়াতে পারেন তিনি, তখন বোঝা যাবে তার কত ক্ষমতা!’

হিন্দুত্ববাদী বিশাখানন্দ শঙ্কারাচার্য বলেন, দুই বাংলা জুড়ে একের পর এক হিন্দু নির্যাতন চলছে। হিন্দুরা চিরকাল শক্তির উপাসক। দেবী দূর্গা বা দেবী কালিকা অন্যায় প্রতিরোধের জন্য হাতে অস্ত্র তুলে নেন। আজ হিন্দুদের সামনেও সেই কঠিন সময় এসে উপস্থিত। তাই হিন্দুরা নিজেদের রক্ষার উদ্দেশ্যে হাতে অস্ত্র তুলে নিক। আঘাতের বদলে পাল্টা আঘাতই হবে সঠিক জবাব।

সূত্রঃ পূর্ব-পশ্চিম. নিউজ