কম্পিউটার টেবিল সঠিক মাপের না হলে যে সমস্যাগুলো হয়

ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম | লাইফস্টাইল ডেস্ক


প্রতিদিন কম্পিউটারে দীর্ঘ সময় ধরে কাজ করছেন যাঁরা, তাঁদের নানা রকম শারীরিক উপসর্গ দেখা দিতে পারে। যেমন: কোমর, ঘাড় ও ঊরুতে ব্যথা, কাঁধ ও আঙুল অবশ হয়ে আসা, হাতের কবজি ব্যথা, চোখ লাল হয়ে যাওয়া, চোখ শুকনো বোধ করা ও মাথাব্যথা। তবে এসব সমস্যার বেশির ভাগই হয়ে থাকে অনুপযুক্ত চেয়ার-টেবিল ও দেহভঙ্গির কারণে। যাঁরা ডেস্কটপ ব্যবহার করেন, তাঁদের জন্য কম্পিউটার টেবিল জুতসই হতে হবে।

নোপানি ইনস্টিটিউট অব প্রফেশনাল স্টাডিজের সহযোগী অধ্যাপক এবং ব্যথা, ফিজিক্যাল থেরাপি ও স্পোর্টস ইনজুরি বিশেষজ্ঞ দলিলুর রহমান বলেন, মানবদেহের কলাকৌশল চলাচলের মধ্যে নিহিত। অর্থাৎ শরীরটা টানা ৮-১২ ঘণ্টা বসে বা দাঁড়িয়ে থাকার উপযোগী হয়ে তৈরি হয়নি। কিন্তু কর্মক্ষেত্রে দ্রুত পরিবর্তনশীল প্রযুক্তির অতিমাত্রায় ব্যবহার, কাজের পরিবেশ, কর্মক্ষেত্রের কর্মকৌশলের জন্য দীর্ঘক্ষণ সঠিক দেহভঙ্গি না মেনে নিষ্ক্রিয় বা স্থিতিশীল অবস্থায় রাখার কারণে শরীরে বিভিন্ন রোগ বা সমস্যা দেখা দেয়। যার ফলে কর্মীরা বিভিন্ন রকম ব্যথা, অস্বস্তি, অনুভূতিজনিত সমস্যা, শারীরিক দুর্বলতা ও ক্লান্তি, অসাড়তা, মাথাব্যথায় আক্রান্ত হচ্ছেন এবং অনেক ক্ষেত্রে কর্মীরা চাকরি ছাড়তে বাধ্য হন। যার প্রভাব কর্মীর নিজের ও পরিবারের জীবনে দুঃসময় নেমে আসে এবং সামষ্টিকভাবে সমাজ ও দেশে বিপুল অর্থনৈতিক ক্ষতি ও নেতিবাচক অবস্থার তৈরি হতে পারে।

উল্লেখ্য, ইউরোপজুড়ে ২৫ থেকে ২৭ শতাংশ কর্মী এই ধরনের ব্যথা বা সমস্যার অভিযোগ করেন এবং এগুলো ইউরোপের সব সদস্যরাষ্ট্রগুলোতে কাজ থেকে অনুপস্থিতির সবচেয়ে বড় কারণ হিসেবে চিহ্নিত।

অথচ নির্দিষ্ট কিছু ব্যায়াম, স্ট্রেচিং, সঠিক দেহভঙ্গি মেনে চললে আপনি সহজেই এই সমস্যাগুলো থেকে মুক্ত থাকতে পারেন। এর জন্য নিচের পরামর্শগুলো মেনে চলতে পারেন।

শরীরের গড়নের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বসার চেয়ার, টেবিল ও কম্পিউটারের মনিটরের যথাযথ উচ্চতা ও দূরত্ব ঠিক করতে হয়। এ ক্ষেত্রে কম্পিউটারের মনিটর প্রায় ১ হাত দূরত্বে আপনার চোখের দৃষ্টিসীমার কিছুটা ওপরে রাখতে হবে, কোমর চেয়ারে চেপে রেখে চেয়ারজুড়ে বসুন, যাতে দেহের ওজন কোমরে সমভাবে বণ্টিত হয় এবং মেরুদণ্ড ও মাথা সোজা রাখুন।

পায়ের পাতা সমান করে রাখুন, পা মেঝেতে বাঁকা করে রাখবেন না এবং দীর্ঘক্ষণ একই দেহভঙ্গি ও সামনে ঝুঁকে বসা পরিহার করুন। টাইপিংয়ে শুধু কবজির পরিবর্তে পুরো হাত ব্যবহার করুন এবং কবজি ও হাতের সাপোর্ট নিশ্চিত করুন।

একেকজন মানুষের জন্য একেকভাবে উপযুক্ত টেবিল, চেয়ার, ডেস্ক ইত্যাদির মাপকাঠি ঠিক করতে হয়। এ জন্য প্রয়োজনে প্রশিক্ষিত ব্যক্তির সাহায্য নেওয়া যায়। কারও কারও জন্য বিশেষ ধরনের ইকুইপমেন্ট, যেমন: বিশেষ কি–বোর্ড, কি–বোর্ড ট্রে, ডকুমেন্ট হোল্ডার, বিশেষ অফিস চেয়ার, পাদানির ব্যবস্থা করা লাগতে পারে।

কম্পিউটারের মনিটর ও মাথার লেভেল সমান্তরাল থাকবে। পর্দার উপরিভাগ থাকবে চোখের সমান্তরালে, যাতে ঘাড় উঁচু করে না দেখতে হয়। কম্পিউটারের খুব কাছে বসে থেকে কাজ করলে চোখের ক্ষতি হতে পারে। কাজেই মনিটর থেকে কমপক্ষে ৫০ সেন্টিমিটার দূরত্বে বসে কাজ করুন। সবচেয়ে বেশি ভালো হয় যদি আপনি ৭৫ সেন্টিমিটার দূরত্বে কাজ করেন। তবে হাই রেজল্যুশন কম্পিউটারের ক্ষেত্রে এই দূরত্ব ১০০ সেন্টিমিটার হতে পারে।

ব্যবহারকারীদের কম্পিউটারের সামনে বসা, স্ক্রিনের দিকে তাকানো, অভ্যাস ইত্যাদি সবকিছুই ব্যক্তিবিশেষ আলাদা হয়। তাই আলাদাভাবে পরীক্ষা করে দেখতে হবে কে, কীভাবে পর্দার সামনে বসে কাজ করতে আরাম বোধ করেন। এর সঙ্গে হাত নাড়াচাড়া করার ভালো সুবিধা, যথেষ্ট জায়গা থাকে কি না সেদিকেও লক্ষ রাখুন। তা ছাড়া এ ক্ষেত্রে টেবিল এ চেয়ারের উচ্চতাও লক্ষ রাখা জরুরি।

কম্পিউটারের মনিটর চোখ থেকে অন্তত ২০ থেকে ২৬ ইঞ্চি দূরে থাকবে। মনিটরের একেবারে ওপরের বিন্দুও যেন চোখের সমান্তরালে থাকে, জোর করে উঁচু হয়ে যেন দেখতে না হয়। কম্পিউটার টেবিলের নিচে পা দুটি যথেষ্ট আরাম করে জায়গা পাবে, গাদাগাদি করে থাকবে না। টেবিলের উচ্চতা হবে কনুইয়ের সমান্তরাল। কি-বোর্ড ও মাউসের জায়গাটি আপনার ঊরুর ১ থেকে ২ ইঞ্চি ওপরে থাকবে। কবজি সোজা ও বাহু মেঝের ঠিক ৯০ ডিগ্রি কোণে থাকবে। মনিটর এমন জায়গায় স্থাপন করুন, যেখানে অতিরিক্ত আলোর জন্য চোখে চাপ পড়বে না। যেমন জানালা থেকে একটু দূরে।


ইনসাফ সাংবাদিকতা কোর্স

ইনসাফ সাংবাদিকতা কোর্সদেশের প্রথম ইসলামী ঘরানার অনলাইন পত্রিকা ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকমের আয়োজনে শুরু হতে যাচ্ছে স্বল্পমেয়াদী সাংবাদিকতা কোর্স।অংশগ্রহণ করতে যোগাযোগ করুন এই নাম্বারে-০১৭১৯৫৬৪৬১৬এছাড়াও সরাসরি আসতে পারেন ইনসাফ কার্যালয়ে।ঠিকানা – ৬০/এ পুরানা পল্টন ঢাকা ১০০০।

Posted by insaf24.com on Monday, October 29, 2018


কর্মসূচি ঘোষণা করেছে ঐক্যফ্রন্ট
Date: জানুয়ারি ০৮, ২০১৯
ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম | নিজস্ব প্রতিনিধি


জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের মুখপাত্র বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, নির্বাচন কমিশন (ইসি) জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করেছে। যেই নির্বাচনে ভোট ডাকাতি হয়েছে, কেন্দ্র দখল হয়েছে, আগেই ব্যালট পেপারে সিল মারা হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার বিকাল রাজধানীর বেইলি রোডে ড. কামাল হোসেনের বাসবভনে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের বৈঠক শেষে সাংবাদিক ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, সেনাবাহিনীকে নিস্ক্রিয় করে একাদশ নির্বাচনকে প্রহসনে পরিণত করেছে সরকার।এই নির্বাচন গোটা জাতি প্রত্যাখ্যান করেছে। আমরা পুননির্বাচন দাবি করছি।

এসময় মির্জা ফখরুল ঐক্যফ্রন্টের পক্ষ থেকে কর্মসূচি ঘোষণা করেন। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে জাতীয় সংলাপ, নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে মামলা ও জনমত তৈরিতে ঐক্যফ্রন্ট নেতাদের বিভিন্ন জেলা সফর।

এর আগে বিকাল ৪টায় ড. কামাল হোসেনের বেইলি রোড়ের বাসবভনে এ বৈঠক শুরু হয়। দেড় ঘন্টারও বেশি সময় ধরে চলা বৈঠকে নির্বাচন পরবর্তী কর্মসূচি ও ভোটের ফল নিয়ে মামলা ও ভোট কারচুপির অভিযোগ কূটনীতিকদের অবহিত করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ড. কামাল হোসেন, মুখপাত্র ও বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর আবদুল কাদের সিদ্দিকী বীরউত্তম, গণফোরামের কার্যকরী সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জগলুল হায়দার আফ্রিক, নাগরিক ঐক্যের সমন্বয়ক শহীদুল্লাহ কায়সার।