আমার প্রধান চিন্তা সব মানুষকে দারিদ্র্যমুক্ত করা : ইমরান খান

ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম | মুসলিম বিশ্ব ডেস্ক


অলঙ্করণ : জারাদা

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান বলেছেন, আমার প্রধান চিন্তা সব মানুষকে দারিদ্র্যমুক্ত করা। তিনি এ সময় চীনের উদাহরণ দিয়ে বলেন, চীনের ৭০ লাখ মানুষ শেষ ৩০ বছরে দারিদ্র্যতা থেকে মুক্তি পেয়েছে।

তিনি শুক্রবার তুরস্কের বৈদেশিক বিনিয়োগ বোর্ডের সঙ্গে এক বৈঠক এসব কথা বলেন।

পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান তার অর্থনৈতিক দলটি নিয়ে দুই দিনের সফরে তুরস্কে এসেছেন। শুক্রবার তুরস্কের প্রধানমন্ত্রী রিসেপ তাইয়্যিপ এরদোগানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করার করা রয়েছে।

বৈঠকে পাক প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭০ এর দশকে পাকিস্তান ‘ভুল পথে হেঁটেছে কারণ আমাদের সমাজতান্ত্রিক মানসিকতা ছিল যা সম্পদ গঠনের প্রতিবন্ধক হয়ে উঠেছিল।’ পরবর্তী দশকগুলোতে সমাজতান্ত্রিক শাসন ধীরে ধীরে আমলাতন্ত্রের মধ্যে মানসিকতা অর্জন করেছিল।

তিনি আরও বলেন, পিটিআই নেতৃত্বাধীন সরকার বিনিয়োগকে সমর্থন করে এবং অর্থ উপার্জন করার সুযোগ তৈরির ব্যবস্থা করে।

ইমরান খান তুরস্কের ব্যবসায়ী নেতাদের বিনিয়োগের ব্যাপারে নিশ্চয়তা দিয়ে বলেন, পিটিআই সরকার বিনিয়োগবান্ধব সরকার। আমরা একমাত্র সরকার বিনিয়োগের ব্যাপারে সবরকম সহায়তা করে থাকি আর সব বাধামুক্ত করি।

তিনি বলেন, এই বিনিয়োগ ব্যবস্থা পর্যবেক্ষণের জন্য আলাদা একটি সেল গঠন করা হবে, যা প্রধানমন্ত্রীর নিয়ন্ত্রণে থাকবে।

ইমরান খান বলেন, পাকিস্তানে তুরস্কের বিনিয়োগের ব্যাপারে আমার ইতিমধ্যেই এ বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছি। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার বিনিয়োগ খাতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে।

পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান তার অর্থনৈতিক দলটি নিয়ে দুই দিনের সফরে তুরস্কে এসেছেন। শুক্রবার তুরস্কের প্রধানমন্ত্রী রজব তায়্যিব এরদোগানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করার করা রয়েছে।


ইনসাফ সাংবাদিকতা কোর্স

ইনসাফ সাংবাদিকতা কোর্সদেশের প্রথম ইসলামী ঘরানার অনলাইন পত্রিকা ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকমের আয়োজনে শুরু হতে যাচ্ছে স্বল্পমেয়াদী সাংবাদিকতা কোর্স।অংশগ্রহণ করতে যোগাযোগ করুন এই নাম্বারে-০১৭১৯৫৬৪৬১৬এছাড়াও সরাসরি আসতে পারেন ইনসাফ কার্যালয়ে।ঠিকানা – ৬০/এ পুরানা পল্টন ঢাকা ১০০০।

Posted by insaf24.com on Monday, October 29, 2018


যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার সুপ্রিম কোর্টে প্রথম মুসলিম বিচারক
জানুয়ারি ০৪, ২০১৯
ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম | নিজস্ব প্রতিনিধি


ক্যালিফোর্নিয়ার সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতি হয়েছেন হালিম ধানিদিনা। সম্প্রতি সর্বোচ্চ আদালতের আপিল বিভাগের উচ্চ পদে তিনি এ পদোন্নতি লাভ করেন।

এর ফলে অঙ্গরাজ্যটির প্রথম এবং সবচেয়ে সিনিয়র মুসলিম বিচারক হিসেবে আবির্ভূত হলেন তিনি। স্থানীয় জনগণের কাছে তার এ নিয়োগপ্রাপ্তি ক্যালিফোর্নিয়ার ঐতিহাসিক ঘটনা হিসাবে বিবেচিত হচ্ছে। আমেরিকাজুড়ে ইসলামফোবিয়ার দুঃসময়ে হালিম ধানিদিনার এমন সাফল্য আমেরিকান মুসলিমদের মনে বেশ আশা ও উৎসাহ সঞ্চার করেছে।

হালিমের জন্ম আমেরিকার শিকাগোতে। তবে তার মা-বা দুইজনই ভারতীয়। বিয়ের পর তারা ভারতের গুজরাট থেকে প্রথমে পূর্ব আফ্রিকায় স্থনান্তরিত হন। এরপর সেখান থেকে গিয়ে আমেরিকায় স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন।

ধানিদিনা বলেন, ‘ক্যালিফোর্নিয়ার সুপ্রিম কোর্টে প্রথম মুসলিম হিসেবে নিযুক্ত হওয়ার বিষয়ে আমি খুব বেশি চিন্তা করিনি এবং তা আশা কিংবা কল্পনাও করিনি।’

তার কৃতিত্বপূর্ণ পদোন্নতি ও নিয়োগের কারণে ক্যালিফোর্নিয়ার স্থানীয় মুসলমানরা বেশ খুশি হয়েছে। তার মাধ্যমে ক্যালিফোর্নিয়ান মুসলমানদের সঙ্গে লস এঞ্জেলেসের ইহুদিদের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় সুন্দর পরিবেশ তৈরী হবে বলে তাদের বিশ্বাস।

মার্কিন আদালতের একমাত্র মুসলিম বিচারক হিসাবে কাজ করতে গিয়ে ধানিদিনাকে বৈষম্যমূলক ও লাঞ্ছনাকর বিভিন্ন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে। ইসলামফোবিয়া ও ভিনদেশি হওয়ায় দেশীয় বিভিন্ন নিয়ম-নীতি মোকাবেলা করে আসতে হয়েছে। অনেকে তার গণতান্ত্রিক ভূমিকা নিয়ে সন্দেহও পোষণ করেছিল। কিন্তু হালিম অকাট্যভাবে বলে দিয়েছেন, ‘আমি বিব্রতকর ও পরিণামদর্শী মন্তব্যগুলো মোকাবেলা করা রপ্ত করে নিয়েছি। আর আমি এও বুঝতে শুরু করেছি যে, আমার মতো কোনো মুসলিম বিচারক না হলে, তাকে এত ধরনের ভীতিপূর্ণ মন্তব্যের মুখোমুখি হতে হতো না।’

বিচারক অ্যান্ড্রু কিম তার সহকর্মী ধানিদিনা সম্পর্কে বলেন, ‘বিচারব্যবস্থা বিষয়ে যখন আমি তার সঙ্গে কথা বলেছি, তখন স্পষ্টভাবে বুঝতে পেরেছি যে অভিজ্ঞতা-দক্ষতা এবং জুরির সঙ্গে মজবুত সম্পর্ক বজিয়ে রাখার কারণে হালিমের জন্য অপূর্ব-সুন্দর ও উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ অপেক্ষা করছে।’

তার অন্যান্য সহকর্মীরা দৃঢ়তার সঙ্গে আশা করেছেন যে, তিনি রাষ্ট্রের বিভিন্ন ধরনের অপরাধের বিচারের ক্ষেত্রে বিচারমন্ত্রণালয়ে অনুসরণীয় নিয়ম-পদ্ধতি ও দৃষ্টান্ত স্থাপন করবেন।

এদিকে, বিচারবোর্ডের সভাপতি আন্দ্রেস রাসেল ধানিদিনা সম্পর্কে বলেন, ‘গত চার বছর ধরে তাকে আমি চিনি। আমেরিকায় সে খুব কঠিন সময় পার করে এসেছে। অন্য ধর্মাবলম্বীদের প্রতি তার শ্রদ্ধাবোধ ও আন্তরিকতা অভূতপূর্ব। আমার বিশ্বাস আমরা একসঙ্গে চমৎকার ও সুচারুভাবে কাজ করতে পারবো।

উৎস, পিবিএস নিউজ